দেশজুড়ে অবৈধ ক্লিনিকের বিরুদ্ধে অভিযান, ২৫০টি প্রতিষ্ঠান বন্ধ
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: অবৈধ ও মানহীন হাসপাতাল, ক্লিনিক, ব্লাড ব্যাংক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে কঠোর অভিযান শুরু করেছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে গত পাঁচ মাসে সারা দেশে ২৫০টির বেশি অবৈধ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একই অভিযানে সিলেট বিভাগে ৮টি অবৈধ প্রতিষ্ঠান চলার তথ্য উঠে এসেছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের ২০২৪ সালের এক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে ১ হাজার ২৮৫টি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার অবৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছে। এর মধ্যে সিলেট বিভাগে রয়েছে ৮টি।
বিভাগভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি অবৈধ প্রতিষ্ঠান ঢাকা বিভাগে ৪১৫টি। এরপর ময়মনসিংহে ২৫২, চট্টগ্রামে ২৪০, রংপুরে ১১১, খুলনায় ১৫৬, রাজশাহীতে ৫৫ এবং বরিশালে ৪৮টি রয়েছে।
অবৈধ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান বন্ধে চলতি বছরের ২৯ মার্চ থেকে নিয়মিত অভিযান শুরু করে স্বাস্থ্য বিভাগ। বিভিন্ন অভিযানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনও উপস্থিত ছিলেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক ডা. মো. নূরুল ইসলাম জানান, ইতোমধ্যে সারা দেশে প্রায় ৫ হাজার অবৈধ ও মানহীন হাসপাতাল, ক্লিনিক, ব্লাড ব্যাংক এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান চালানো হয়েছে। এসব অভিযানে ২৫০টির বেশি অবৈধ ক্লিনিক বন্ধ করা হয়েছে। আরও ২০০টি ক্লিনিককে সংশোধনের জন্য সময় দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোকেও নির্দিষ্ট সময় দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৬ হাজার ক্লিনিক লাইসেন্স নবায়ন করেছে। আরও ২ থেকে ৩ হাজার আবেদন জমা পড়েছে, যেগুলো যাচাই-বাছাই করে অনুমোদন দেওয়া হবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, স্বাস্থ্যখাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, মানুষের আস্থা বাড়ানো এবং নিরাপদ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতেই এ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে লাইসেন্সবিহীন কার্যক্রম, অনিয়ম ও নিম্নমানের চিকিৎসাসেবার অভিযোগ থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
অভিযানের অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠানগুলোর লাইসেন্স যাচাই, চিকিৎসা সরঞ্জামের মান পরীক্ষা, স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ এবং চিকিৎসকদের বৈধ সনদপত্র যাচাই করা হচ্ছে। অনিয়ম পাওয়া গেলে জরিমানা, সিলগালা কিংবা কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার মতো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ভুয়া চিকিৎসক, নার্স ও মেডিকেল টেকনিশিয়ানদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, কোনো হাসপাতাল বা ক্লিনিক ন্যূনতম স্বাস্থ্যসেবার মান বজায় রাখতে ব্যর্থ হলে তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, রাজধানী থেকে শুরু হওয়া অভিযান ধাপে ধাপে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত করা হয়েছে। অবৈধভাবে হাসপাতাল বা ক্লিনিক পরিচালনাকারীদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, দেশজুড়ে অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে বিভিন্ন হাসপাতালের অনিয়ম দূর করে স্বাস্থ্যখাতে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনা হবে।
Related News
দেশজুড়ে অবৈধ ক্লিনিকের বিরুদ্ধে অভিযান, ২৫০টি প্রতিষ্ঠান বন্ধ
Manual4 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: অবৈধ ও মানহীন হাসপাতাল, ক্লিনিক, ব্লাড ব্যাংক ও ডায়াগনস্টিকRead More
বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে রাত ৮টার মধ্যে বন্ধ হবে শপিংমল-মার্কেট
Manual7 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে দেশের সবRead More



Comments are Closed