সিলেটে শিশুকে হত্যা করে থানায় মায়ের আত্মসমর্পন
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটে শ্বাসরুদ্ধ করে নিজের ১৭ মাস বয়সী মেয়েকে হত্যার পর থানায় আত্মসমর্পন করেছেন নাজমিন আক্তার নামের এক নারী।
বুধবার (৯ ফেব্রয়ারী) দুপুরে সিলেট নগরের শাহপরানের নিপবন আবাসিক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানায় পুলিশ। নিহত শিশুর নাম সাবিহা আক্তার। বিকেলে হাসপাতাল থেকে নাজমিনকে কতোয়ালি থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। নাজমিনের স্বামী সাব্বির আহমদকেও আটক করেছে পুলিশ।
পারিবাহিক কলহের জেরে সাবিহাকে বালিশ চাপা দিয়ে ও শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করেন বলে থানায় উপস্থিত গণমাধ্যম কর্মীদের জানান জাহান (২৮)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সিলেটের দক্ষিণ সুরমার গোলাপগঞ্জ এলাকার নাজমিনের সাথে দক্ষিণ সুরমার বলদি এলাকার সাব্বির আহমদের বিয়ে হয় ২০১৫ সালে। বিয়ের পর থেকে তারা নগরীর শাপরান এলাকায় থাকেন। নাজমিন নগরের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্কলার্সহোম স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষিকা ও তার স্বামী কাতার প্রবাসী।
এর আগেও একটি বিয়ে হয়েছিলো নাজনিনের। সেই সংসারে তার একটি সন্তান রয়েছে।
থানায় উপস্থিত গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে নাজমিন বলেন, বিয়ের পর আমার স্বামী বিদেশ চলে যায়। এরপর চার বছর পর দেশে ফিরে। কিন্তু বিদেশ থাকা অবস্থায় তিনি আমার ভরণ পোষণের দায়িত্ব নেননি। দেশে ফিরে আমাকে অনেক বুঝিয়ে আবার সংসার শুরু করেন তিনি। তখন আমি গর্ভবতী হই। আমাকে গর্ভবতী রেখেই তিনি আবার কাতার চলে যান।
নাজমিন অভিযোগ করে বলেন, বিদেশে গিয়ে সাব্বির অভিযোগ করেন আমার গর্ভের সন্তান তার নয়। আমি তখন ডিএনএ টেস্ট করার কথা বলি। কিন্তু সাব্বির ও তার পরিবার আমার বিরুদ্ধে কুৎসা রটাতে থাকে।
মেয়ের চেহেরা অবিকল তার বাবার মতো হয়েছে জানিয়ে নাজমিন বলেন, সাব্বির ১৫ দিন আগে দেশে এসেছেন। কিন্তু একবারও মেয়েকে দেখতে আসেননি। বরং আমার বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার করছেন। এই দুঃখে আমি আমার মেয়েকে হত্যা করেছি।
নিজের মেয়েকে হত্যার দায় স্বীকার করে নাজমিন বলেন, আমি কাউকে ফাঁসাবো না। সাব্বিরকেও ফাঁসাবো না। তাকে ফাঁসালেও সে কম শাস্তিতে পার পেয়ে যাবে। তার বিচার আল্লাহ করবেন। আমি আমার মেয়েকে খুন করছি। আমার ফাঁসি হোক।
পরে প্রতিবেশিরা মেয়েকে নিয়ে ওসমানী হাসপাতালে আসেন বলে জানান এই নারী।
ক্ষোভ প্রকাশ করে নাজমিন বলেন, হাসপাতালে সাব্বিরের ভাইকে পাইছিলাম। তাকে জুতা দিয়ে মারতে চাইছিলাম। মারতে পারলে শান্তি হতো। কিন্তু পারিনি।
এদিকে ১৭ মাসের ওই শিশুর ‘অস্বাভাবিক’ মৃত্যুর পর তার মায়ের প্রতি অভিযোগের আঙ্গুল তুলেছেন ওই শিশুর বাবা সাব্বির আহমদ। বাবার অভিযোগ- সাবিহা নামের ওই শিশুর মা তাকে বিষজাতীয় কিছু পান করিয়ে মেরে ফেলেছেন।
পারিবারিক কলহের জেরে সাবিহাকে গলা টিপে তার মা নাজমিন হত্যা করেন জানিয়ে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী মাহমুদ বলেন, নাজমিনকে আমরা থানায় নিয়ে এসেছি। তার স্বামীকেও আটক করেছি। ঘটনাটি যেহেতু শাহপরান থানা এলাকার তাই শাহপরান থানা পুলিশকে খবর দিয়েছি। তারাই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
নিহত শিশুর মরদেহ ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানান ওসি।
Related News
শনিবার সিলেটের যেসব এলাকায় থাকবে না বিদ্যুৎ
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: জরুরী সংস্কার ও গাছা-পালার শাখা-প্রশাখা কাটার জন্য শনিবার (৩১ অক্টোবর) সিলেটের গুরুত্বপূর্ণRead More
ওসমানী হাসপাতালে দুই সাংবাদিকদের ওপর হামলা, শনিবার ঐক্যবদ্ধ সমাবেশের ডাক
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে দুইRead More



Comments are Closed