দিরাইয়ে দুই সন্তানকে হত্যার রহস্য উদঘাটন, পিতা আটক
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে দুই শিশু সন্তানকে পানিতে ফেলে হত্যার অভিযোগে বাবা কামরুল হাসানকে (৩২) আটক করেছে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি সন্তান দুজনকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে পারিবারিক অশান্তি ও সন্তানদের মধ্যে মারামারি নিয়ে ক্ষোভের কথা জানান অভিযুক্ত কামরুল।
নিহত দুই শিশু হলো মুহাদ্দিস মিয়া (৬) ও তুলনা আক্তার (৩)। কামরুল হাসান চরনারচর ইউনিয়নের পেরুয়া মধুপুর গ্রামের আব্দুল কাদিরের ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার (৭ আগস্ট) কামরুল তার দুই সন্তানকে নিয়ে রাত থেকে নিখোঁজ ছিলেন। শনিবার ও রোববারও তিনি বাড়িতে ফেরেননি। এ অবস্থায় স্বজনেরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন।
বুধবার (১২ আগস্ট) কামরুল বাড়িতে ফিরলেও তার সঙ্গে দুই সন্তান নেই এমন খবরে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান। পরে কামরুলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি সন্তান দুজনকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। এরপর তাকে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ।
জিজ্ঞাসাবাদে কামরুল পুলিশকে জানান, তার মোট চার সন্তান। তাদের মধ্যে বড় সন্তানের বয়স সাত বছর এবং ছোট সন্তানের বয়স দুই বছর। সন্তানদের মধ্যে প্রায়ই মারামারি ও ঝগড়া হতো। বিশেষ করে নিহত মুহাদ্দিস ও তুলনা একে অপরের সঙ্গে বেশি মারামারি করত জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন কামরুল।
কামরুল বলেন, দুই শিশু মারামারি করলে তাদের মা তাদের মারধর করতেন। এ সময় কামরুলের মা বাধা দিতে গেলে স্ত্রী শাশুড়িকে গালাগালি করতেন। একদিন তার মা এ বিষয়টি তাকে জানান। এ ঘটনায় মানসিকভাবে তিনি ক্ষুব্ধ ছিলেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে জানান তিনি।
এর আগে, নিখোঁজের কয়েকদিনের মাথায় পরপর দুই দিন দুটি হাওর এলাকায় ভেসে ওঠে অজ্ঞাতপরিচয় দুই শিশুর মরদেহ। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) শান্তিগঞ্জ উপজেলার নোয়াগাঁও এলাকায় একটি মরদেহ এবং বুধবার সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার গোবিন্দপুর এলাকায় আরেকটি মরদেহ দেখা যায়। মরদেহ দুটি নিখোঁজ কামরুলের দুই সন্তানের বলে ধারণা করছে পুলিশ।
পুলিশ ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার বিকেলে কামরুল দুই সন্তানকে নিয়ে সিলেটের উদ্দেশে রওনা হন। সেখানে দুই দিন অবস্থানের পর রোববার বাসে করে ধীরের দিকে যান। সন্ধ্যার পর ডাবর এলাকায় নেমে তিনি তার মেয়ে তুলনা আক্তারকে হত্যা করে পানিতে ফেলে দেন বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন অভিযুক্ত বাবা কামরুল।
এরপর বড় ছেলে মুহাদ্দিসকে ধীরের রাস্তার দিকে নিয়ে যান। সেখানে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করে পানিতে ফেলে দেন বলে পুলিশকে জানিয়েছেন কামরুল।
দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কামরুল দুই সন্তানকে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন।’
ওসি বলেন, ‘এ ঘটনায় শান্তিগঞ্জ কিংবা সুনামগঞ্জ সদর থানায় মামলা দায়ের করা হবে। পরে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Related News
দিরাইয়ে দুই সন্তানকে হত্যার রহস্য উদঘাটন, পিতা আটক
Manual7 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে দুই শিশু সন্তানকে পানিতে ফেলে হত্যার অভিযোগেRead More
জগন্নাথপুরে বিদ্যালয়ের সংস্কার কাজে অনিয়মের অভিযোগ
Manual7 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার শতবর্ষী স্বরূপচন্দ্র সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ১৯Read More



Comments are Closed