Main Menu

শমশেরনগরে রেলওয়ের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান

Manual3 Ad Code

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগরে বাংলাদেশ রেলওয়ের সম্পত্তিতে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। সিলেট-আখাউড়া রেল সেকশনের জনগুরুত্বপূর্ণ শমশেরনগর রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় বাংলাদেশ রেলওয়ের বিভাগীয় ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. নজরুল ইসলাম এর নেতৃত্বে বুধবার (১৬ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় শুরু হয়ে এ অভিযান চলে বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত।

শমশেরনগর রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন রেলওয়ের নিজস্ব সম্পত্তিতে কিছু অসাধু ব্যক্তি কোনো প্রকার অনুমতি ছাড়াই দোকানসহ বিভিন্ন স্থাপনা ও কৃষি জমি লিজ নিয়ে পাকা বাসাবাড়ি তৈরি করেছে। বিষয়টি নজরে আসলে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করা হয়। উচ্ছেদ অভিযান শুরু হলেও বুলডোজার ও পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় এক একর পরিমাণ জমিতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। বুলডোজার ও জনবল নিয়ে আগামী একমাসের মধ্যে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান আবার শুরু হবে। তবে যতক্ষণ না উচ্ছেদ শেষ হবে, ততক্ষণ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

কৃষি লিজ নিয়ে পাকা গৃহ নির্মাণ, স্টেশনের প্লাটফর্ম ঘেঁষে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান স্থাপনের অভিযোগে আংশিক উচ্ছেদ করা হয়। তবে উচ্ছেদ কার্যক্রমে গরিব নিরীহ লোকেরা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন।

বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় শমশেরনগর রেলস্টেশন এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, বাংলাদেশ রেলওয়ের ভূসম্পত্তি বিভাগ, রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য (আরএমপি), শমশেরনগর ফাঁড়ির পুলিশ, শ্রীমঙ্গল ও কুলাউড়া জিআরপি থানা পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতিতে উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু হয়। শমশেরনগর রেল স্টেশনের পশ্চিম পার্শ্বের কৃষিজমি লিজ নিয়ে ইটের তৈরি পাকা দেয়ালের গৃহ নির্মাণ করে ভাড়া নিয়ে বসবাস করছেন বিভিন্ন শ্রেণি পেশার লোক।

Manual5 Ad Code

এদিকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে মঙ্গলবার রাতে মাইক যোগে প্রচারণা করা হয়। তবে বুধবার সকালে উচ্ছেদ অভিযানের সময়ে বসবাসরত লোকদের মধ্যে আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা দেখা দেয়। কেউ কেউ তড়িঘড়ি মালামাল নিয়ে রাস্তার আশপাশে অবস্থান নেন। অভিযানকালে নবনির্মিত পাকা দেয়ালের তিনটি বসত ঘর, স্টেশনের রেলক্রসিং এলাকায় ছোট ছোট কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং সিএনজি-অটোরিক্সা চালক সমিতির অফিস উচ্ছেদ করা হয়।

স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল রেলওয়ের ভূমি লিজ দেখিয়ে যুগযুগ ধরে দখল ও বাণিজ্য চালিয়ে আসছে। রেল স্টেশনের দু’পাশে পাকা দেয়ালের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে। একটি সিন্ডিকেট চক্র রেলওয়ের ভূমিতে প্রতিষ্ঠান গড়ে জমজমাট বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। সিলেট-আখাউড়া সেকশনের ভানুগাছ, শ্রীমঙ্গল, কুলাউড়াসহ বিভিন্ন স্থানে রেলয়ের ভূমি দখলে নিয়ে এভাবে অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠছে। এসব বিষয়ে ইতিপূর্বে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদও প্রকাশ হয়। তবে আকস্মিকভাবে উচ্ছেদ অভিযানে নিরীহ লোকজন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

Manual2 Ad Code

এদিকে অভিযানকে সাধুবাদ জানিয়ে শমশেরনগর ইউপি চেয়ারম্যান জুয়েল আহমদ বলেন, বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তিরা কৃষি লিজের নামে রেলওয়ের জমি অধিগ্রহণ করে প্রলোভন দিয়ে নিরীহ গরিব মানুষের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। শমশেরনগর রেলওয়ের জমিতে প্রায় শতাধিক গরিব পরিবার রয়েছে। এসব গরিব লোকেরা সহায় সম্বল হারিয়ে এখানে আশ্রয় নিয়েছে। তবে উচ্ছেদ অভিযানের পূর্বে নিরীহ গরিব লোকদের পুনর্বাসন এবং তাদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেয়া টাকা উদ্ধারের প্রতি সংশ্লিষ্টদের কাছে তিনি দাবি জানান।

Manual2 Ad Code

বাংলাদেশ রেলওয়ের বিভাগীয় ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. নজরুল ইসলাম এর নেতৃত্বে উচ্ছেদ অভিযানে রেলওয়ের ঢাকাস্থ সহকারী ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা অহিদুন নবী, কানুনগো আমিন উদ্দীন, রেলওয়ের নিরাপত্তা বাহিনী সিলেট এর মো. মাহতাব উদ্দীন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

রেলওয়ের কুলাউড়া অঞ্চলের সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম বলেন, ইতিপূর্বে সরেজমিন পরিদর্শন করে এ বিষয়ে অভিযোগ এবং সংবাদপত্রে রিপোর্টের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। ঢাকা-সিলেট রেলপথে ডবল লাইন নির্মাণ করা হবে। পর্যায়ক্রমে এই সেকশনের সবগুলো অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে।

Manual5 Ad Code

অভিযান বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের বিভাগীয় ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. নজরুল ইসলাম বলেন, কৃষিজমি লিজ নিয়ে অবৈধভাবে বাসাবাড়ি স্থাপন, জমি নিয়ে মামলা এবং সংবাদ মাধ্যমে এ সম্পর্কিত সংবাদ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশের পর এই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে অভিযানের পূর্বে বসবাসরতদের মালামাল সরিয়ে নিতে জানানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, অবৈধভাবে স্থাপিত উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে। জনবল ও বোলডোজার পাওয়ার পর পর্যায়ক্রমে সবক’টি স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে।

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code