Main Menu

মঙ্গলে জৈব অণুর সন্ধান পেল নাসার কিউরিওসিটি রোভার

Manual2 Ad Code

প্রযুক্তি ডেস্ক: মঙ্গল গ্রহে জীবনের অস্তিত্ব নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে নাসার কিউরিওসিটি রোভারের সাম্প্রতিক আবিষ্কার। গ্রহটিতে এমন কিছু জৈব অণুর সন্ধান পাওয়া গেছে, যেগুলো পৃথিবীতে জীবনের উৎপত্তির মৌলিক উপাদান হিসেবে বিবেচিত হয়।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, মঙ্গলের নিরক্ষরেখার কাছাকাছি একটি প্রাচীন শুকনো হ্রদের তলদেশ থেকে এসব অণু শনাক্ত করা হয়েছে। শনাক্ত হওয়া সাতটি অণুর মধ্যে পাঁচটিই আগে কখনও মঙ্গলে দেখা যায়নি। তবে এগুলো প্রাচীন কোনো জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত, নাকি উল্কাপিণ্ডের মাধ্যমে এসেছে বা ভূ-প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ায় সৃষ্টি হয়েছে— সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবুও এই আবিষ্কার থেকে ধারণা করা হচ্ছে, যদি কখনো মঙ্গলে অণুজীবের অস্তিত্ব থেকে থাকে, তবে তার রাসায়নিক চিহ্ন এখনও টিকে থাকতে পারে।

এই গবেষণার নেতৃত্ব দেন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতিভূতত্ত্ববিদ অধ্যাপক অ্যামি উইলিয়ামস। তিনি বলেন, আমরা মনে করছি মঙ্গলে প্রায় ৩৫০ কোটি বছর ধরে সংরক্ষিত থাকা জৈব পদার্থের সন্ধান পেয়েছি। এটা কি জীবন— তা এই তথ্যের ভিত্তিতে নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।

Manual7 Ad Code

২০১২ সাল থেকে কিউরিওসিটি রোভারটি মঙ্গলের গেইল ক্রেটার ও মাউন্ট শার্প এলাকায় অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে মঙ্গলের পরিবেশ অত্যন্ত প্রতিকূল— রাতে তাপমাত্রা মাইনাস ১০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে যায় এবং ঘন বায়ুমণ্ডল না থাকায় সূর্যের তীব্র বিকিরণে আক্রান্ত হয় গ্রহটি। তবে অতীতে সেখানে তরল পানি প্রবাহিত হতো এবং একটি সুরক্ষামূলক বায়ুমণ্ডলও ছিল।

Manual6 Ad Code

যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের গ্রহবিজ্ঞানী অধ্যাপক অ্যান্ড্রু কোটস বলেন, পৃথিবীতে যখন জীবনের সূচনা হচ্ছিল, তখন মঙ্গলেও জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় সব পরিবেশ ছিল। তাই সেখানে জীবন শুরু হয়নি— এমন কোনো কারণ নেই।

তবে বিজ্ঞানীরা এতদিন নিশ্চিত ছিলেন না, প্রায় ৩৭০ থেকে ৪১০ কোটি বছর আগে সম্ভাব্য বাসযোগ্য সময়ের জীবনের রাসায়নিক চিহ্ন এখনো টিকে আছে কিনা।

অ্যামি উইলিয়ামস বলেন, অনেকদিন ধরে ধারণা ছিল, মঙ্গলের কঠিন বিকিরণ পরিবেশে সব জৈব পদার্থ নষ্ট হয়ে গেছে। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, ভূগর্ভস্থ পরিবেশে জটিল জৈব উপাদান টিকে থাকতে পারে— যা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক।

রোভারটি তার বিশ্লেষণ যন্ত্র ব্যবহার করে কার্বন-সম্পর্কিত বেশ কিছু যৌগ শনাক্ত করেছে। এর মধ্যে রয়েছে বেঞ্জোথিওফিন, যা সাধারণত উল্কাপিণ্ডের মাধ্যমে গ্রহে পৌঁছায়। এছাড়া নাইট্রোজেনসমৃদ্ধ আরেকটি জৈব যৌগের উপস্থিতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, যার গঠন ডিএনএ তৈরির পূর্বসূরি উপাদানের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।

উইলিয়ামস বলেন, আমরা যা পেয়েছি এবং ডিএনএর মধ্যে এখনো অনেক ধাপ রয়েছে। এটি ডিএনএ তৈরির একটি মৌলিক উপাদান হতে পারে, কিন্তু পুরো কাঠামো নয়— এটি শুধু ইটের মতো, বাড়ি নয়। এসব অণু ভূ-প্রাকৃতিক প্রক্রিয়াতেও তৈরি হতে পারে।

Manual6 Ad Code

তিনি আরও বলেন, যে উপাদানগুলো উল্কাপিণ্ডের মাধ্যমে মঙ্গলে এসেছে, একই উপাদান পৃথিবীতেও এসেছে— এবং সেগুলোই সম্ভবত পৃথিবীতে জীবনের ভিত্তি গড়ে তুলেছে।

এই আবিষ্কার ভবিষ্যৎ গবেষণার সম্ভাবনাও বাড়িয়েছে। ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার ‘রোজালিন্ড ফ্র্যাঙ্কলিন’ রোভার ২০২৮ সালে উৎক্ষেপণের কথা রয়েছে। এই রোভারটি প্রায় দুই মিটার গভীরে ড্রিল করে আরও উন্নত পরীক্ষা চালাতে পারবে, যা জৈব অণুর উৎস সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দিতে সহায়তা করবে।

Manual8 Ad Code

গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে ‘নেচার কমিউনিকেশনস’ সাময়িকীতে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

 

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code