‘ঘুমের ট্যাবেলেট খাইয়ে স্বামীকে হত্যা করেন শিপা’
বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: সিলেটে আলোচিত আইনজীবী আনোয়ার হোসেন হত্যা মামলায় ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন তার স্ত্রী শিপা বেগম। পরকীয়ার জেরে স্বামী আনোয়ার হোসেনকে ঘুমের ট্যাবেলেট খাইয়ে হত্যা করেছেন বলে তিনি স্বীকারোক্তি দেন।
রোববার (১৩ জুন) বিকালে রিমান্ড শেষে সিলেট মূখ্য মহানগর আদালতে হাজির করলে শিপা বেগম এই স্বীকারোক্তি দেন।
তার স্বীকারোক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে সিলেট মহানগর পুলিশের উপ পুলিশ কমিশনার (উত্তর) আজবাহার আলী শেখ বলেন, পরকীয়ার জেরে অ্যাডভোকেট আনোয়ার হোসেনের খালাতো ভাই শাহজাহান চৌধুরী মাহির সহযোগিতায় শিপা বেগম ঘুমের ট্যাবেলেট খাইয়ে তার স্বামীকে হত্যা করার কথা আদালতে স্বীকার করেছেন। তিনি ২৮ এপ্রিল ঘুমের ওষুধ কিনে আনেন। ২৯ এপ্রিল আনোয়ার হোসেনকে ঘুমের ওষুধ খাওয়ান। এরপর তিনি মারা যান।
উল্লেখ্য, গত ২ জুন রাতে অ্যাডভোকেট আনোয়ার হোসেন হত্যা মামলায় তার স্ত্রী শিপা বেগমকে সিলেট নগরীর তালতলা এলাকার একটি বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ৩ জুন দুপুরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে আদালত ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করলে গত ৭ জুন সোমবার শিপাকে জিম্মায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ।
এর আগে ১ জুন থানায় মামলা দায়ের করেন নিহতের ভাই, সিলেট সদর উপজেলার শিবেরবাজারের দীঘিরপার গ্রামের বাসিন্দা মনোয়ার হোসেন।
মামলায় পরকীয়া প্রেমের জেরে আনোয়ার হোসেনকে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়। এতে নিহতের খালাতো ভাই শাহজাহান চৌধুরী মাহিকে প্রধান আসামি ও নিহতের স্ত্রী শিপা বেগমকে দ্বিতীয় আসামি করা হয়। এছাড়া মোট ৮ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়।
সিলেট শহরতলীর শিবেরবাজারের দিঘীরপাড় গ্রামের বাসিন্দা এডভোকেট আনোয়ার হোসেন স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে নগরীর তালতলাস্থ ৩ নং বাসায় বসবাস করতেন। তিনি সিলেট জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আইনজীবী ছিলেন। বাসাটি আনোয়ার হোসেনের নিজস্ব। গত ৩০ এপ্রিল সাহরি খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন আনোয়ার হোসেন। পরদিন ১ মে বিকেল ৩টার দিকে স্ত্রী শিপা বেগম সবাইকে জানান, আনোয়ার হোসেন ডায়াবেটিক নিল হয়ে মারা গেছেন। পরে তাকে নিজের গ্রামের বাড়ি সিলেট সদর উপজেলার শিবেরবাজারের দীঘিরপার গ্রামে নিয়ে দাফন করা হয়।
এদিকে- আনোয়ার হোসেনের মৃত্যুর ১০ দিনের মাথায় স্ত্রী শিপা বেগম ঘরে অষ্টম শ্রেণি পড়ুয়া মেয়ে থাকার পরও শাহজাহান চৌধুরী মাহি নামের পূর্ব পরিচিত যুবককে বিয়ে করেন। আর বিয়ের বিষয়টি আনোয়ার হোসেনের স্বজনের কাছে পৌঁছলে তারা সত্যতা জানতে শিপাকে ফোন দিলে শিপাও বিষয়টি স্বীকার করেন। এতে সন্দেহ হয় পরিবারের। আনোয়ার হোসেনকে হত্যা করা হয়েছে দাবি করে গত ১লা জুন সিলেটের আদালতে মামলা করেন তার ছোট ভাই মনোয়ার হোসেন। ৪৩ মিনিটের একটি অডিও আদালতে দাখিল করেছেন মামলার বাদী মনোয়ার হোসেন। পরে আদালতের নির্দেশে সিলেটের কোতোয়ালি থানা পুলিশ মামলাটি আমলে নিয়ে তালতলাস্থ বাসা থেকে শিপা বেগমকে গ্রেপ্তার করে। আদালত ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করলে গত ৭ জুন সোমবার শিপাকে জিম্মায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ।
Related News
মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে বৃদ্ধের মৃত্যুদণ্ড
Manual1 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: জয়পুরহাটে সপ্তম শ্রেণির এক মাদরাসাছাত্রীকে (১৩) ধর্ষণের মামলায় আলমRead More
শিশু ইরা মনি ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যা মামলার আসামির মৃত্যুদণ্ড
Manual7 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে আট বছরের শিশু জান্নাতুল নাঈম ওরফে ইরাRead More



Comments are Closed