সিলেটে পর্নোগ্রাফি মামলায় যুক্তরাজ্য প্রবাসী ইমাম গ্রেপ্তার, তদন্তে তোলপাড়
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেট নগরী থেকে পর্নোগ্রাফি মামলায় যুক্তরাজ্যের একটি মসজিদের ইমাম হাফিজ শাকির আহমদকে গ্রেপ্তার নিয়ে তোলপাড় চলছে। এই নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে মত দিচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দা, স্বজন ও ভুক্তভোগীর পক্ষ।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ইমামের স্বজনরা মামলাটি ষড়যন্ত্রমূলক বলে জানিয়েছেন। অপরদিকে ভুক্তভোগীর স্বজনরা দাবি করেছেন, তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতেই তারা মামলা করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, তথ্যপ্রমাণ সঠিক, না বানানো– জানতে বিশেষজ্ঞ মতামত চাওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও এজাহার থেকে জানা গেছে, দীর্ঘ এক যুগ ধরে যুক্তরাজ্যের ড্যাগেনহাম মসজিদের ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন হাফিজ শাকির আহমদ। তিনি সিলেট নগরীর যতরপুর এলাকার বাসিন্দা। তাঁর বাবাও স্থানীয় একটি মসজিদে ৫০ বছর ধরে ইমামতি করে আসছেন।
সম্প্রতি শাকিরের বিরুদ্ধে নগরীর ধোপাদিঘির পাড়ের বাসিন্দা এক নারী পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা করেন। ওই মামলায় গত ১০ এপ্রিল কোতোয়ালি থানা পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। মামলায় অভিযোগ করা হয়, শাকির বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ভিকটিমের ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও ধারণ করেছেন। পরে সেগুলো ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছেন।
শাকির আহমদের ভাই, যুক্তরাজ্যপ্রবাসী জাকির আহমদ জানান, তারা দীর্ঘ ২২ বছর যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন। ভাই শাকির ব্রিটেনের একটি মসজিদে ইমামতি করে আসছেন। মামলাকারী নারী তাদের পূর্বপরিচিত এবং অতীতে তাদের কাছ থেকে সহায়তা পেয়েছেন। এখন পরিকল্পিতভাবে তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। ওই নারীর বিয়েও হয়েছে অনেক আগে। এখন ষড়যন্ত্র করে তাঁর ভাইকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।
ইমামের স্ত্রী আমিনা খাতুন দাবি করেন, তাঁর স্বামী এমন কাজ করতে পারেন না। যে ভিডিও দেখানো হয়েছে, সেই ভিডিওতে তাঁর স্বামীর কোনো দৃশ্য নেই। এটা ষড়যন্ত্রমূলক।
যতরপুর এলাকার লোকজন জানান, শাকিরের পরিবারটি ধার্মিক। তারা প্রায়ই দেশে আসেন। সর্বশেষ গত ২১ মার্চ স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে দেশে আসেন শাকির। আসার পর মামলায় শাকির গ্রেপ্তার হলে তারা বিষয়টি জানতে পারেন।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ মাইনুল জাকির জানান, মামলার প্রেক্ষিতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। ভিডিওতে ইমাম সাহেবকে দেখা যায়নি। তারপরও প্রাপ্ত প্রমাণ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ মতামত ছাড়া সঠিক, না ভুল– বলা যাবে না। ডকুমেন্টগুলো এক্সপার্টের কাছে পাঠানো হয়েছে। আমরা মতামতের অপেক্ষায় আছি।
এদিকে যুক্তরাজ্যের ড্যাগেনহাম মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ছানাউর আলী শাকির আহমদের মুক্তি দাবি করে বিষয়টি সঠিক তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
ঘটনাটি এখন তদন্তাধীন। একদিকে অভিযোগকারীর দাবি—তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে মামলা, অন্যদিকে অভিযুক্তের পরিবার বলছে এটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। বিশেষজ্ঞ মতামতের পরই মামলার প্রকৃত অবস্থা পরিষ্কার হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ এপ্রিল বিকেলে এসআই এসএম মাইনুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি দল নগরীর সোবহানীঘাট এলাকা থেকে শাকির আহমদ (৩৬)কে গ্রেফতার করে। তার বিরুদ্ধে পর্ণোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ৮(১)/৮(২)/৮(৩) ধারায় মামলা (নং-১৮) করা হয়েছে। মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, শাকিল বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ভিকটিমের ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন এবং পরবর্তীতে সেগুলো ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন।
Related News
শিক্ষা-স্বাস্হ্য-কৃষিসহ সামাজিক সুরক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়াও : বাসদ
Manual8 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: ধনী তোষণের বাজেট নয় জনকল্যাণমুখী বাজেট, শিক্ষা-স্বাস্থ্য-কৃষিসহ সামাজিক সুরক্ষাRead More
মরহুম ব্রিগেডিয়ার (অব.) আব্দুল মালিক স্মরণে স্মৃতি ফলক উন্মোচন
Manual1 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশে হৃদরোগ চিকিৎসার পথিকৃৎ তত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্ঠা, ন্যাশনালRead More



Comments are Closed