যে সেতুতে পায়ে হেঁটে চলাচলেও ভয়
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সেতুর দু’পাশের সংযোগ সড়কে মাটি নেই। সেতুর মাঝ অংশে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এভাবেই পড়ে আছে প্রায় দুই বছর ধরে। সেতুর মাঝ অংশে ভেঙ্গে যাওয়ার পর থেকে বন্ধ রয়েছে যান চলাচল। পথচারীরাও ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করেন।
দীর্ঘদিন ধরে এই সেতু সংস্কার না করায় চরম দুর্ভোগে পড়েছে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার আমতৈল ও পাহাড়তলীসহ কয়েকটি গ্রামের তিন হাজারের অধিক মানুষ।
সেতুটিতে নিন্মমানের কাজ করায় ভেঙ্গে গেছে বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দা আমির আলী ও শফিক মিয়ার। তারা বলেন, ভাঙ্গা ব্রীজটি সংস্কারের জন্য বারবার দাবি জানানো হলেও কোন উদ্যোগই নিচ্ছে না স্থানীয় প্রশাসন। ফলে এই এলাকার বাসিন্দাদের মাঝে চরম ক্ষোব বিরাজ করছে।
জানা যায়, উপজেলার আমতৈল, পাহাড়তলী, রজনী লাইন, চানপুরসহ বিভিন্ন গ্রামের মাঝে খালের উপর এলাকাবাসীর চলাচলের স্বার্থে একটি ব্রিজ নির্মান করার দাবী জানানো হয়। এরই প্রেক্ষিতে উপজেলা পরিষদ থেকে এডিপির প্রায় ৭ লাখ টাকা বরাদ্দ পেয়ে ২০১৬ সালে ব্রিজটি নির্মান করা হয়। তবে নির্মিত ব্রিজটি দু’বছরের বেশী সময় ধরে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে আছে। ব্রিজটির দু পাশের সংযোগ সড়কে মাটি নেই।
আমতলী গ্রামের দুশতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে যারা প্রতিদিন চানপুর ও ট্যাকেরঘাট স্কুলে লেখা পড়া করার জন্য এই ব্রিজটি পাড়ি দেয়। এছাড়াও তিন হাজারের অধিক মানুষ পায়ে হেটে চলাচল করছে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে।
আমতলী গ্রামের শিক্ষার্থী আমিন উদ্দিন জানান, স্কুলে আসা যাওয়া করতে হলে ব্রিজটি পাড় হতে হয়। ঝুকিপূর্ন হওয়ায় পারাপার হতে গেলে ভয় লাগে কখন যানি ভাঙ্গা অংশ আবারও ভেঙে যায়।
আমতৈল গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা সুজাফর মিয়া ও আশরাফুল ইসলাম বলেন, ব্রিজটি মাঝ অংশে ভেঙে যাওয়ায় কোন ধরনের যানবাহন চলাচল করতে পারে না বিধায় মালামাল পরিবহন করা যায় না। মাথায় করে সব ধরনের পন্য সামগ্রি বাড়ি নিতে হয়। এছাড়াও এই ব্রিজ দিয়ে চলাচলকারী সর্বস্থরের মানুষ পারাপারে আতংকের মাঝে থাকে।
২নং ওয়ার্ডের জনপ্রতিনিধি ও পাহাড়তলী গ্রামের বাসিন্ধা মো. সিদ্দিক মিয়া মেম্বার বলেন, এলাকার মানুষ এই ব্রিজের জন্য খুবই দুর্ভোগের মাঝে আছে। কখন যানি ভেঙ্গে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে।
উত্তর বড়দল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ আবুল কাশেম জানান, জনদুর্ভোগ লাগবের জন্য ব্রিজটি পূনঃনির্মানের জন্য আমি লিখিত ভাবে আবেদন করেছি।
তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান করুণা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল জানান, জনদুর্ভোগ লাগবের জন্য আমি ব্রিজটির বিষয়ে খোঁজ নিয়ে আমার পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগীতা করাসহ ব্রিজটি সংস্কারের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলব।
Related News
ছাতকে পাগনা বড়বিলে ১০ লাখ টাকার মাছ লুটের অভিযোগ
আনোয়ার হোসেন রনি, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় পাগনা বড়বিল জলমহালসহ বিভিন্ন জলাশয়কে কেন্দ্র করেRead More
সুনামগঞ্জে ৮৭ কোটি টাকার সড়কে নিম্নমানের কাজের অভিযোগ, তদন্ত দাবি
আনোয়ার হোসেন রনি, সুনামগঞ্জ থেকে : সুনামগঞ্জ-কাছিরগাথি-বিশ্বম্ভরপুর সড়কের প্রায় ৮৭ কোটি টাকার উন্নয়নকাজ ঘিরে নিম্নমানেরRead More



Comments are Closed