সিলেটে স্ত্রী হত্যার দায়ে এক ব্যক্তির ফাঁসি কার্যকর
বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: স্ত্রী হত্যার দায়ে ১৭ বছর পর সিলেট কারাগারে এক আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত ১১টায় শহরতলীর বাদাঘাটে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার-১ এ সিরাজুল ইসলাম সিরাজ (৫৫) নামে এই বন্দির মৃত্যুদণ্ডের রায় কার্যকর করা হয়।
সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মোহাম্মদ মঞ্জুর হোসেন মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। রায় কার্যকরে অংশগ্রহণ করেন জল্লাদ মোহাম্মদ শাহজাহান।
এসময় সিলেটের জেলা প্রশাসক কাজী এমদাদুল ইসলাম, সিলেটের ডিআইজি প্রিজনস মোহাম্মদ কামাল হোসেন, সিলেটের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন পিপিএম, সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. প্রেমানন্দ মন্ডল, সিলেটের সিনিয়র জেল সুপার মুহাম্মদ মঞ্জুর হোসেন, জেল সুপার মো. মুজিবুর রহমান, সিলেট মহানগর পুলিশের প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
শহরতলীর বাদাঘাট এলাকায় নবনির্মিত সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার-১ এ এটাই প্রথম ফাঁসি কার্যকর বলে জানিয়েছেন কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মঞ্জুর আলম।
তিনি বলেন, ‘ফাঁসি কার্যকর করার আগে সিরাজের ইচ্ছে অনুযায়ী তার পরিবারের সঙ্গে দেখা করার ব্যবস্থা করে কারা কর্তৃপক্ষ। ফাঁসি কার্যকরের পর রাতেই স্বজনরা তার মরদেহ দাফনের জন্য হবিগঞ্জে নিয়ে গেছেন বলেও জানান তিনি।’
২০০৪ সালে পারিবারিক বিরোধের জেরে সিরাজুল ইসলাম সিরাজ তার স্ত্রী সাহিদা আক্তারকে শাবল ও ছুরি দিয়ে হত্যা করেন। এ ঘটনায় হবিগঞ্জ থানায় ২০০৪ সালের ৭ মার্চ হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহতের ভাই।
২০০৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক সিরাজের মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন। সেই সাথে রায়ে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। এই রায়ের বিরুদ্ধে সিরাজ হাই কোর্টে আপিল করেন। ২০১২ সালের ১ অগাস্ট হাই কোর্ট সিরাজের জেল আপিল নিষ্পত্তি করে সাজা বহাল রাখেন।
এই রায়ের বিরুদ্ধে সিরাজ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে জেল পিটিশন দাখিল করেন। আপিল বিভাগও ২০২০ সালের ১৪ অক্টোবর রায়ে সিরাজের আপিল বাতিল করে ডেথ রেফারেন্সের সিদ্ধান্তই বহাল রাখেন। এরপর সিরাজ প্রাণভিক্ষা চেয়ে আবেদন করলে এ বছরের ২৫ মে রাষ্ট্রপতি তা নামঞ্জুর করেন বলে জানান সিনিয়র জেল সুপার মঞ্জুর আলম।
কারা সূত্র জানায়, সিরাজের ফাঁসি কার্যকরের জন্য ১৪ জুন কাশিমপুর কারাগার থেকে জল্লাদ শাহজাহানকে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে আনা হয়। বিএনপি নেতা সালাউদ্দীন কাদের চৌধুরী, জামায়াত নেতা আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ, কাদের মোল্লাসহ কয়েকজনের ফাঁসি কার্যকর শাহজাহানের হাতেই হয়।
প্রসঙ্গত, শহরের ধোপাদীঘির পাড় এলাকায় অবস্থিত সিলেট পুরাতন কারাগার ১৭৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৩৪ সালের ২ জুলাই এখানে প্রথম ফাঁসি কার্যকর হয়।
২০১৮ সালের ১ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে শহরতলীর বাদাঘাট এলাকায় নির্মিত সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের উদ্বোধন করেন। নবনির্মিত এ কারাগারটি সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার-১ নামে পরিচালিত হচ্ছে। এই কারাগারে প্রথম ফাঁসি এটি।
Related News
এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে দলবদ্ধ ধর্ষণ মামলার রায় ১৪ জুলাই
Manual3 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে তরুণীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় আসামিপক্ষেরRead More
৫ বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যায় চাচাত ভাইয়ের মৃত্যুদণ্ড
Manual5 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলায় আসমা আক্তার (৫) নামে এক শিশুকেRead More



Comments are Closed