Main Menu

এন্টিবায়োটিকের অপব্যবহার: একুশ শতকের মৃত্যুদূত

মো. আকিকুর রেজা: ১৯২৮ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর। গ্রীষ্মের ছুটি কাটিয়ে স্কটল্যান্ডের সেন্ট মেরিস হাসপাতালে নিজ কর্মস্থলের ল্যাবরেটরিতে ফেরেন এক ভদ্রলোক। পেশায় তিনি একজন জীবানুবিদ। পুরো ল্যাবরেটরি তখন ধুলোয় একাকার। ছুটিতে যাওয়ার আগে তিনি স্ট্যাফাইলোকক্কাস অরিয়াস নামক এক ব্যাকটেরিয়া নিয়ে কাজ করছিলেন। টাইফয়েড রোগের জীবানুর কোন সম্ভাব্য প্রতিষেধক পাওয়া যায় কিনা তা পরীক্ষা করাই ছিল তাঁর উদ্দেশ্য। যাই হোক, ধুলো ঝেড়ে-মুছে একটু পরিষ্কার করে কাজ শুরু করতে গিয়েই তিনি তার পেট্রিডিশে (ল্যাবরেটরিতে ব্যাকটেরিয়া জন্মানোর জন্য ব্যবহৃত ছোট গোলাকার স্বচ্ছ পাত্র) রাখা স্ট্যাফাইলোকক্কাস ব্যাকটেরিয়াতে পেনিসিলিয়াম নোটেটাম নামক এক ধরণের ছত্রাকের উপস্থিতি লক্ষ্য করলেন। সহজাত বৈজ্ঞানিক কৌতূহল থেকেই পেট্রিডিশগুলো অনুবীক্ষণ যন্ত্রের নিচে রাখতেই চমকে উঠলেন তিনি। দেখতে পেলেন পেনিসিলিয়াম ছত্রাকটি স্ট্যাফাইলোকক্কাস ব্যাকটেরিয়ার স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে বাধা দিচ্ছে। এ থেকেই উন্মোচিত হলো জীবন রক্ষাকারী এক মহাকাব্যিক ওষুধ আবিষ্কারের দরজা। আলোচ্য জীবানুবিদ ভদ্রলোকের নাম স্যার আলেকজান্ডার ফ্লেমিং।

স্কটল্যান্ডের দরিদ্র এক পরিবারে জন্ম নেয়া ফ্লেমিং প্রথম বিশ্বযুদ্ধে রয়াল আর্মির ডাক্তার হিসেবে যোগদান করেন। যুদ্ধ থেকে ফিরেই যোগ দেন সেন্ট ম্যারি হাসপাতালে। আর এখানেই ভুল করে ফেলে রাখা পেট্রিডিশে খুঁজে পান মানব জাতির ইতিহাস বদলে দেয়া যুগান্তকারী এন্টিবায়োটিক। এ ঘটনাকে বিজ্ঞানের ইতিহাসে বলা হয় Most fortunate mistake বা সবচেয়ে সৌভাগ্যজনক ভুল। এন্টিবায়োটিক আবিষ্কারের পেছনের গল্প বলতে গিয়ে এক চিঠিতে ফ্লেমিং লিখেন ‘১৯২৮ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর ভোরে যখন আমার ঘুম ভাঙল, পৃথিবীর প্রথম এন্টিবায়োটিক আবিষ্কারের কথা আমার চিন্তাতেও ছিল না। কিন্তু সেটিই করে বসলাম।’

এ ঘটনা ছিল এন্টিবায়োটিক আবিষ্কারের দ্বার উন্মোচন। এরপর দীর্ঘ পরীক্ষার পর ফ্লিমিং নিশ্চিত হোন যে পেনিসিলিয়াম ছত্রাকে থাকা পেনিসিলিন নামক রাসায়নিক পদার্থের কারণেই এর সংস্পর্শে ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে পারে না। তিনি নতুন উদ্যমে ছত্রাক থেকে পেনিসিলিন পৃথক করার কাজ শুরু করেন যেন রোগ মোকাবেলায় ব্যপকহারে এটি ব্যবহার করা যায়। তার সাথে যোগ দেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ দুই গবেষক হাওয়ার্ড ফ্লোরি ও আর্নেস্ট কেইনী। তিনজন মিলে আবিষ্কার করেন পেনিসিলিনের রাসায়নিক কাঠামো। এরপর প্রথমে ইঁদুর ও অন্যান্য প্রাণীতে পরীক্ষার করে ১৯৪২ সালে মানবদেহে এর প্রথম সফল প্রয়োগ ঘটান। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধেও ব্যপকভাবে ব্যবহৃত হয় এ এন্টিবায়োটিক। কোথাও কোথাও পেনিসিলিনকে মিত্রবাহিনীর যুদ্ধ জয়ের অদৃশ্য হাতিয়ার হিসেবে উল্লেখ করা হয়। মানবদেহে এন্টিবায়োটিক প্রয়োগের এ সফল প্রয়োগের মাধ্যমে সূত্রপাত হয় এক নতুন যুগের। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৪৫ সালে এ তিন বিজ্ঞানী চিকিৎসাবিদ্যায় নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হোন। ২০০০ সালে এক জরিপে বিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার হিসেবে স্থান করে নেয় পেনিসিলিন।

দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, পেনিসিলিন আবিষ্কারের ৯৭ বছর পর এন্টিবায়োটিকের ভবিষ্যতই হুমকির মুখে। সেই সাথে হুমকির মুখে মানবজাতির ভবিষ্যত। জীবন রক্ষাকারী এ ওষুধের অনিয়ন্ত্রিত ও অপরিনামদর্শী ব্যবহার একে বিষের চেয়েও ভয়ঙ্কর করে তুলেছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এন্টিমাইক্রোবিয়াল বা এন্টিবায়োটিক রেসিস্ট্যান্সি এক মহাআতঙ্কের নাম। একবিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জও বটে। ১৯৪৫ সালে নোবেল পুরস্কার নিতে গিয়ে স্যার আলেকজান্ডার ফ্লেমিং তার ভাষণে পেনিসিলিনের অপব্যবহার ও এন্টিবায়োটিক প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ার ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়েছিলেন। তার ভবিষ্যতবাণী অক্ষরে অক্ষরে সত্য প্রমাণিত হচ্ছে।

এন্টিবায়োটিক রেসিস্টেন্সি কী? বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়ার ধর্ম হচ্ছে তারা প্রয়োজন অনুযায়ী নিজেদের মিউটেশন ও বিবর্তন ঘটাতে সক্ষম। ডিএনএ তে পরিবর্তনের মাধ্যমে নতুন বৈশিষ্ট্য তৈরি করে এবং অভিযোজন ঘটায়। কারোর দেহে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমন হলে সে যদি যথাযথ ডোজ না মেনে এন্টিবায়োটিক সেবন করে তবে ব্যাকটেরিয়াগুলো পুরোপুরি ধ্বংস না হয়ে মিউটেশন ঘটিয়ে সেই ব্যাকটেরিয়ার বিপক্ষে প্রতিরোধক্ষমতা গড়ে তোলে। আবার অতিরিক্ত এন্টিবায়োটিক প্রয়োগ করলে দেহে এন্টিবায়োটিক রেসিডিউ বা অবশিষ্ট থেকে যাওয়ার কারণেও ব্যাক্টেরিয়া প্রতিরোধক্ষমতা গড়ে তোলে। এ ধরণের প্রতিরোধক্ষমতা গড়ে তোলাকেই এন্টিবায়োটিক রেসিস্ট্যান্সি বলা হয়।
এন্টিবায়োটিক রেসিস্ট্যান্সি এত প্রকট আকার ধারণ করেছে যে, প্রথম জেনারেশনের পেনিসিলিন বহু আগেই কার্যকারিতা হারিয়েছে। এমনকি সর্বশেষ জেনারেশনের উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন এন্টিবায়োটিকগুলোও অধিকাংশ ব্যাকটেরিয়ার বিপক্ষে অকার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। আমাদের দেশে বিশেষজ্ঞরা অনেক সময় উপহাস করে বলেন, এদেশে ঘরে ঘরে ডাক্তার। এদেশের মানুষের প্রবণতা হচ্ছে সাধারণ জ্বর সর্দি থেকে শুরু করে জটিল রোগেও সবার আগে ডাক্তারের শরণাপন্ন না হয়ে ছুটে যায় গলির মুখের ফার্মেসিতে। চিকিৎসাবিদ্যায় ন্যুনতম জ্ঞান না থাকা ফার্মেসির দোকানদাররাও হাতে ধরিয়ে দেয় একগাদা এন্টিবায়োটিক। শুধু তাই নয়, অনেকসময় অভিজ্ঞ ডাক্তারদের প্রেসক্রাইবড ওষুধ পাল্টে দিয়ে রোগিদের কাছে ইচ্ছামত ওষুধ বিক্রি করা হচ্ছে। অনেক রোগি আবার ডাক্তারের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী এন্টিবায়োটিকের পুরো কোর্স সম্পন্ন করেন না। আবার অনেকসময় কোন একটি উপসর্গ নিয়ে ডাক্তারের কাছে যাওয়ার পর ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী রোগ সেরে গেলে পরবর্তীতে আবার একই উপসর্গ দেখা দিলে ডাক্তারের কাছে না গিয়ে পূর্বের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী ওষুধ সেবন করা হয়। অথচ ভিন্ন ভিন্ন রোগের একই উপসর্গ থাকাটা খুবই স্বাভাবিক। এদেশের মানুষের এ প্রবণতাগুলো মহামারীর চেয়েও ভয়ঙ্কর। এরই ফলশ্রুতিতে এখন সর্বশেষ জেনারেশনের এন্টিবায়োটিকগুলোও অকার্যকর হয়ে যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে আইসিইউ তে থাকা ৮০ শতাংশ রোগির মৃত্যুর কারণ এন্টিবায়োটিক রেসিস্ট্যান্সি। এছাড়া বিশ্বে প্রতি বছর কয়েক লক্ষ মানুষ মারা যায় এ রেসিস্ট্যান্সির কারণে। ধারণা করা হয়, ২০৫০ সাল নাগাদ এ সংখ্যা এক কোটিতে পৌঁছে যাবে। অনেকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রযাত্রার উপর ভরসা করতে চান। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে একটি নতুন এন্টিবায়োটিক তৈরি কোন ‘মামার বাড়ির আবদার’ নয়। নতুন এন্টিবায়োটিক তৈরিতে যে সময় লাগে তারচেয়ে বহুগুন বেশি হারে বাড়ছে রেসিস্ট্যান্সি।

