Main Menu
শিরোনাম
সিলেটে দুই ল্যাবে আরো ৮৫ জনের করোনা শনাক্ত         সুনামগঞ্জে করোনায় আক্রান্ত ব্যবসায়ীর মৃত্যু         শাবির ল্যাবে আরও ৪৬ জনের করোনা শনাক্ত         নবীগঞ্জে দুলাভাই-শ্যালিকার পরকীয়ার বলী হলেন মা         শায়েস্তাগঞ্জে মোটরসাইকেল দূর্ঘটনায় নিহত ১         জাফলংয়ে আসা পর্যটকদের ফিরিয়ে দিচ্ছে প্রশাসন         বিশ্বনাথে দুই ছেলের হামলায় পিতা আহত         ধর্মপাশায় নৌকা ডুবে মা-ছেলেসহ ৩জনের মৃত্যু         ছাতকে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মাদ্রাসা ছাত্রের মৃত্যু         দলই চা বাগান খুলে দেয়ার দাবিতে মানববন্ধন         পল্লী বিদ্যুতের লোডশেডিং ও ভুতুড়ে বিল বন্ধের দাবি         গোয়াইনঘাটে প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত ১, আটক ৭        

সিলেটে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিতত, বাড়ছে দুর্ভোগ

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের সুরমা-কুশিয়ারা ও সারি নদীর পানি বাড়ছেই। গত চারদিনের টানা বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সিলেটের সকল নদ-নদীর পানি বাড়ছে। এরমধ্যে সুরমা নদীর পানি সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেল ৩ টায় কানাইঘাট পয়েন্টে বিপৎসীমার ৭৬ সেন্টিমিটার ও সিলেট পয়েন্টে ৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এছাড়াও কুশিয়ারা নদীর পানি ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে ৪৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অন্যদিকে গোয়াইনঘাটের সারি নদীর পানি ৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড সিলেট এসব তথ্য জানিয়েছে।

এদিকে টানা বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা সৃষ্ট বন্যায় সিলেটের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বিশেষ করে সিলেট সদর উপজেলা, সীমান্তবর্তী গোয়াইঘাট, কোম্পানীগঞ্জ, কানাইঘাট, জৈন্তাপুর, ফেঞ্চুগঞ্জ, বিশ্বনাথ, বালাগঞ্জ, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে গেছে। এছাড়াও সুরমা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সিলেট নগরীর বিভিন্ন এলাকাও প্লাবিত হয়েছে।

কয়েকদিনের ব্যাবধানে দ্বিতীয় দফায় সৃষ্ট এ বন্যায় জনজীবনে স্থবিরতা নেমে এসেছে। বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। প্লাবিত এসব এলাকায় বাঁধ ও পাকা রাস্তাসহ বিভিন্ন জায়গায় আশ্রয় নেওয়া লোকজন বিশুদ্ধ পানি, খাদ্য ও শৌচাগারের অভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বন্যা কবলিত এলাকার বাঁধ, পাকা সড়ক ভেঙে যাওয়ায় মানুষ চলাচলে দুর্ভেোগ পোহাতে হচ্ছে।

সোমবার গোয়াইনঘাটে বন্যার পানি কিছুটা কমলেও এখনও নিমজ্জিত রয়েছে অনেক ঘরবাড়ি, স্থাপিত হয়নি জেলা উপজেলার সড়ক যোগাযোগ। শ্রমিক দিনমজুরা বেকার রয়েছেন, গো-খাদ্যের তীব্র সংঙ্কট দেখা দিয়েছে। উপজেলার পিরিজপুর সোনারহাট রাস্থার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। গোয়াইনঘাটে বন্যা স্থায়ী হয়ে গেছে। চলতি মৌসুমে এনিয়ে ২ দফা বন্যার আঘাতে ক্ষতবিক্ষত হয়েছে গোয়াইনঘাটের ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, ফসলের মাঠ। ঘরবাড়ি থেকে পানি নামলেও ফসলের মাঠ আর ভেসে উঠেনি। গোয়াইনঘাটে বিভিন্ন প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ২০টি বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র ঘোষনা করা হলেও বেশীর ভাগই ডুবে থাকে। কোন বন্যা আশ্রয় কেন্দ্রে নেই আক্রান্তদের তাৎক্ষনিক উদ্ধারের ব্যবস্থা।

সিলেট জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, সিলেট জেলার মধ্যে ৫টি উপজেলার একটি পৌরসভা ও ৩৭টি ইউনিয়ন কন্যা কবলিত হয়েছে। এসব বন্যা কবলিত অঞ্চলে ২১৫ মেট্রিক টন চাল, ৫ লাখ টাকা নগদ এবং প্রায় ৯শ’ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।

অন্যদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর সিলেটের আবহাওয়াবিদ সাঈদ আহমদ চৌধুরী বলেন, ‘কানাইঘাট ও ভারতের মেঘালয়ে প্রবল বর্ষণের কারণে সুরমা নদীর পানি বেড়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। অবশ্য আগামী চার-পাঁচ দিন পানি কমতে শুরু করবে। কিন্তু ১৯, ২০, ২১ ও ২২ জুলাই সিলেটে ভারী বর্ষণে আবারও বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।’

আর সিলেটের জেলা প্রশাসক এম কাজী এমদাদুল ইসলাম বলেন, বন্যা কবলিত এলাকাগুলোতে সার্বক্ষণিক খোঁজ-খবর রাখা হচ্ছে। এছাড়া প্রতিনিয়ত প্রয়োজনীয় খাদ্য, নগদ টাকা ও শুকনো খাবার বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বন্যা কবলিত এলাকায় বিদ্যালয়গুলোকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

0Shares





Related News

Comments are Closed