Main Menu

সিলেটে সাদাপাথর লুট: তদন্ত রিপোর্টে ১৩৭ নাম, লুট বন্ধে ১০ সুপারিশ

Manual6 Ad Code

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সাদাপাথর লুটের ঘটনায় জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটি রিপোর্ট জমা দিয়েছে। রিপোর্টে ১৩৭ জন জড়িত থাকার কথা উল্লেখ করার পাশাপাশি পাথর লুট বন্ধে ১০টি সুপারিশ করা হয়েছে।সাত পৃষ্টার এ তদন্ত প্রতিবেদনের মধ্যে এই লুটপাটে প্রশাসনের নির্দিষ্ট অংশ, উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সদস্যের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সম্পৃক্ততা রয়েছে। এছাড়া সাদা পাথর লুটপাটে রাজনৈতিক নেতাদেরও সম্পৃক্ততা রয়েছে বলেও জানাযায়।

বুধবার (২০ আগস্ট) দুপুরে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পদ্মাসন সিংহের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি সাত পৃষ্ঠার প্রতিবেদন বিদায়ী জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদের নিকট জমা দেন।

Manual4 Ad Code

প্রতিবেদন দাখিল করেন কমিটির প্রধান ও সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) পদ্মাসন সিংহ।

বিষয়টি নিশ্চিত করছেন বিদায়ী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদ।

Manual1 Ad Code

তিনি জানান, সাদাপাথর লুটের সাথে জড়িত ১৩৭ জনের নাম প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। আর আগামীতে পাথর লুট বন্ধে ১০টি সুপারিশ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, এ প্রতিবেদন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হবে।

সুপারিশসমূহ—

উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন;
সাদাপাথরে বিএমডির স্থায়ী অফিস স্থাপন;
টাস্কফোর্সের অভিযান ও চেকপোস্ট বাড়ানো;
গাছপালা রোপণ ও সবুজায়ন কার্যক্রম বৃদ্ধি;
প্রত্যেক সংস্থাকে নিজ নিজ দায় নির্ধারণে নিজস্ব তদন্ত পরিচালনা।
এ ঘটনার পর ১২ আগস্ট জেলা প্রশাসন তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। একইসঙ্গে রেলওয়ে বাংকার এলাকাসহ আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনে পরিবেশ ও পর্যটন স্থানের সৌন্দর্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

৭ পৃষ্ঠার এ প্রতিবেদনে যে ১৩৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তাদের অধিকাংশই রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী।

বুধবার জমা দেয়া এ তদন্ত প্রতিবেদনে কাউকে সরাসরি অভিযুক্ত না করে ১০ টি সুপারিশ করা হয়েছে,  সাদা পাথর লুটে সম্পৃক্ত প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাটি সুপারিশ করা রয়েছে।

তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পদ্মাসন সিংহ বলেন, প্রতিবেদনে ১০ টি সুপারিশ করা হয়েছে। এ তদন্তে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততা থাকায় আমরা সেই সেই দপ্তরগুলো এসকল কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।

তবে তিনি তদন্ত প্রতিবেদনের অন্যান্য বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলতে অপারগতা দেখিয়ে বলেন, এ বিষয়ে বিস্তারি নতুন জেলা প্রশাসক যোগদানের পরই বিস্তারিত জানতে পারবেন।

দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করা সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের সাদাপাথর লুটের ঘটনায় গত ১২ আগস্ট জেলা প্রশাসক তদন্ত কমিটি গঠন করেন। কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক আফজালুল ইসলাম ও কোম্পানীগঞ্জের সদ্য বদলিকৃত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আজিজুন্নাহার। তাকে কমিটিতে রাখায় সমালোচনার ঝড় উঠে।

কারণ, পাথর লুটকারীদের তিনি ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছিলেন এবং অনেকের ধারণা, তাদের সঙ্গে তারও যোগসাজশ ছিল। কমিটি ১৭ আগস্ট রিপোর্ট দেওয়ার কথা থাকলেও পরে আরও তিনদিন সময় বাড়ানো হয়।

সমালোচনার মুখে সোমবার (১৮ আগস্ট) সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) শের মাহবুব মুরাদকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) এবং কোম্পানীগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আজিজুন্নাহারকে বদলি করা হয়।

এর আগে, সাদাপাথর লুটপাটের ঘটনায় ১৫শ থেকে ২ হাজার জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করে খনিজসম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো।

Manual7 Ad Code

জানা যায়, সম্প্রতি সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জের সাদাপথরের প্রায় ১০ লাখ ঘনফুট পাথর লুট করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

বিষয়টি জানাজানি হলে সারাদেশে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। রিট হয় উচ্চ আদালতে। আদালত লুন্টিত পাথর উদ্ধার করে আবার যথাস্থানে প্রতিস্থাপনের নির্দেশ দেন। এরপর সিলেট এবং নারায়নগঞ্জে শুরু হয় প্রশাসনের সাঁড়াশি অভিযান। বিভিন্ন স্থান থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৫ লক্ষাধিক ঘনফুট সাদাপাথর।

Manual5 Ad Code

 

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code