Main Menu

কোম্পানীগঞ্জে ছিদ্দিক হত্যায় ২ ভাইকে যাবজ্জীবন

Manual3 Ad Code

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে ছিদ্দিক আলী হত্যা মামলায় ২ ভাইয়ের যাবজ্জীবন কারাদন্ড ও অপর একজনকে বেকসুর খালাস প্রদান করেছেন আদালত। রায়ের পাশাপাশি দন্ডপ্রাপ্ত আসামীদেরকে ৩০ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরো ৬ মাস করে সশ্রম কারাদন্ড দেয়া হয়।
রোববার (১৫ মে) সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ তৃতীয় আদালতের বিচারক মোহাম্মদ ওয়ালিউল ইসলাম এ রায় প্রদান করেন।
দন্ডপ্রাপ্ত আসামীরা হচ্ছে-সিলেট কোতোয়ালী থানার পালপুর এলাকার আলীনগর গ্রামের মৃত মখলিছ আলীর পুত্র নূরুল আমিন (৪৫) ও একই এলাকার বাসিন্দা তার চাচাত ভাই ইসলাম উদ্দিন (৩৫)। অপর খালাসপ্রাপ্ত হচ্ছেন, কোম্পানীগঞ্জ থানার পুটামারা গ্রামের আছলম আলীর পুত্র মানিক মিয়া (৩৫)। রায় ঘোষণাকালে আসামীরা আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা গেছে, আসামী নূরুল আমিন নিহত ছিদ্দিক আলীর (৪০) আপন ফুফুত ভাই। ছিদ্দিক আলীর ভাই আবুল হোসেনের কোম্পানীগঞ্জ এলাকায় ৩১ সদস্যবিশিষ্ট আন রেজিস্টার্ড একটি সমিতি রয়েছে। ঘটনার এক বছর পূর্বে ওই সমিতি থেকে নূরুল আমিন ২৫ হাজার টাকা ঋণ নিতে চাইলে সমিতির সদস্যরা তাকে ঋণ দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। পরে ছিদ্দিক আলী জিম্মাদার হয়ে ওই সমিতি থেকে ফুফুত ভাই নূরুল আমিনকে ২৫ হাজার টাকা ঋণ দেন। এক বছর চলে যাওয়ার পর নূরুল আমিন সমিতির টাকা ফেরত না দিলে ছিদ্দিক আলীকে সমিতির লোকজন চাপ দেন। এ অবস্থায় ছিদ্দিক আলী টাকা ফেরত দিতে নূরুল আমিনকেও চাপ দেন। কিন্তু, এতে হিতে বিপরীত হয়। নূরুল আমিন দিতে অস্বীকার করেন এবং তাকে বিভিন্ন ধরণের হুমকি ও ভয়-ভীতি প্রদর্শন করতে থাকেন। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে মনোমালিন্যের সৃষ্টি হয়।
পাওনা টাকা ফেরত দেয়ার কথা বলে নূরুল আমিন, তার চাচাত ভাই ইসলাম উদ্দিন ও মানিক মিয়া ২০১০ সালের ৬ মার্চ রাত সাড়ে ৮ টার দিকে কোম্পানীগঞ্জ থানার পুটামারা গ্রামের মৃত কালা মিয়ার পুত্র ছিদ্দিক আলীকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। ওইদিন রাতে দা দিয়ে ছিদ্দিক আলীকে উপর্যুপরি কুপিয়ে হত্যা করে কোম্পানীগঞ্জ এলাকার সুরমা নদীর বাঘাই ডহরে তার মরদেহ ফেলে দেয়। ওই বছরের ৯ মার্চ বেলা সাড়ে ৩ টার দিকে সেখানে ছিদ্দিক আলীর লাশ এলাকার লোকজন দেখতে পেয়ে তার পরিবারকে খবর দেন। পরে পরিবারের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে তার লাশ সনাক্ত করেন। খবর পেয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ছিদ্দিক আলীর লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে।
এ ঘটনায় নিহত ছিদ্দিক আলীর ভাই আবুল হোসেন বাদী হয়ে নূরুল আমিন, তার চাচাত ভাই ইসলাম উদ্দিন ও মানিক মিয়াকে আসামী করে কোম্পানীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। নং.৭ (১০.৩. ১০)। দীর্ঘ তদন্ত শেষে কোম্পানীগঞ্জ থানার এসআই সঞ্জিত দাস ওই বছরের ১ অক্টোবর ৩ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে এ মামলার চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন। ২০১১ সালের ১৫ মে থেকে এ মামলার বিচারকায্য শুরু হয়। দীর্ঘ শুনানী ও ১১ সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে গতকাল রোববার আদালত আসামী নূরুল আমিন ও ইসলাম উদ্দিনকে দন্ডবিধির ৩০২, ৩৬৪ ও ৩৪ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে তাদের প্রত্যেককে উল্লেখিত দন্ডাদেশ এবং অপর আসামী মানিক মিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে বেকসুর খালাস প্রদান করেন।
রাষ্ট্রপক্ষে এপিপি এডভোকেট মোস্তাফা দিলওয়ার আল আজহার ও আসামীপক্ষে এডভোকেট মোঃ ওবায়দুর রহমান ও এডভোকেট রতন মনি চন্দ মামলাটি পরিচালনা করেন।

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code