Main Menu

বাসযোগ্য অঞ্চলে পৃথিবীসদৃশ ৪৫ গ্রহ শনাক্ত

Manual5 Ad Code

প্রযুক্তি ডেস্ক: মহাকাশে প্রাণের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়ার প্রচেষ্টায় বড় ধরনের অগ্রগতি অর্জন করেছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় তারা ৪৫টি সম্ভাবনাময় পৃথিবীসদৃশ গ্রহ শনাক্ত করেছেন, যেগুলোতে জীবন ধারণের অনুকূল পরিবেশ থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

হালনাগাদ নাক্ষত্রিক তথ্য ও গ্রহ-সংক্রান্ত ডেটা বিশ্লেষণের ভিত্তিতে এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এতে এমন সব শিলাময় বহির্গ্রহ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যেগুলো তাদের নক্ষত্রের ‘বাসযোগ্য অঞ্চল’-এ অবস্থান করছে। অর্থাৎ যেখানে তরল পানি থাকার মতো তাপমাত্রা বিদ্যমান থাকতে পারে। বর্তমানে আবিষ্কৃত ৬ হাজারের বেশি বহির্গ্রহের মধ্যে এই ৪৫টিকে সবচেয়ে সম্ভাবনাময় হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে আরও ২৪টি গ্রহ কঠোর মানদণ্ডে বিশেষভাবে বাসযোগ্যতার উপযোগী বলে বিবেচিত হয়েছে।

বাসযোগ্য অঞ্চল কী?

Manual4 Ad Code

বাসযোগ্য অঞ্চল বলতে নক্ষত্রকে ঘিরে এমন একটি নির্দিষ্ট কক্ষপথ বোঝায়, যেখানে তাপমাত্রা না অতিরিক্ত বেশি, না অতিরিক্ত কম— ফলে সেখানে তরল পানি টিকে থাকতে পারে। জীবনধারণের জন্য পানি অপরিহার্য হওয়ায় এই অঞ্চল জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের গবেষণার কেন্দ্রবিন্দু।

গবেষণায় গাইয়া মিশন এবং নাসা এক্সোপ্ল্যানেট আর্কাইভের তথ্য ব্যবহার করে গ্রহগুলোর অবস্থান ও তাদের নক্ষত্র থেকে প্রাপ্ত শক্তির পরিমাণ পুনর্মূল্যায়ন করা হয়েছে।

আলোচিত গ্রহগুলোর তালিকা;

চিহ্নিত গ্রহগুলোর মধ্যে কয়েকটি সুপরিচিত নাম রয়েছে, যেমন—

> প্রক্সিমা সেন্টরি বি
> ট্রাপিস্ট-১ এফ
> কেপলার-১৮৬ এফ
> টিওআই-৭১৫ বি

বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে ট্রাপিস্ট-১ নক্ষত্রমণ্ডলের কয়েকটি গ্রহ— ডি, ই, এফ ও জি। যেগুলো পৃথিবী থেকে প্রায় ৪০ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত। এছাড়া এলএইচএস ১১৪০ বি-কেও সম্ভাবনাময় হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

পৃথিবীর মতো শক্তি ভারসাম্য

গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু গ্রহ তাদের নক্ষত্র থেকে প্রায় পৃথিবীর সমপরিমাণ শক্তি পায়। এর মধ্যে রয়েছে—

> ট্রাপিস্ট-১ ই
> কেপলার-৪৪২ বি
> কেপলার-১৬৫২ বি

এ ধরনের গ্রহগুলোতে পৃথিবীর মতো জলবায়ু গঠনের সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত গবেষণার সুযোগ রয়েছে।

সীমাবদ্ধতা ও বাস্তবতা;

তবে গবেষকরা সতর্ক করেছেন, কেবল বাসযোগ্য অঞ্চলে অবস্থান করলেই কোনো গ্রহে প্রাণ থাকবে এমন নিশ্চয়তা নেই। একটি গ্রহে বায়ুমণ্ডল থাকা, তা ধরে রাখার ক্ষমতা এবং তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের সামর্থ্য জীবনধারণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ভবিষ্যৎ পর্যবেক্ষণ ও সম্ভাবনা

এই গবেষণা এমন এক সময়ে প্রকাশিত হয়েছে, যখন আধুনিক প্রযুক্তির টেলিস্কোপ মহাকাশ গবেষণায় নতুন দিগন্ত খুলছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য—

> জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ
> ন্যন্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ
> এক্সট্রিমলি লার্জ টেলিস্কোপ

ভবিষ্যতে এসব যন্ত্রের সাহায্যে গ্রহগুলোর বায়ুমণ্ডল বিশ্লেষণ করে প্রাণের রাসায়নিক চিহ্ন বা ‘বায়োসিগনেচার’ খোঁজা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

>>> নতুন এই তালিকা জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের অনুসন্ধানকে আরও লক্ষ্যভিত্তিক ও কার্যকর করে তুলবে। বিশেষ করে ট্রাপিস্ট-১ ই ও টিওআই-৭১৫ বি ভবিষ্যৎ গবেষণার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

Manual5 Ad Code

এভাবে ধাপে ধাপে এগিয়ে গিয়ে বিজ্ঞানীরা উত্তর খুঁজছেন সেই চিরন্তন প্রশ্নের— এই মহাবিশ্বে আমরা কি একাই, নাকি কোথাও আরেকটি জীবনের অস্তিত্ব লুকিয়ে আছে?

Manual3 Ad Code

সূত্র: ইনোভেশন নিউজ

Manual7 Ad Code

 

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code