এন্টিবায়োটিক রেসিস্ট্যান্সির আরেকটি বড় কারণ হচ্ছে গবাদিপশুতে এন্টিবায়োটিকের অপব্যবহার। মানুষের চিকিৎসায় হাতুড়ে ডাক্তার নিয়ন্ত্রণে আইনের ব্যবহার ও ডাক্তারদের প্রতিরোধ দেখা গেলেও প্রাণিস্বাস্থ্যে আইনের প্রয়োগ প্রায় নেই বললেই চলে। উল্টো অনেক ক্ষেত্রে প্রানিস্বাস্থ্যে কর্মরত বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররাই পরোক্ষভাবে হাতুড়ে ডাক্তার তৈরিতে ভূমিকা রাখছেন। গ্রামে-গঞ্জে অশিক্ষিত, অর্ধশিক্ষিত লোকজন গবাদিপশুতে আর্টিফিশিয়াল ইনসেমিনেশন (কৃত্রিম বীজদান), গবাদিপশু পালনসহ এ খাতের বিভিন্ন বিষয়ে কিছুদিন প্রশিক্ষণ নিয়েই তারা নিজেদের ডাক্তার হিসেবে পরিচয় দিচ্ছে এবং গবাদিপশুর চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছে। রোগ নির্ণয়ের অ আ ক খ না জেনেও দেদারসে এন্টিবায়োটিক দিয়ে যাচ্ছে। দেড় বছর প্রাণিসম্পদ সম্প্রসারণ কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতায় দেখেছি, এ ধরণের ভুয়া ডাক্তাররা রোগ যাই থাকুক, গবাদিপশুর চিকিৎসায় প্রথমেই উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন এন্টিবায়োটিক ব্যবহার করে থাকে। এ বিষয়ে প্রাণিসম্পদ খাতের বিশেষজ্ঞরা অবগত থাকার পরেও কোন ব্যবস্থা নিতে আগ্রহী বলে মনে হয় নি। এর সাথে আরও ভয়ঙ্কর ব্যাপার হচ্ছে গবাদিপশুতে এন্টিবায়োটিক ব্যবহারে যে উইথড্রয়াল পিরিয়ড (এন্টিবায়োটিক ব্যবহারের পর একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ঐ প্রাণির দুধ, মাংস, ডিম খাওয়া উচিত নয়) মেইনটেইন করতে হয় তা সামান্যতমও মানা হয় না। এতে করে গবাদিপশুর মাংস, দুধ, ডিম ইত্যাদির মাধ্যমে এন্টিবায়োটিক রেসিডিউ মানবদেহে প্রবেশ করছে। এছাড়া অনেক অসাধু ব্যবসায়ী ও খামারি পশুখাদ্যে এন্টিবায়োটিক মিশ্রিত করে থাকে যা রেসিস্ট্যান্সির অন্যতম কারণ।

মারণব্যাধি থেকে বাঁচার জন্য যে এন্টিবায়োটিকের আবিষ্কার সে এন্টিবায়োটিকই মারণাস্ত্রে পরিণত হতে যাচ্ছে। এন্টিবায়োটিক রেসিট্যান্সির হার বিবেচনা করে বলা যায় অদূর ভবিষ্যতে সামান্য জ্বর-হাঁচি-কাশিতেও মৃত্যুঝুঁকি বাড়তে পারে। একুশ শতকের এ ভয়াবহ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় এখনই সর্বাত্মক প্রচেষ্টা না চালালে মানবজাতি যে হুমকির মুখে পড়বে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের প্রস্তুতিই বা কতটুকু তা আলোচনার দাবি রাখে। দায়সারা কিছু সভা-সেমিনার বা লিফলেট বিতরণে এ থেকে মুক্তি অসম্ভব। এন্টিবায়োটিক রেসিস্টেন্সি সামাল দিতে বিক্রেতা এবং ক্রেতা উভয়েরই যথেষ্ট দায়িত্বশীল হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

