ডুয়েলগেজ হচ্ছে সিলেট-আখাউড়া রেলপথ
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: ঢাকার উদ্দেশ্য সিলেট থেকে ট্রেনে উঠেছেন তো টানা ৮/৯ ঘণ্টা শেষ! এবার হয়তো সেই সময়ক্ষেপণের দিন শেষ। কারণ, মিটারগেজ থেকে ডুয়েলগেজে রূপান্তর হচ্ছে আখাউড়া-সিলেট রেলপথ। ১৬ হাজার ১০৪ কোটি ৪৪ লাখ টাকার এ প্রকল্পের আওতায় সিলেট রেল স্টেশনসহ এই রুটের আরও বেশ কয়েকটি রেল স্টেশনকে আধুনিকায়ন করা হবে।
নির্মাণকাজ শেষ হলে এ রুটে বড় কনটেইনার ও যাত্রী পরিবহনে গতি আসবে। ট্রান্স-এশিয়ান রেলওয়ে নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করার টার্গেট নিয়ে প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।
সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ৫ হাজার ৪৫০ কোটি টাকা জোগান দেয়া হবে এবং বাকি ১০ হাজার ৬৫৪ কোটি ৩৬ লাখ টাকা ঋণ দেবে চীন সরকার। ২০২৫ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার টার্গেট রয়েছে রেলওয়ের।
প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের প্রধান মো. এনায়েত হোসেন ৭ মার্চ বৃহস্পতিবার বলেন, প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। আগামি মঙ্গলবার একনেক বৈঠকে প্রকল্পটি উপস্থাপন করা না হলেও পরের বৈঠকে এটি উপস্থাপন করা হতে পারে। ব্যয় বেশি হচ্ছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে গেলে ব্যয় এরকমই হবে। এতে ভূমি অধিগ্রহণের বিষয় রয়েছে। তাছাড়া সিলেট রেল স্টেশনটি বদলে যাবে। পাশাপাশি অন্য স্টেশনগুলোকেও আধুনিকায়ন করা হবে। তাছাড়া রেল চলাচল অব্যাহত রেখেই বিশেষ পদ্ধতিতে ডুয়েলগেজ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। রেলপথ তো আর বন্ধ রাখা যাবে না।
ব্যয় বৃদ্ধির আরও একটি কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, এ সেকশনে যেসব ট্রেন চলবে, সেগুলো ইঞ্জিন পরিবর্তনে বর্তমান পদ্ধতি আর থাকবে না। অটো সিস্টেম সংযোজন করা হবে। তাছাড়া রেলপথে যেসব পাহাড় রয়েছে, সেগুলো যাতে ধসে না পড়ে, সেজন্য রিটেইনিং ওয়াল দেয়া হবে। এসব কারণে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে এত টাকা প্রয়োজন হবে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ব্রডগেজ চালু হওয়ার পর মিটারগেজটি তুলে ফেলা হবে। চীন সরকারের কাছ থেকে জি টু জি ভিত্তিতে ঋণ সহায়তা পাওয়া যাবে। প্রকল্পের প্রস্তাবে রেলপথ মন্ত্রণালয় বলেছে, সিলেট দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগীয় শহর। এ অঞ্চলটি তেল, গ্যাস, ক্যালসিয়াম কার্বনেট প্রভৃতি খনিজসম্পদের সবচেয়ে বড় উৎস। চা উৎপাদনের প্রধান কেন্দ্রও।
ব্রিটিশ শাসনামলে তৎকালীন আসাম বেঙ্গল রেলওয়ে আসাম ও বন্দরনগরী চট্টগ্রামের মধ্যে কৌশলগত সংযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে ১৮৯৮ সালে প্রথম করিমগঞ্জ-শাহবাজপুর-কুলাউড়া-আখাউরা-চট্টগ্রাম রেলওয়ে সেকশন স্থাপন করে।
পরে ১৯১৫ সালে কুলাউড়া-সিলেট সেকশনটি স্থাপন করা হয়। সময়ের পরিক্রমায় অর্থনীতি, পর্যটন এবং অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক কানেকটিভিটির কারণে এ সেকশনটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ রুটে পরিণত হয়। শাহবাজপুর-কুলাউড়া-আখাউড়া সেকশনটি ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়ের সাব-রুট। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে রেল সংযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে ভারতীয় ক্রেডিট লাইনের আওতায় কুলাউড়া-শাহবাজপুর সেকশনটি পুনর্বাসন করা হচ্ছে। এ অংশটি বাংলাদেশের শাহবাজপুরের সঙ্গে ভারতের মহিশ্মশানকে যুক্ত করবে।
অন্যদিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম করিডোরকে ডুয়েলগেজে রূপান্তররের কাজ চলমান রয়েছে। আখাউড়া-লাকসাম ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন নির্মাণকাজও শুরু হয়েছে। এ করিডোরের বাকি অংশ ডুয়েলগেজে রূপান্তরের জন্য একটি সমীক্ষা প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া ভারতীয় অনুদানে আগরতলা ও আখাউড়ার মধ্যে ১০ কিলোমিটার রুটে আরেকটি ডুয়েলগেজ লিংক স্থাপনের প্রক্রিয়া চলমান আছে। এ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে আখাউড়া-সিলেট সেকশনটি ডুয়েলগেজে রূপান্তরের জন্য প্রকল্পটি প্রস্তাব করা হয়েছে। সূত্র: যুগান্তর
Related News
সাত মাসে ১৫ হাজার ৭১৭ শিশু নিখোঁজ, খোঁজ মেলেনি ২০৩৮ জনের: পুলিশ
Manual7 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সারা দেশে ১৫Read More
আগস্টে ৫৫ নারী-শিশু হত্যা, ৫৪ জনকে ধর্ষণ
Manual2 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: চলতি বছরের আগস্ট মাসে বাংলাদেশে অন্তত ৫৫ নারী ও কন্যাশিশুRead More



Comments are Closed