সিলেটে দুই মাসে ৯ হত্যাকান্ড, জনমনে আতঙ্ক
বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: সিলেটের আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি নাজুক হয়ে পড়েছে। একের পর এক ঘটছে হত্যাকাণ্ড। এসব হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শামিল হয়েছে কিশোররাও। রাজনৈতিক ‘বড় ভাই’দের আশ্রয় নিয়ে আইনের চোখে ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে কিশোররা। নগরীসহ সিলেট জেলায় সাম্প্রতিক সময়ে বেড়েছে হত্যাকান্ডের ঘটনা। ঘটছে চুরি, ডাকাতি এবং অসংখ্য ছিনতাইয়ের ঘটনা। এভাবে সিলেটে একের পর এক অপরাধ কর্মকান্ড বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ লোকজনের মাঝে দেখা দিয়েছে আতঙ্ক।
চলতি বছরের ১৬ জানুয়ারি থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত সিলেট নগর ও জেলার বিভিন্ন উপজেলায় নয়টি হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে।
এসব হত্যাকাণ্ড বেশীরভাগই ঘটছে একই কায়দায়। সবকটি হত্যাকাণ্ডে লক্ষ্য করা গেছে, প্রথমে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায় পরিচিতজনরা। এসব ঘটনা ঘটলেও জেলা ও মহানগর পুলিশ বিশেষ কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না। জোরদার হচ্ছে না পুলিশি টহল। যদিও মহানগর পুলিশ থেকে বলা হয়েছে- গোয়েন্দা পুলিশের ষোলটি দল কাজ করছে নগরে। কিন্তু এখন পর্যন্ত অধিকাংশ হত্যাকাণ্ডের কোনো সু-নির্দিষ্ট কারণ বের করতে পারেনি পুলিশ, উদ্যোগী হয়নি বিশেষ কোনো অভিযানে।
পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ জেলার ওসমানীনগর উপজেলায় শুক্রবার (১৫ মার্চ) মোস্তাফিজুর রহমান (১৫) নামের এক কিশোর খুন হয়েছে। সে ওসমানীনগর উপজেলার মান্দারুকা গ্রামের আবদুল মছব্বিরের ছেলে। এঘটনায় একজনকে আটক করেছে থানা পুলিশ।
এরআগে ১৩ মার্চ কোম্পানীগঞ্জের দরাকুল এলাকায় বদরুল আমিন (২০) নামের এক তরুণের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এঘটনায় হত্যাকাণ্ডে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা হয়েছে।
একইদিন সন্ধ্যায় কানাইঘাট উপজেলার ঝিঙ্গাবাড়ী ইউনিয়নের বৃহত্তর ঢাকনাইল এলাকায় এজমালী সম্পত্তির দখল নিয়ে প্রতিপক্ষের হামলায় আমির উদ্দিন (৫০) নামে এক ব্যক্তি খুন হন। তিনি বাখাইরপার গ্রামের মৃত মকরব আলীর পুত্র। এ ঘটনায় কানাইঘাট থানায় মামলা দায়ের হয়েছে।
১২ মার্চ রাতে নগরের মদিনা মার্কেট এলাকায় ছাব্বির আহমদ (২২) নামের আরেক তরুণ ছুরিকাহত হয়ে নিহত হন। এ ঘটনায় ছাব্বিরের বন্ধু সহ ১৮ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করা হয়েছে। পুলিশ দু’জন কলেজছাত্রসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
২৩ ফেব্রুয়ারী গোয়াইনঘাট উপজেলার সাকরপুর গ্রামে সাবুল নম (২৪) নামের এক তরুণের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এঘটনায় হত্যাকাণ্ডে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা হয়েছে।
২৪ ফেব্রুয়ারী রাতে সিলেট নগরের হাউজিং এস্টেট এলাকায় ছুরিকাঘাতে খুন হয় সাহেদ আহমদ (১৬) নামে এক স্কুলছাত্র।
৩১ জানুয়ারী নগরের মদিনা মার্কেট এলাকায় সাহাব উদ্দিন (২৪) নামে এক ফল বিক্রেতা খুন হন। মৃত সাহাব শ্রীরামপুর থানার সুলতানপুরের মোগলাবাজার এলাকার মৃত তৈয়ব আলীর ছেলে।
১৭ জানুয়ারী জেলার কোম্পানিগঞ্জ উপজেলার টিকাডহর গ্রামে আফতাব মিয়া নামে এক যুবক খুন হন। নিহত আফতাব ওই গ্রামের জব্বার মিয়ার ছেলে।
১৬ জানুয়ারি রাত ৮টার দিকে দক্ষিণ সুরমার পিরিজপুর চকেরবাজার এলাকায় সেবুল মিয়া ওরফে রাজা (৩৫) নামে এক রিকশাচালক খুন হন। সেবুল সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার লামাকাজি ইউনিয়নের আকিলপুর গ্রামের করম আলীর ছেলে। তিনি দক্ষিণ সুরমার লাউয়াই এলাকায় রিকশার গ্যারেজে থাকতেন।
এসব হত্যাকান্ডের ব্যাপারে সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহবুবুল আলম বলেন, ‘এসব হত্যাকান্ডগুলো রাজনৈতিক সহিংসতায় ঘটছে না। সকল হত্যাই পারিবারিক। পুলিশ সকল হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা করেছে।’
সিলেট মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) জেদান আল মুসা বলেন , ‘সব ধরনের অপরাধকর্মের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান চলছে। ডিবি পুলিশের ১৬টি টিম এই অভিযান চালাচ্ছে। অপরাধীদের কোনো ছাড় দেয়া হবে না।’
Related News
বিশ্বনাথে স্ত্রীর মামলায় স্বামী গ্রেফতার
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের বিশ্বনাথে স্ত্রীর দায়ের করা মামলায় কছির আলী (৩৮) নামে এক ব্যক্তিকেRead More
বিশ্বনাথে ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাসব্যাপী পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি শুরু
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের বিশ্বনাথে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হয়েছে। সারাদেশের সঙ্গে সমন্বয়Read More



Comments are Closed