আজ আব্বুর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী
আনিকা তাবাসসুম মুনা: আজ ১৮ জানুয়ারি, আব্বু আমাদের মাঝে নেই এক বছর পূর্ণ হলো। হয়তো এই মাটির পৃথিবীতে আব্বুর অস্তিত্ব নেই কিন্তু ওনার প্রতিটি কাজে, উপদেশে, শিক্ষায় আমি আব্বুকে খুঁজে পাই।
আব্বুর জীবদ্দশায় কখনো ওনাকে নিজের জন্য কিছু করতে দেখিনি। সবসময় অপরের জন্য কাজ করেছেন। যেভাবে পারতেন, সাধ্যমতো সর্বোচ্চ করতেন। তাতেই তিনি তৃপ্তি পেতেন। আমাকেও সেই শিক্ষা দিয়েছেন।
বাবাকে হারিয়ে আমার জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একজন শিক্ষককে হারিয়েছি। যিনি আমাকে তাঁর পাশে বসিয়ে শিখাতেন, গড়ে তুলেছিলেন নিজ হাতে।
লেখালেখি করার জন্য সবসময় যে মানুষটি চাপ দিতো তিনি ছিলেন আমার বাবা। না লিখলে বকাঝকা করতেন। ‘কেন লিখছিনা?’ ‘লিখা বন্ধ কেন?’ এসব বলে বাচ্চাদের মতো পিছু লেগে থাকতেন।
টিভিতে আমার পছন্দের অনুষ্ঠান শুরু হলে ডাক দিতেন। ক্রিকেট খেলায় বাংলাদেশের হার হোক কিংবা নাটকের গুরুত্বপূর্ণ কোনো চরিত্রের মৃত্যু, বাপ-বেটি একসাথে বসে কাঁদতাম। আমার ছোট ছোট ছেলেমানুষীগুলো দেখে বলতেন,”মেয়েটা দিন দিন ছোট হচ্ছে”। মা যদিও আমাকে ‘বাবা’ বলে ডাকেন, সেখানে আব্বু ডাকতেন মা বলে। বলতেন,’আল্লাহ আমার এক মাকে নিয়ে নিয়েছেন ঠিকই, কিন্তু আরেক মা দিয়েছেন। সকল আংকেল-আন্টি বলেন, আব্বু ওনাদের কাছে সবসময় আমার গল্প করতেন। ইন্তেকালের আগেও আব্বু আমার নাম ধরে বার বার ডাকছিলেন। আব্বু গলায় সেই ডাক আমি এখনো স্পষ্ট শুনতে পাই।
এখনো আমার লেখালেখি নিয়মিত হয় না। ইচ্ছে করে আবার আব্বু বকা শুনি। এখনো টিভিতে প্রিয় অনুষ্ঠানটি দেয়। শুধু আমার পাশে আমার আব্বু থাকেন না। যেকোনো প্রশ্ন মাথায় আসলে আব্বুর সাথে বসে আলোচনা করা হয় না। ধাঁধার সমাধান নিয়ে আর আব্বুর সাথে টক্কর দেয়া হয়না। তখন অশ্রুসিক্ত নয়নে দোয়া করা ছাড়া আর কিছুই করতে পারি না।
আপনারা দেশে-বিদেশে আব্বুর শুভাকাঙ্ক্ষী যারা আছেন, আপনারা সবাই দোয়া করবেন আল্লাহ যেন আমার আব্বুকে জান্নাতবাসী করেন। কবরের আযাব থেকে মুক্তি দেন। দোয়া করবেন আব্বুর যোগ্য সন্তান হয়ে ওনার জন্য কল্যাণ যেন বয়ে আনতে পারি। আমিন।
Related News
সৈয়দ মুজতবা আলীর ১২২তম জন্মবার্ষিকী পালন
সালেহ আহমদ (স’লিপক): আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পণ্ডিত বহুভাষাবিদ ড. সৈয়দ মুজতবা আলীর ১২২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনাRead More
বাউলসম্রাট শাহ আবদুল করিমের ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সুনামগঞ্জের কালনী নদীর তীরে ছোট্ট গ্রাম উজানধল। চারদিকে হাওর, বর্ষায় অথৈ জলRead More



Comments are Closed