Main Menu

হবিগঞ্জে খোয়াই নদীর বাঁধে ফের ভাঙন, ১০ গ্রাম প্লাবিত

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের কালীগঞ্জ এলাকায় খোয়াই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধে ফের ভাঙন দেখা দিয়েছে। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও ভারতের চাকমাঘাট ব্যারাজ খুলে দেওয়ার ফলে রোববার (২৩ আগস্ট) ভোরে হঠাৎ নদীর পানি বৃদ্ধি পায়। এতে দেড় মাসের ব্যবধানে একই স্থানে পুনরায় বাঁধ ভেঙে প্রবল স্রোতে পানি লোকালয়ে ঢুকছে। বিকেলের মধ্যে কালীগঞ্জসহ অন্তত ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে, যার ফলে তলিয়ে গেছে শত শত একর জমির ধান ও শাকসবজি।

এছাড়া হবিগঞ্জ-মিরপুর সড়কের বিভিন্ন অংশ পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত ৯ জুলাই একই স্থানে ভাঙন দেখা দেওয়ার পর পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংস্কার কাজে চরম গাফিলতি ও দীর্ঘসূত্রতা ছিল। দায়সারাভাবে কাজ করায় বাঁধটি আগে থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল।

সুঘর এলাকার বাসিন্দা আফজাল হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘বাঁধ মেরামতের কাজে ধীরগতি ও অনিয়ম ছিল। আগেরবারের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে কৃষকরা যখন আমন চাষ করেছিল, তখনই ফের সব তলিয়ে গেল। এই ক্ষতি কাটিয়ে কৃষকরা আর ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না।’

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, রোববার দুপুরে খোয়াই নদীর পানি বাল্লা পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৪০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। তীব্র চাপে বাঁধের দুর্বল অংশটি টিকতে পারেনি। বর্তমানে হবিগঞ্জ-মিরপুর সড়কে কোমর সমান পানি মাড়িয়ে সাধারণ মানুষকে চলাচল করতে হচ্ছে, সৃষ্টি হয়েছে দীর্ঘ যানজটের। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সাইদুর রহমান জানান, ভারতের ত্রিপুরায় ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে চাকমাঘাট ব্যারাজ খুলে দেওয়ায় নদীতে পানি হঠাৎ বৃদ্ধি পায়। তবে বিকেল থেকে পানি কমতে শুরু করেছে। তিনি আরও জানান, বৈরী আবহাওয়ার কারণে আগের ভাঙন অংশের কাজ শেষ করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছিল। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দ্রুত পুনরায় সংস্কার কাজ শুরু করা হবে। বর্তমানে দুর্গত এলাকার মানুষ ঘরবাড়ি ও গবাদিপশু নিয়ে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।

Share





Related News

Comments are Closed