বিএনপি নেতা নুরুল হুদার প্রার্থীতা প্রত্যাহার
বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: দলের সিদ্ধান্তে আস্থা রাখলেন সিলেট সদর উপজেলায় চেয়ারম্যান প্রার্থী জেলা বিএনপির সহ সভাপতি শাহজামাল নুরুল হুদা।
তার মতে, দল যেখানে এই সরকারের অধীনে কোন নির্বাচনে অংশ না নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। সেখানে বিএনপির একজন দায়িত্বশীল কর্মী হিসেবে সেই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে হচ্ছে তাকে। তৃণমূল নেতাকর্মীরা বিপুল উৎসাহ যোগালেও দলের আহবানে সাড়া দিয়ে উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেছেন তিনি।
বুধবার (২৭ ফেব্রয়ারি) বিকেলে রিটানিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মমোনয়নপত্র প্রত্যাহার করার পর সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি শাহজামাল নুরুল হুদা।
তিনি বলেন, রাতের আধারে এদেশের মানুষের ভোটের অধিকার কিভাবে হরণ করা হয়েছে। দেশের গণমাধ্যমকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ জনগণও এর স্বাক্ষি। ফলে এখন আর সাধারণ ভোটাররা ভোট কেন্দ্রে যেতে আগ্রহ নেই।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নুরুল হুদা আরো বলেন, রাজনৈতিক অঙ্গনে তৃণমুলের সঙ্গে রয়েছে তার গভীর সম্পর্ক। যে কারণে বর্তমান সরকারের নির্যাতন ও দায়ের করা একাধিক মিথ্যা মামলায় কারাবরণ করেছেন।সর্বশেষ বিতর্কিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক আগমুহর্তে গত ২৪ নভেম্বর আম্বরখানাস্থ ব্যক্তিগত কার্যালয় থেকে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। এরপর মহামান্য হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়ে বের হন। তিনি বিগত ২০০৯ ও ২০১৪ সালে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সিলেট সদর উপজেলা থেকে চেয়ারম্যান প্রার্থী ছিলেন। বিশেষ করে ২০১৪ সালের নির্বাচনে তিনি দলীয় সমর্থন নিয়ে বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে থাকা স্বত্বেও বাকশালিরা নানা কুট কৌশলের মাধ্যমে আমার বিজয় ছিনিয়ে নিয়েছিলো।
তিনি বলেন, জনগণের আশা-আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটাতে এবার সদর উপজেলা পরিষদ নির্বচানে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন পত্র দাখির করেন তিনি। এরপর থেকে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা আমাকে নানাভাবে দলের সিদ্ধান্ত মেনে নেয়ার আহবান জানান। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ শাহজাহান, বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদসহ শীর্ষ নেতৃবৃন্দ আমার সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার আহবান জানান। যে কারণে তিনি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।
নুরুল হুদা বলেন, দেশ ও জাতি এই অবৈধ সরকারকে ক্ষমা করবে না। কেননা, এই সরকার জিয়া পরিবারকে ধবংসের ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে একের পর এক মিথ্যা সাজানো মামলায় কারাদন্ড দিচ্ছে। খালেদা জিয়ার সঙ্গে চরমভাবে অমানবিক, নিষ্ঠুর, নির্মম আচরণ করছে বর্তমান সরকার। গণআন্দোলনের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে এদেশের জনগণ কারাগার থেকে মুক্ত করে আনবে। বিএনপির একজন কর্মী হিসেবে দলের চেয়ারপার্সনের মুক্তির দাবি জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন-জেলা বিএনপির সহ সভাপতি হাজির উদ্দিন চেয়ারম্যান, উপদেষ্টা সৈয়দ আহমদ চেয়ারম্যান, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল খালিক, জেলার সদস্য রফিকুল ইসলাম, আব্দুর রহমান, এনাম হোসেন, শফিকুর রহমান, মনির উদ্দিন, ওয়ারিস আলী, সদর উপজেলার হাটখোলা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আকবর আলী, বিএনপি নেতা মাসুক আহমদ, যুবদল নেতা আঙ্গুর আলম, জালালাবাদ থানা স্বেচ্ছাসেবক দল সভাপতি সজীব আহমদ, বিএনপি নেতা আজিজুর রহমান, যুবদল নেতা আব্দুস সালাম, বাবুল আহমদ, আলা মিয়া, লাল মিয়া, রুস্তুম আলী, বিল্লাল মিয়া প্রমুখ।
Related News
১১ দলীয় ঐক্যের দ্বিতীয় লংমার্চের তারিখ ঘোষণা, দাবিতে নতুন দফা যোগ
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যজোটের ছয় দফা দাবি এখন রূপান্তরিতRead More
জামিনে মুক্ত বিদিশা সিদ্দিক
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: প্রতারণার মামলায় দুই বছরের কারাদণ্ড পাওয়া সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের প্রাক্তনRead More



Comments are Closed