বাংলায় প্রবাদ আছে ‘যেমন দেশে যেমন আচার’। এদেশের মানুষ আইন না মানতেই বেশি আগ্রহী। তাই এন্টিবায়োটিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে, বিশেষ করে বিক্রেতাদের ক্ষেত্রে আইনের কঠোর প্রয়োগের কোন বিকল্প নেই। ঔষধ ও কসমেটিকস আইন ২০২৩ এর ধারা ৪০ অনুযায়ী রেজিস্টার্ড ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন ব্যাতীত এন্টিবায়োটিক বিক্রয় নিষদ্ধ। কাজেই এ আইনের প্রয়োগ ঘটিয়ে অননুমোদিতভাবে একটি এন্টিবায়োটিকও যেন ব্যবহৃত না হয় সেটি নিশ্চিত করতে হবে। এন্টিবায়োটিক ক্রয়-বিক্রয়ের যাবতীয় তথ্যাদি রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ রাখতে হবে। এন্টিবায়োটিক বিক্রয়ের ক্ষেত্রে স্পষ্ট তারিখ ও স্বাক্ষরসহ ক্যাশমেমো প্রদান করতে হবে। সকল ওষুধ নির্ধারিত তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করতে হবে। এছাড়া বিক্রেতারা এন্টিবায়োটিক বিক্রয়ের সময় পুরো কোর্স সম্পন্ন করার জন্য ভোক্তাদের উপদেশ দেয়ার নৈতিক দায়িত্বটুকু নিজেদের কাঁধে তুলে নিতে পারেন।

ভোক্তা পর্যায়েও এন্টিবায়োটিক ব্যবহারে সচেতন হতে হবে। সামান্য জ্বর-হাঁচি-কাশিতে গলির মুখে ফার্মেসিতে এন্টিবায়োটিক কেনার প্রবণতা থেকে বের হয়ে রেজিস্টার্ড ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। সুস্থতা অনুভব করলেও পুরো কোর্স সম্পন্ন করতে হবে। মেয়াদোত্তীর্ন ও নষ্ট হওয়া এন্টিবায়োটিক পানি বা মাটিতে যত্রতত্র না ফেলে ফার্মেসিতে ফেরত দিতে হবে। এসবের পাশাপাশি চিকিৎসকের সংখ্যা ও চিকিৎসার গুণগত মান বাড়াতে হবে। চিকিৎসাসেবায় হয়রানি ও মাত্রাতিরিক্ত খরচের বহর কমালে মানুষ হাসপাতাল ও ডাক্তারের কাছে যেতে অধিক আগ্রহী হবে।

আইনের প্রয়োগ ও চিকিৎসা সেবা শুধু মানবস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেই নয়, প্রাণিস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও নিশ্চিত করতে হবে। প্রাণিস্বাস্থ্যে হাতুড়ে ডাক্তারদের নিয়ন্ত্রণে কঠোর হতে হবে। প্রাণি চিকিৎসায় এন্টিবায়োটিকের অপব্যবহার কোন অংশেই কম নয়। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য রেজিস্টার্ড প্রাণিচিকিৎসকের সেবা সহজলভ্য করতে হবে। গবাদিপশুতে এন্টিবায়োটিক ব্যবহারে উইথড্রয়াল পিরিয়ড মেইনটেইন করতে খামারিদের সচেতন করতে হবে।

জন্মগ্রহণ করা প্রতিটি মানুষই মৃত্যুর স্বাদ ভোগ করবে। একসময় এমন অনেক সংক্রামক রোগ ছিল যেগুলোতে আক্রান্ত হলে মৃত্যু অনিবার্য ছিল। জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রসার আর আন্টিবায়োটিকের আবিষ্কার এসব রোগ থেকে নিরাময়ের পথ উন্মোচন করেছে, মৃত্যুর শঙ্কা কমিয়েছে। আমরা চাই না এন্টিবায়োটিকের কার্যকারিতা নষ্ট হয়ে বিশ্ব আবার সেই অনিবার্য মৃত্যুর দিকে চলে যাক। (পিআইডি ফিচার)

লেখক: তথ্য অফিসার (বিসিএস তথ্য), আঞ্চলিক তথ্য অফিস, সিলেট ।

Share





Related News

Comments are Closed