সিলেটে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ ও ইনস্টিটিউটের কাজ শেষ পর্যায়ে
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেট মহানগরীর দক্ষিণ সুরমা এলাকায় সিটি কর্পোরেশনের ৪২ নং ওয়ার্ডের তৈয়ব কামাল মৌজায় বস্ত্র ও পাট মন্ত্রনালয়ের দুইটি প্রকল্প শেখ রাসেল টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ ও সিলেট টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট এর কাজ প্রায় সম্পন্ন হওয়ার পথে রয়েছে।
২০১৭ সালে ভূমি অধিগ্রহণ শেষে ২০১৮ সালে শুরুর দিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই দুইটি প্রকল্পের কাজের শুভ উদ্বোধন করেন। সিলেট শহর থেকে মাত্র ৫ কিলোমিটার দূরে সিলেট-জকিগঞ্জ সড়কের ডানপাশে প্রায় ১০ একর জায়গার উপর শেখ রাসেল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ ও সিলেট টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট এর কাজ ৮০ ভাগ সম্পন্ন করা হয়েছে। পুরু কাজ সম্পন্ন করতে দিনরাত শ্রমিকরা কাজ করে যাচ্ছেন।
সিলেট টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট এর প্রজেক্ট ডাইরেক্টর হিসেবে প্রথমে ছিলেন এম মোতাহার হোসেন। পরবর্তীতে ২০২১ সালে এ প্রকল্পের দায়িত্ব পান বস্ত্র ও পাট মন্ত্রনালয়ের উপপরিচালক (প্রশাসন) সাইফুর রহমান। তিনি সর্বশেষ ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ৪.৮৭ একর ভূমির উপর সিলেট টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট এর কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করেন। তিনি জানান, এ প্রকল্পের শুরুর দিকে বরাদ্দ ছিল প্রায় ৯৫ কোটি টাকা পরবর্তীতে এটি বৃদ্ধি পেয়ে ১১৩ কোটি টাকায় দাড়িয়েছে। এখানে ছাত্রছাত্রীদের হোস্টেল, লাইব্রেরি, ওয়ার্কসপ, শিক্ষক, কর্মকর্তাদের আবাসন সুবিধাসহ একটি মসজিদ থাকবে। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এই ইনস্টিটিউট এর শিক্ষা পাঠদান চলবে। এসএসসি পাশ করে ৪বছর মেয়াদী এই ডিপ্লোমা কোর্স করতে পারবে শিক্ষার্থীরা। ২০২৩ সালের মার্চ মাসে এই ইনস্টিটিউট চালু করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প পরিচালক সাইফুর রহমান।
শেখ রাসেল টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের প্রকল্প পরিচালনায় রয়েছেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রনালয়ের নিবার্হী প্রকৌশলী নিরঞ্জন কুমার দেবনাথ। এ প্রকল্পের শুরুর দিকে পরিচালক হিসেবে ছিলেন এম মোতাহার হোসেন, এর পরে দায়িত্ব পেয়েছেন আল আমীন। তবে সর্বশেষে প্রকল্প পরিচালক হিসেবে নিরঞ্জন কুমার দেবনাথ। তিনি জানান, তৈয়বকামাল মৌজায় শেখ রাসেল টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট পাঁচ একর ভূমি নিয়ে কাজ চলছে। এখানে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল, খেলার মাঠ, লাইব্রেরি, ওয়ার্কসপ, ছাত্রছাত্রীদের হোস্টেল, শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের জন্য আবাসন সুবিধা রয়েছে। এই প্রকল্পের ৭০ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান নিরঞ্জন কুমার দেবনাথ। শেখ রাসেল টেক্সটাইল ইনস্টিটিউটে এইচএসসি পাশ করে ৪বছরের বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স চালু করা হবে।
শেখ রাসেল টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ ও সিলেট টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট এর নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এই চলমান প্রকল্পের পরিচালক মেজর গোলাম মিয়া রাসেল বলেন, আমাদের এই দুই প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। আশা করি শ্রীঘই এই দুই প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ হবে।
শেখ রাসেল টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ ও সিলেট টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট সিলেট নগরীর ৪২ নং ওয়ার্ডে স্থাপন করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কে ধন্যবাদ জানিয়ে ইছরাব আলী হাই স্কুল ও কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি শাহ নিজাম উদ্দিন বলেন, সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর অক্লান্ত প্রচেষ্টায় এই দুইটি শিক্ষা প্রতিষ্টান আমাদের এলাকা তৈয়বকামাল মৌজায় স্থাপন করে দিয়েছেন। শিক্ষা প্রতিষ্টান দুইটির কাজ শেষ হলে আমাদের স্থানীয় ছাত্রছাত্রীর ভর্তির জন্য আলাদা কোটা ও চাকুরীতে স্থানীয়দের যোগ্যতানুযায়ী রাখার জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি।
বিশিষ্ট সমাজসেবী ও রাজনীতিবিদ নজরুল ইসলাম কামাল বলেন, এই দুইটি শিক্ষা প্রতিষ্টান সিলেটের শিক্ষা ক্ষেত্রে যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করবে।
দক্ষিণ সুরমা উপজেলার শিক্ষা অফিসার মহি উদ্দিন আহমেদ এই দুইটি শিক্ষা প্রতিষ্টানের ব্যাপারে বলেন, কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত হলে দেশ ও দেশের বাইরে চাকুরির নিশ্চয়তা পাওযা যায়। শেখ রাসেল টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ ও সিলেট টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট সিলেট বাসীর জন্য শিক্ষা ক্ষেত্রে আশীর্বাদ হয়ে থাকবে।
বিশিষ্ট সংগঠক সরোয়ার হোসেন খান মাজেদ বলেন, গার্মেন্টস বা টেক্সটাইল শিল্পে আমাদের প্রচুর দক্ষ জনশক্তি প্রয়োজন তাই এই দুইটি শিক্ষা প্রতিষ্টান থেকে শিক্ষার্থীরা লেখাপড়া করে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। স্থানীয় শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা একটি কোটা রাখার জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি।
Related News
ফেঞ্চুগঞ্জে খেলতে গিয়ে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু
Manual2 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলায় হাওরের পানিতে ডুবে মাহিয়া জান্নাত মারজিয়াRead More
বিয়ানীবাজারে এসএসসি পরীক্ষার্থী তাওহীদার আত্নহনন
Manual4 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: এসএসসি পরীক্ষা এখনো শেষ হয়নি। সামনে রয়েছে ব্যবহারিক পরীক্ষা।Read More



Comments are Closed