Main Menu

আইনজীবী খোরশেদের হয়রানিতে দিশেহারা একটি নিরীহ পরিবার

Manual3 Ad Code

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: মার্কেট ও জায়গা জবরদখল করতে বছরের পর বছর ধরে সিলেটের বিএনপিপন্থী এক আইনজীবীর হামলা-মামলাসহ নানা হয়রানিতে দিশেহারা হয়ে পড়েছে একটি নিরীহ পরিবার। ওই আইনজীবী খুনও করিয়েছেন ভুক্তিভোগী পরিবারের এক সদস্যকে। স্বার্থ হাসিল করতে না পেরে এবার একের পর এক মিথ্যা মামলায় আসামি করাচ্ছেন পরিবারটির সদস্যদের।

বৃহস্পতিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বেলা ২টায় সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ করেন সিলেটের এয়ারপোর্ট থানাধীন সাহেবের বাজার এলাকার বাজারতল গ্রামের মৃত নিজাম উদ্দিনের স্ত্রী মোছা. রুনি বেগম।

Manual1 Ad Code

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন- তার স্বামী পল্লিচিকিৎসক ছিলেন। সাহেবের বাজারে তার স্বামী-ভাসুরদের জায়গা ও একটি টিনশেড মার্কেট রয়েছে। মার্কেটে রয়েছে তাদের ফার্মেসি। এছাড়া পার্শ্ববর্তী ঘুড়ামারা হাওরে তাদের প্রায় ৭ বিঘা জমি রয়েছে। এসব ভু-সম্পত্তিতে লুলোপ দৃষ্টি পড়ে সাহেবের বাজার এলাকার দেবাইরবহর গ্রামের মো. মোস্তফা মিয়ার ছেলে- সিলেট জজকোর্টের আইনজীবী খোরশেদ আলমের। জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম সিলেট জেলা শাখার ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সম্পাদক তিনি। বিগত সময়ে বাজারতল গ্রামের মৃত সোনাফর আলীর ছেলে নয়ন মিয়া (৩২) ও তার ভাই-ভাতিজাসহ বেশ কয়েকজনকে নিয়ে একটি ভূমিখেকো ও সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তুলেন খোরশেদ। ২০২২ সালের শুরুর দিকে রুনি বেগমের স্বামী-ভাসুরদের সাহেবের বাজারস্থ মার্কেট ও ঘুড়ামারা হাওরের জমি জবরদখলের পায়তারা শুরু করেন তিনি। এ নিয়ে বিরোধের এক পর্যায়ে ওই বছরের ৯ এপ্রিল সকালে অ্যাড. খোশেদের নির্দেশে তার বাহিনীর প্রধান নয়ন এবং তার সহযোগিরা হামলা করে রুনির স্বামী নিজাম উদ্দিনকে হত্যা করেন। এ ঘটনায় নিজামের বড় ভাই পল্লিচিকিৎসক আকরাম উদ্দিন বাদী হয়ে সিলেট এয়ারপোর্ট থানায় মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় নয়নকে ১ নং ও খোরশেদকে ৫ নং আসামি করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে আসামিরা জেল খেটে জামিনে বের হয়ে আরও বেপরোয়া হয়ে নানা হয়রানি শুরু করেন নিজাম উদ্দিনের পরিবারকে। মামলা তুলে নিতে অনবরত হুমকি-ধমকি দিতে থাকেন।

Manual1 Ad Code

সংবাদ সম্মেলনে রুনি বেগম আরও বলেন- তাদের বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্তে¡ও অভিযুক্তরা সাহেব বাজারস্থ টিন শেড মার্কেটটি জবরদখলের চেষ্টা অব্যাহত রাখেন। এরই জের ধেরে আকরাম উদ্দিনের ছেলে ফয়সল আহমদের উপর গত বছর হামলা চালায় নয়ন ও তার সহযোগিরা। সর্বশেষ গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের দিন সব জায়গায় আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটলে এই সুযোগে ওই দিন রাতে অ্যাড. খোরশেদের নির্দেশে ২৫-৩০ জন লোক নিয়ে হামলা করে তাদের মার্কেটকি দখল করে নেয় নয়ন। মার্কেটে থাকা রুনির ভাসুরের ফার্মেসিতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। পুরো মার্কেট দখল করে নিয়ে ফার্মেসির সব মালামাল ফেলে দিয়ে সেখানে চায়ের দোকান দিয়ে দেয় নয়ন। ঘটনার পর এ বিষয়ে এয়ারপোর্ট থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। কিন্তু পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে পুলিশি কার্যক্রম অনেকটা শিথিল থাকায় একপর্যায়ে সেনাবাহিনীর দ্বারস্থ হন আকরাম উদ্দিন। তাঁর আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ৪ সেপ্টেম্বর সেনাবাহিনীর একট টিম সাহেবের বাজারে গিয়ে স্থানীয়দের কাছ থেকে বিস্তারিত জেনে বাজার কমিটির নেতৃবৃন্দের সামনে নয়নদের উচ্ছেদ করে মার্কেটের দখল আকরাম উদ্দিনের হাতে সমঝিয়ে দেয়।

Manual5 Ad Code

তিনি আরও বলেন, খোরশেদ-নয়ন চক্র মার্কেটটি দখলে রাখতে না পেরে এবার তারা মিথ্যা মামলায় হয়রানির পথ বেছে নিয়েছে। নয়ন বাদী হয়ে গত ১২ সেপ্টেম্বর সিলেট মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ১ম আদালত (আমলি আদালত-৬)-এ একটি মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করে। অভিযোগে বলা হয়- ওই মার্কেট তাদের। ৪ সেপ্টেম্বর আকরাম উদ্দিন ও তার ছেলে এবং আরও কয়েকজন মিলে হামলা করে মার্কেটটি দখল করেছে। অভিযোগটি আমলে নিয়ে থানাপুলিশকে এফআইআর করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। অথচ পুরো সাহেব বাজার এলাকার মানুষ স্বাক্ষী- ৪ সেপ্টেম্বর সেনাবাহিনী আকরাম উদ্দিনের হাতে মার্কেটের দখল তুলে দিয়েছে। এই মামলা ছাড়াও বর্তমানে হওয়া বিগত সরকার ও তাদের দোসরবিরোধী একাধিক মামলায় আকরাম উদ্দিন ও তার পরিবারের সদস্যদের মিথ্যা-উদ্দেশ্যমূলকভাবে আসামি করছেন খোরশেদ। বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকায় বর্তমানে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন তিনি। রুনির পরিবারের সদস্যদের আরও মামলায় আসামি করার পায়তারাও করছেন।

খোরশেদ-নয়ন চক্রের হাত থেকে রক্ষা পেতে রুনি বেগম প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।

Manual2 Ad Code

 

 

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code