Main Menu

সরিষা চাষে ভাগ্য পরিবর্তন করেছেন আনোয়ার

মোঃ রিমন চৌধুরী, নীলফামারী জেলা প্রতিনিধিঃ নীলফামারীর ডোমারে সরিষা চাষ করে ভাগ্য পরিবর্তন করেছেন কৃষক আনোয়ার হোসেন।
তিনি দারিদ্রতাকে বিদায় দিয়ে সংসারে ফিরিয়ে এনেছেন সচ্ছলতা। জীবন যুদ্ধে তার এই সফলতার মূলে সরিষা চাষ।

নীলফামারী জেলার ডোমার উপজেলার জোড়াবাড়ী ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের কাওলাপাড়া গ্রামে এমন দৃশ্যটি চোখে পড়ে বৃহস্পতিবার সকালে। কথা হয় উক্ত গ্রামের আব্দুল কাদেরের পুত্র আনোয়ার হোসেনের সাথে। নিজের পিতার পৌত্রিক সুত্রে ৩ শতকের উপর বসতবাড়ী করে স্ত্রী মনিজা ও ৩ কন্যা সন্তান নিয়ে বসবাস করেন। অন্যের কিছু জমি চুক্তিতে নিয়ে চাষ আবাদ করে কোন রকম চলে তার সংসার জীবন।

দারিদ্রতা আর হতাশা যখন তার নিত্য দিনের সঙ্গী, পিতার সামান্য জমিতে যখন তার পেটের ভাত যোগানোই দায়, ঠিক সেই সময় প্রতিবেশীর পরামর্শে সরিষা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেন। গত বছর অপরের ১ বিঘা জমিতে সরিষা চাষ শুরু করেন আনোয়ার। সে বছরে ভাল ফলনে ব্যাপক সাড়া পায়। এ বছর আবারো অপরের জমি চুক্তি নিয়ে প্রায় ১ একর জমিতে সরিষা আবাদ করেছেন তিনি। এতে তার প্রায় ৩০ হাজার টাকার মতো আয় হবে বলে আশা করেন।

এলাকা ঘুড়ে দেখা যায়, বেশ কিছু কৃষক সরিষা আবাদ করেছে তবে, আনোয়ার ও তার স্ত্রী মনিজা বেগম সারাক্ষণ সরিষা চারার পরিচর্চা ও যত্ন করায়, অন্যের চেয়ে তাদের সরিষা বাগানটি বেশ সতেজ হয়েছে।

ডোমার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আবু জাফর জানান, উপজেলায় এবার ৩৮৫ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে। ৪৪০ জন কৃষককে ১কেজি করে বীজ, ২কেজি জিএপি সার, ১কেজি পটাশ বিনা মূল্যে দেয়া হয়েছে। প্রদর্শনীর জন্য ৪৩জন কৃষক প্রায় ৪৯ একর জমিতে সরিষা চাষ করছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে এবার বাম্পার ফলনের আশা করেন। উপজেলার বেশ কয়েকটি জায়গার মাটি সরিষা চাষের জন্য উপযুক্ত বলে জানান তিনি। সঠিক চাষবাস পদ্ধতি অনুসরণ ও বাজারজাতের ব্যবস্থা থাকলে এ অঞ্চলে সরিষা চাষ দিন দিন বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশা করেন।

উপজেলায় কৃষিতে সরিষা চাষ নতুন মাত্রা যোগ হবে এমনটাই মনে করছে এলাকার কৃষক। সরকারী পৃষ্টপোষকাতা পেলে কৃষিতে সরিষা চাষ নতুন মাত্রা যোগ হবার সম্ভাবনা রয়েছে বলে অনেক কৃষক ধারনা করেন।

Share





Related News

Comments are Closed