সিলেটের কৃতিপুরুষ এম সাইফুর রহমানের ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের সাবেক অর্থমন্ত্রী ও বিএনপির প্রবীণ নেতা এম সাইফুর রহমানের ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ শনিবার। ২০০৯ সালের ৫ সেপ্টেম্বর রমজান মাসে ঢাকা থেকে সিলেটে ফেরার পথে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন তিনি।
মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সিলেট ও মৌলভীবাজারে তার কবর জিয়ারত, দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
মৌলভীবাজারের বাহারমর্দনে তার পারিবারিক বাড়িতে আজ কবর জিয়ারত ও পুষ্পস্তবক অর্পণের কর্মসূচি রয়েছে। দুপুর ১২টায় পরিবার ও এম সাইফুর রহমান স্মৃতি পরিষদের উদ্যোগে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে গতকাল শুক্রবার সকালে বাহারমর্দনে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসাশিবির অনুষ্ঠিত হয়। একই দিন বাদ জুমা মৌলভীবাজার পশ্চিম বাজার জামে মসজিদে জেলা বিএনপির উদ্যোগে এম সাইফুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল হয়।
স্বাধীনতার পর সংকটাপন্ন বাংলাদেশের অর্থনীতিকে পুনর্গঠনে এম সাইফুর রহমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। অর্থমন্ত্রী হিসেবে তার দীর্ঘ দায়িত্বকালে দেশের রাজস্বব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় বেশ কিছু বড় পরিবর্তন আসে। তার সময়েই মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট চালু হয়।
জাতীয় সংসদে ১২ বার বাজেট উপস্থাপন করে তিনি দেশের ইতিহাসে দীর্ঘ সময় বাজেট উপস্থাপনের একটি উল্লেখযোগ্য রেকর্ড গড়েন। ২০০৬ সালের ৮ জুন জাতীয় সংসদে তিনি তাঁর দ্বাদশ বাজেট উপস্থাপন করেন।
১৯৭৬ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বাণিজ্য উপদেষ্টা হিসেবে সরকারি দায়িত্বে যুক্ত হন এম সাইফুর রহমান। পরবর্তী সময়ে বাণিজ্য, পরিকল্পনা ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ১৯৭৯ সালে মৌলভীবাজার-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
১৯৮২ সালে সামরিক সরকারের সময় গ্রেপ্তার হয়ে প্রায় সাত মাস কারাগারে ছিলেন তিনি। পরে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। ১৯৯১ সালে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সরকার গঠিত হলে তিনি অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পান এবং ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১ সালে বিএনপি সরকার গঠন করলে আবারও অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান তিনি।
সিলেটের উন্নয়ন ও প্রশাসনিক গুরুত্ব বাড়াতে এম সাইফুর রহমানের ভূমিকার কথা স্থানীয়ভাবে বিশেষভাবে স্মরণ করা হয়। ১৯৯৪ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর সিলেটের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত জনসভায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া সিলেট বিভাগ ঘোষণা করেন। এর পেছনে এম সাইফুর রহমানের দৃঢ় অবস্থানের কথা বিভিন্ন সময় আলোচিত হয়েছে।
তার ঘনিষ্ঠজন ও সাবেক সিলেট সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর ভাষ্য, জিয়াউর রহমানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে বিএনপিতে যোগ দেওয়ার সময় সিলেটের উন্নয়নের বিষয়টি এম সাইফুর রহমান গুরুত্বের সঙ্গে দেখেছিলেন। সিলেটের অবকাঠামো ও যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তার অবদান স্থানীয় মানুষের কাছে এখনো স্মরণীয় বলে তিনি মনে করেন।
অর্থমন্ত্রী হিসেবে এম সাইফুর রহমান বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ), এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক ও ইফাদের বিভিন্ন সভা ও সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন।
এছাড়া কমনওয়েলথ, জাতিসংঘ বাণিজ্য ও উন্নয়ন সম্মেলন (আঙ্কটাড), এসকাপসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, জাপান, ভারত, কানাডা, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনাতেও তিনি বাংলাদেশ দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন।
১৯৯৫ সালে বসনিয়া বিষয়ে ওআইসি সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন তিনি। একই বছর কলম্বিয়ার কার্টাহেনায় জোটনিরপেক্ষ দেশগুলোর সরকারপ্রধানদের সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধি হিসেবেও অংশ নেন।
২০০৫ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে অংশ নেন এম সাইফুর রহমান। একই সময়ে ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংকের সভায় বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন তিনি।
১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ ও সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজার-৩ আসন থেকে নির্বাচিত হন এম সাইফুর রহমান। ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি মৌলভীবাজার-৩ ও সিলেট-১—দুই আসন থেকেই জয়ী হন। পরে মৌলভীবাজার-৩ আসনটি ছেড়ে দিলে উপনির্বাচনে তার জ্যেষ্ঠ ছেলে এম নাসের রহমান সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
১৯৯১-৯৬ এবং ২০০১-০৬ মেয়াদে তিনি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বিকল্প চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। অর্থনীতি, পরিকল্পনা, সরকারি ক্রয়, প্রশাসনিক সংস্কার এবং সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে গঠিত মন্ত্রিসভা কমিটির দায়িত্বও পালন করেন তিনিদীর্ঘ রাজনৈতিক ও সরকারি দায়িত্বের পাশাপাশি অর্থনৈতিক সংস্কারে ভূমিকার কারণে এম সাইফুর রহমান বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ একটি নাম হিসেবে স্মরণীয় হয়ে আছেন। তার ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকীতে আজ বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করবেন স্বজন, দলীয় নেতা-কর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা।
Related News
৮ মাসে বিএনপি সরকারের তিন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সরকার গঠনের মাত্র আট মাসের মাথায় বিএনপি সরকারের তিনজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন।Read More
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে একক প্রার্থী দেবে বিএনপি
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এককভাবে প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলRead More



Comments are Closed