জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে কমলগঞ্জের চা শ্রমিকরা
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের চা বাগানে জটিল রোগের শিকার হচ্ছেন চা শ্রমিকরা। বিকলাঙ্গতা, চর্মরোগ, রক্তশুন্যতা, জরায়ু ক্যান্সার, পুষ্টিহীনতাসহ এসব রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন শিশুসহ চা বাগানের নারী ও পুরুষ শ্রমিকরা। পাশাপাশি কুষ্ঠ ও যক্ষা রোগে আক্রান্ত রয়েছেন অনেকেই।
খোলা ও উন্মুক্ত স্থানে মলমূত্র ত্যাগ, মাদকাসক্ত, পুষ্টিকর খাবারের অভাবসহ নানা কারণে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে চা শিল্প জনগোষ্ঠি।
স্থানীয় কয়েকটি চা বাগান ঘুরে দেখা যায়, শ্রমিক কলোনীতে ঘেঁষাঘেঁষি ও ছোট ঘরে এক একটি পরিবারে স্বামী-স্ত্রী সন্তানাদি নিয়ে অপরিচ্ছন্ন ও নোংরা পরিবেশে দিনযাপন করছেন। ঘনবসতি, পরিমিত খাবারের সমস্যা, কোন কোন ক্ষেত্রে গবাদি পশুর সাথে একই ঘরে বসবাস রয়েছে। চা বাগানের নির্দিষ্ট গন্ডির ভেতর থেকে এখনও অনেকেই বাইরে বের হতে পারছে না। কর্মক্ষেত্রেও রোধ, বৃষ্টি, ঝড়-তুফান সবকিছু মাথায় বহন করেই কাজ করতে হয়। নারী শ্রমিকদের জন্য নেই কোন স্যানিটারী লেট্টিনের ব্যবস্থাও। তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় উদাসীন বাগান মালিকরা।
বাগানে কর্মরত অনেক নারী ও পুরুষদের রক্তশুন্যতা, স্বাস্থ্যহীনতা, কুষ্ঠ, যক্ষা, বিকলাঙ্গ, চর্মরোগ, জন্ডিস, জরায়ু ক্যান্সারসহ নানা জটিল রোগের ঝুঁকিতে থাকতে দেখা যায়। প্রতিটি বাগানে বিকলাঙ্গতা, চর্মরোগীসহ জটিল ব্যাধীতে আক্রান্ত রোগী রয়েছেন।
শমশেরনগর চা বাগানের নারায়নটিলার একই লাইনে চারজন বিকলাঙ্গ রোগী রয়েছে। এদের মধ্যে কিশোরী অনুকা চাষা (১৩), বয়োবৃদ্ধ অভিমনি চাষা (৬০), সীমা রেংগট (১৮) ও বাসন্তী গোয়ালা (৩৫)। এছাড়াও কানিহাটি, দেওছড়াসহ বিভিন্ন চা বাগানে এধরণের অনেক রোগী পাওয়া গেছে।
শ্রীমতি চাষা ও মনি গোয়ালা জানান, আমাদের চা বাগানের অনেকেই বিকলাঙ্গ, চর্ম, পুষ্টিহীনতা সহ নানা রোগব্যাধী নিয়েই কাজ করতে হয়।
এদিকে যক্ষা ও কুষ্ঠ রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও কম নয়। হীড বাংলাদেশ কমলগঞ্জের কুষ্ঠ নিয়ন্ত্রণ বিভাগ ও যক্ষা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচী সূত্রে সিলেট বিভাগের চা বাগানে ২০১৯ সনে কুষ্ঠ রোগে আক্রান্ত ছিলেন ৩৬৪ জন। ২০২০ সনের জানুয়ারীতে কুষ্ঠ রোগে আক্রান্ত রোগী ২৫ জন। ২০১৯ সনে যক্ষায় আক্রান্ত সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও সিলেটের চা বাগানে ৩ হাজার ২৫১ জন যক্ষা রোগী রয়েছে। এদের মধ্যে শিশু রয়েছে ১২৬ জন।
হীড বাংলাদেশের যক্ষা, কুষ্ঠ নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের কুষ্ঠ প্রকল্প ইনচার্জ পরেশ চন্দ্র দেবনাথ বলেন, এবছর করোনার কারণে মার্চ থেকে কার্যক্রম সম্ভব হয়নি। চা বাগান শ্রমিকদের বাড়ি ঘরের অবস্থা ও অসচেতনতায় চা বাগানে যক্ষা ও কুষ্ঠ রোগের প্রাদুর্ভাব তুলনামূলক বেশী।
তিনি আরও বলেন, চা বাগানের নির্দিষ্ট একটি গন্ডি ও প্রশাসনের বাইরে গিয়ে শ্রমিকরা চিকিৎসা সুবিধা নিতে গড়িমসি করছে। ফলে চা শ্রমিকদের মধ্যে রোগব্যাধী বেশী।
কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহবুবুল আলম ভূঁইয়া বলেন, হাসপাতালে চা বাগানের শ্রমিকরা আসলে তাদের যথাযথ চিকিৎসা প্রদান করা হয়। তাছাড়া চা শ্রমিকরা যেসব রোগে আক্রান্ত তার সবই হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়।
Related News
কমলগঞ্জে মণিপুরি ভাষা দিবস উদযাপন
Manual7 Ad Code কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে মণিপুরি ভাষা দিবস উদযাপিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষাRead More
কমলগঞ্জে রাজকান্দি বন থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার
Manual6 Ad Code কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার রাজকান্দি সংরক্ষিত বনের দুর্গম পাহাড়ি এলাকাRead More



Comments are Closed