নির্মাণ হচ্ছে কুলাউড়া-শাহবাজপুর ও আখাউড়া-আগরতলা রেলপথ
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশ ও ভারতের যোগাযোগব্যবস্থা আরো সহজ করতে নির্মাণ করা হচ্ছে আখাউড়া-আগরতলা ও কুলাউড়া-শাহবাজপুর ডুয়েলগেজ রেলপথ।
সোমবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রেলপথ দুটির নির্মাণকাজের উদ্বোধনের কথা রয়েছে।
আখাউড়া-আগরতলা রেলপথটি নতুন করে নির্মাণ করা হলেও কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেলপথটি এর আগে চালু ছিলো। ২০০২ সালের ৭ জুলাই রেলপথটি বন্ধ করে দিয়েছিল রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। ফের রেলপথ দুটি নির্মাণের ফলে বাংলাদেশ যুক্ত হবে ট্রান্সএশিয়ান রেল নেটওয়ার্কের সঙ্গে।
এদিকে রেলপথ দুটি নির্মাণ করায় সংশ্লিষ্ট এলাকায় বইছে আনন্দের বন্যা।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের পর ভারতের ত্রিপুরা এবং বাংলাদেশের কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার একই কৃষ্টি ও সংস্কৃতির জনসাধারণের মধ্যে আন্তঃদেশীয় সহজ যোগাযোগব্যবস্থার দরকার অনুভূত হয়। ২০১০ সালের ১২ জানুয়ারি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরকালে দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগে যৌথ ইশতেহার ঘোষিত হয়। এর পরই ২০১৩ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি আখাউড়া ও আগরতলার মধ্যে ডুয়েলগেজ রেলপথ নির্মাণে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়। ২০১৬ সালের ১৬ আগস্ট প্রকল্পটি অনুমোদন দেয় একনেক।
সূত্র আরো জানায়, আখাউড়া-আগরতলা রেলপথটি নির্মিত হচ্ছে ভারত সরকারের অনুদানে। এর মধ্যে বাংলাদেশ অংশের ১০ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণ করবে ভারতীয় প্রতিষ্ঠান মেসার্স টেক্সমাকো রেল অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড। রেলপথটি হবে গঙ্গাসাগর রেলস্টেশন থেকে সীমান্তবর্তী শিবনগর মৌজা পর্যন্ত। এ জন্য প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৭৭ কোটি ৮১ লাখ ১৮ হাজার টাকা। এর মধ্যে ভারত সরকারের অনুদান ৪২০ কোটি ৭৫ লাখ টাকা।
অপরদিকে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেলপথটি ২০০২ সালের ৭ জুলাই বন্ধ করে দেয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। ১৯১০ সালে চালু হওয়া ঐতিহাসিক রেলপথটি আবার চালু করতে প্রকল্প হাতে নেয় বাংলাদেশ রেলওয়ে। ৫৩ কিলোমিটার ডুয়েলগেজ রেলপথটি নির্মাণে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৭৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এটি বাস্তবায়িত হবে ভারতীয় নমনীয় ঋণে (এলওসি)। ২০১৫ সালের ২৬ মে প্রথম সংশোধিত প্রকল্পটি অনুমোদন দেয় একনেক। মিটারগেজ সংস্কারের জন্য ২০১১ সালে কুলাউড়া-শাহবাজপুর সেকশনটি প্রকল্প ছক অনুমোদিত হয়। পরে ২০১৫ সালের ২৬ মে মিটারগেজের পরিবর্তে ডুয়েলগেজে রূপান্তরের জন্য প্রস্তাবটি অনুমোদন দেয় একনেক।
এ রেলপথ রেলের নিজস্ব জমিতে নির্মিত হবে। তাই ভূমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন হচ্ছে না। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে ভারতের কালিন্দি রেল। প্রকল্পের আওতায় নির্মাণ করা হবে ৫৯টি ছোট-বড় সেতু ও ছয়টি স্টেশন (জুড়ী, দক্ষিণভাগ, কাঁঠালতলী, বড়লেখা, মুড়াউল ও শাহবাজপুর)। ২০১৫ সালে কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেলপথ অংশের পুনর্বাসনে ভারতীয় প্রতিষ্ঠান বালাজি রেলরোড সিস্টেমস লিমিটেডকে পরামর্শক নিয়োগ দেয় রেলপথ মন্ত্রণালয়।
বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক আমজাদ হোসেন জানান, ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সঙ্গে বাংলাদেশের যোগাযোগ সহজ হবে। রেলপথের মাধ্যমে সেভেন সিস্টার্সের যাতায়াত সহজ করতে সরকারের এ উদ্যোগের সুফল ভোগ করবে দেশের জনগণ। রপ্তানি পণ্যের চাহিদাও বেড়ে যাবে অনেক বেশি।
Related News
কুলাউড়ায় খাসিয়া পুঞ্জিতে ৮ হাজারের অধিক পানগাছ কর্তন
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নে অবস্থিত নার্সারি খাসিয়া পুঞ্জিতে ভয়াবহ এক হামলারRead More
কমলগঞ্জে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের বৃক্ষরোপন ও চারা বিতরণ
কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি: জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা, পরিবেশ সংরক্ষণ ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতকরণে নির্বাচনীRead More



Comments are Closed