সিলেটে শিশু ফাহিমা হত্যাকারী জাকিরকে আদালতে গণপিটুনি
বিশেষ সংবাদদাতা: চার বছরের শিশু ফাহিমা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার প্রধান আসামি জাকিরকে আদালতে গণপিটুনি দিয়েছে জনতা।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) কোর্ট লকাফ থেকে সিলেট আদালতের চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ভবনের তৃতীয় তলায় অবস্থিত সিলেটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে আসামিকে হাজির করার সময় এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন আদালত সূত্র।
আদালত সূত্র জানায়, গত ১১ মে রাতে ফাহিমাকে হত্যার অভিযোগে তার প্রতিবেশী চাচা জাকির হোসেনকে (৩০) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেফতারের পর থেকে সে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক রয়েছে। মঙ্গলবার শিশু ফাহিমা হত্যা মামলার আদালতের পূর্ব নির্ধারিত ধার্য তারিখ ছিল। ওইদিন সকালে কারাগার থেকে জাকিরকে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের আদালত লকাফে আনা হয়। পরে লকাফ থেকে আদালতে নেওয়ার সময় উপস্থিত জনতা পুলিশের সামনে জাকিরকে গণপিটুনি দেয়।
এদিকে, শিশু ফাহিমা ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনার মাত্র এক মাস পাঁচ দিনের মাথায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। অভিযোগপত্রে প্রধান আসামি জাকির হোসেন ও তার দুই সহোদর জয়নাল আহমদ ও আবুল কালামকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে জাকির হোসেনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। লাশ গুমে সহযোগিতার জন্য তার দুই ভাই জয়নাল ও কালামকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
নিহত ফাহিমা আক্তার (৪) সিলেট সদর উপজেলার কান্দির গাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের দিনমজুর রাইসুল হকের মেয়ে।
হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার মো. জাকির হোসেন (৩০) একই গ্রামের পশ্চিম পাড়া ধন রায়ের চক এলাকার বাসিন্দা মৃত তোতা মিয়ার ছেলে। জাকির ভিকটিমের সম্পর্কে চাচা।
গত ৮ মে (শুক্রবার) বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে ফাহিমার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার দুদিন আগে (৬ মে) সে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়েছিলো।
এরপর সোমবার (১১ মে) রাতে ফাহিমাকে যৌন নির্যাতন ও হত্যাকারী তার প্রতিবেশী চাচা জাকির হোসেনকে (৩০) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর পুলিশের কাছে এবং আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দেয় সে। বর্ণনা করে ঘটনার লোমহর্ষকতা।
সে জানায়- শিশু ফাহিমাকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে যৌন নির্যাতনের পর হত্যা করেছে। এ সময় জাকিরের বাড়িতে কেউ ছিলেন না। নির্যাতন সইতে না পেরে ফাহিমা অজ্ঞান হয়ে যায়। অপরাধ ফাঁস হয়ে যাওয়ার ভয়ে ফাহিমাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে জাকির। এরপর স্ত্রীর ওড়না দিয়ে পেঁচিয়ে কচি নিথর দেহটি ব্যাগে রাখে সে। পরে ওড়নাসহ ফাহিমার মরদেহ বাড়ির পাশের একটি পুকুরপাড়ের ডোবায় ফেলে দেয় জাকির।
৫ ভাই-বোনের মধ্যে ফাহিমা ছিল চতুর্থ। তার বড় বোন ফাইজা বেগমের বয়স ১৪ বছর, ফারজানার বয়স ১০ বছর, ভাই রিহাদের বয়স ৯ বছর ও রিফাতের ১৩ মাস। আদরের মেয়েকে হারিয়ে তাদের বাবা রাইসুল হক ও মা রুবিনা বেগম হয়ে গেছেন স্তব্ধ। শোকে পাথর।
বড় বোন ফাইজা বেগম জানান- আমার বোনটা অনেক আদরের ছিল। ওরে আমি গোসল করিয়েছি। নিজের হাতে খাবার খাইয়ে দিয়েছি। আমার সঙ্গে খেলা করেছে, আমার সঙ্গে এক বিছানায় ঘুমিয়েছে। আমার এত মায়ার বোনটাকে কিভাবে মারলো এই পাষণ্ড। আমার বোনটাকে যেভাবে হত্যা করেছে এভাবে তারও মৃত্যু চাই। তার ফাঁসি চাই।
আদরের মেয়ে ফাহিমাকে হারিয়ে আহাজারি করতে করতে এখন অনেকটা বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন রুবিনা বেগম। তার শুধু একটাই কথা- ঘাতক জাকিরের ফাঁসি চাই।
Related News
সিলেটে স্থাপিত হচ্ছে দেশের প্রথম বায়োড্রায়িং প্ল্যান্ট: বর্জ্য হবে জ্বালানি
Manual2 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেট সিটি কর্পোরেশনে (সিসিক) আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবেRead More
সিলেটে ৫টি চোরাইকৃত সিএনজি অটোরিকশা উদ্ধার, আটক ২
Manual7 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অভিযানে ৫টি চোরাইকৃত সিএনজিRead More



Comments are Closed