Main Menu

আকস্মিক বন্যায় সিলেটের দুই উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

Manual5 Ad Code

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: পাহাড়ি ঢল আর গত দুদিনের ভারি বৃষ্টিতে সিলেটের গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে বিভিন্ন গ্রামীন রাস্তা, বাড়ি ঘর ও স্কুলে পানি উঠেছে। তলিয়ে গেছে বীজতলা।

Manual8 Ad Code

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। সারী-গোয়াইনঘাট ও গোয়াইনঘাট-রাধানগর সড়কের বিভিন্ন স্থানে পানি উঠেছে। এতে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। সবকটি ইউনিয়নে কয়েক হাজার হেক্টর আমনের বীজতলা তলিয়ে গেছে বানের পানিতে। গত ২ দিনের ভারি বৃষ্টি আর উজান থেকে সারী ও পিয়াইন নদী দিয়ে নেমে আসা পানিতে তলিয়ে গেছে উপজেলার বেশ ক’টি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল। এতে গ্রামীণ রাস্তাঘাট, মৎস্য খামার, বোনা আমন, রোপা আউশ, আমনের বীজতলা এবং প্রচুর পরিমাণ মৌসুমি সবজি বাগান পানিতে তলিয়ে গেছে।

জানা গেছে, পুর্ব জাফলং ইউনিয়নের আসামপাড়া হাওর, বাউরভাগ হাওর, জাফলং চা-বাগান, সাংকিভাঙ্গা হাওর, পুর্ব আলীরগাঁও ইউনিয়নের কাকুনাখাই হাওর, খাষ হাওর, জুগিরকান্দ হাওর, দাড়াইল হাওর, পশ্চিম আলীরগাঁও ইউনিয়নের সাতাইন, বার্কিপুর, হাতিরপাড়া ও পুকাশ হাওর, লেঙ্গুড়া ইউনিয়নের লেঙ্গুড়া, সিটিবাড়ি হাওরসহ তোয়াকুল, রস্তমপুর, পশ্চিম জাফলং, ডৌবাড়ী ও নন্দীরগাঁও ইউনিয়নের প্রায় হাওর বানের পানিতে তলিয়ে গেছে। এছাড়া, সারী-গোয়াইনঘাট সড়ক, গোয়াইনঘাট-রাধানগর সড়কের বিভিন্ন স্থানে পানি উঠেছে। এতে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ তাহমিলুর রহমান জানান, গোয়াইনঘাটের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে, সারী-গোয়াইনঘাট ও গোয়াইনঘাট-রাধানগর সড়কের বিভিন্ন স্থানে পানি উঠেছে । বড় কোন ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এখন পর্যন্ত হয়নি।এছাড়া দুর্যোগ মোকাবেলায় টিম গোয়াইনঘাট প্রস্তুত রযেছে।

Manual3 Ad Code

এদিকে গত ২ দিনের টানা বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত হয়েছে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার নিম্নাঞ্চল। সীমান্তবর্তী ৩টি ইউনিয়নের প্রায় ১৫ টি গ্রামের বেশিরভাগ ঘরবাড়ি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা পানিবন্দী গ্রামগুলো পরিদর্শন করেছেন। উপজেলা প্রশাসন সুত্রে জানা গেছে বন্যা মোকাবিলায় নগদ ১৫ লক্ষ টাকা মজুদ রয়েছে। যেগুলো দিয়ে শুকনো খাবার ক্রয় করা হবে। এ ছাড়াও শিশু খাদ্য ও গো-খাদ্য পর্যাপ্ত পরিমাণে আছে।

টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সবচেয়ে বেশি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ইসলামপুর পূর্ব ইউনিয়নের চাঁনপুর গ্রাম ও ইসলামপুর পশ্চিম ইউনিয়নের ছনবাড়ী গ্রাম। চাঁনপুর গ্রামের প্রায় ৫টি বাড়ি ও মসজিদ পাহাড়ি ঢলের নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। নদী ভাঙ্গনের প্রবল ঝুঁকিতে রয়েছে চাঁনপুর গ্রাম। এদিকে ছনবাড়ী গ্রামের স্কুল, মসজিদ, মন্দির, রাস্তা, শাহ আরেফিন বাজারসহ প্রায় পুরো গ্রাম পানির নিচে তলিয়ে যায়। সুনাই নদীর উত্তর পাশে নদীর বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ায় বিগত কয়েক বছর থেকে পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত হচ্ছে ছনবাড়ী গ্রাম। এই বাঁধ না থাকায় চিকাডহর এবং নারাইনপুর গ্রামও প্লাবিত হচ্ছে। এছাড়াও ইসলামপুর পশ্চিম ইউনিয়নের নতুন জালিয়ারপাড়, বৈশাকান্দি, লম্বাকান্দি, নভাগী, কান্দিসহ বেশ কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে ইউনিয়ন চেয়ারম্যান শাহ মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন পানিবন্দি এসব গ্রামের মানুষের খোঁজ খবর নিতে পরিদর্শনে যান। তিনি এ সময় বলেন, ইউনিয়নের ৪টি ওয়ার্ডের বেশ কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। তবে এখনো তেমন ঘরবাড়িতে পানি প্রবেশ করেনি। পর্যাপ্ত ত্রাণ মজুদ রয়েছে আমরা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে বিতরণ করবো।

Manual6 Ad Code

ইসলামপুর পূর্ব ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বাবুল মিয়া বলেন, ধলাই নদীর পাহাড়ি ঢলে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সম্মুখস্থ ধলাই নদীর পূর্ব তীরবর্তী চাঁনপুর গ্রামের অধিকাংশ কাচা ঘর, পাকা ঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। চাঁনপুর গ্রামের পুরাতন মসজিদটি বর্তমানে ঝুলন্ত অবস্থায় আছে। চোখের সামনেই পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধা হাছু মিয়ার বসত ঘরটি কয়েক মিনিটের ভিতরে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বাড়ীর পূর্ব ভিটার ঘরটি ঝুলন্ত অবস্থায় আছে। উত্তর রণিখাই ইউনিয়নের বেতমুড়া, ডিস্কিবাড়ি, ফেদারগাঁও, বেকিমুরারপাড় প্লাবিত হয়েছে। দক্ষিণ রণিখাই ইউনিয়ন চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান রুকন জানান, টানা বৃষ্টিতে প্লাবিত হতে শুরু করেছে ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল। তবে এখনো কোন গ্রামে পানি ঢুকেছে এমন সংবাদ পাওয়া যায়নি। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমাদের পর্যাপ্ত প্রস্তুতি রয়েছে।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুমন আচার্য জানান, উপজেলার বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমাদের পর্যাপ্ত প্রস্তুতি রয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে বন্যার্তদের জন্য নগদ ১৫ লক্ষ টাকা মজুদ রয়েছে। এই টাকা দিয়ে আমরা শুকনো খাবার ক্রয় করে তাদের মাঝে বিতরণ করবো। শিশু খাদ্য ও গো-খাদ্য পর্যাপ্ত পরিমাণে আমাদের কাছে রয়েছে। এ ছাড়াও বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে যে কোন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অপরদিকে টানা বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সিলেটের নদীগুলোতে পানি বাড়তে শুরু করেছে। ইতোমধ্যে সিলেটের গোয়াইনঘাটের সারি নদী ও তাহিরপুরের যাদুকাটা নদী ও পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সাথে বাড়ছে সুরমা, কুশিয়ারাসহ অন্যান্য নদ-নদীর পানিও। তবে এসব নদীর পানি এখনও বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত যাদুকাটা নদীর পানি ৫৬ সেন্টিমিটার এবং গোয়াইনঘাটের সারি নদীর পানি বিপৎসীমার ৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আর যাদুকাটা নদীর পানি বাড়ার ফলে তাহিরপুর উপজেলার বেশ কিছু সড়ক তলিয়ে গেছে।

Manual8 Ad Code

এদিকে সিলেটে টানা বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। ২৭ জুন সকাল ৬টা থেকে ২৮ জুন সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত সিলেটে ১১৯ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আর ২৮ জুন সন্ধ্যা ৬ টা থেকে ২৯ জুন সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ২৭ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে সিলেট আবহওয়া অফিস। আগামী ২৪ ঘণ্টায়ও সিলেটের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি হবার সম্ভাবনা রয়েছে।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই অঞ্চলের আরেকটি নদী সুরমার পানিও বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code