Main Menu

ওসমানীনগরে বিদ্যুতের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ

Manual2 Ad Code

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: বিদ্যুতের দাবিতে সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার গোয়ালাবাজারে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা।

শনিবার (৯ জুন) বেলা দেড়টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত ঘন্টাব্যাপী সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখা হয়।

এতে মহাসড়কে শতশত যানবাহন আটকা পড়ে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। পরে বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।

Manual2 Ad Code

সড়ক অবরোধের খবর পেয়ে ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহীদ উদ্দিন ঘটনাস্থলে যান। ওসি বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের সাথে আলাপ করলে বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের আশ্বাস দিলে বিক্ষুব্ধ জনতা অবরোধ তুলে নেয়।

জানা যায়, বিগত এক মাসের অধিক সময় এলাকার কয়েক হাজার গ্রাহক নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। ভুক্তভোগী বিদ্যুৎ গ্রাহকদের অভিযোগ- রমজান শুরুর পর সন্ধ্যার পূর্ব মুহুর্ত থেকে পরদিন সকাল ৮ থেকে ১০টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিপর্যয় অব্যাহত থাকে। ১৪-১৫ ঘন্টার দীর্ঘ এই সময়ে গ্রাহকরা তিন ঘন্টাও বিদ্যুৎ সুবিধা পান না। ফলে জ্যৈষ্ঠের এই তীব্র দাবদাহের মধ্যে ইফতার, তারাবীহ ও সেহরীতে মানুষের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

সিলেট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১’র আওতাধীন কাশিকাপনস্থ বালাগঞ্জ জোনাল অফিস, বালাগঞ্জ সদরস্থ এরিয়া অফিস, মাদরাসা বাজার অভিযোগ কেন্দ্র, ওসমানীনগরের সাদিপুর অভিযোগ কেন্দ্র, উমরপুর অভিযোগ কেন্দ্র রয়েছে। কিন্তু বিদ্যুতের চলমান এই বিপর্যয়ে ভূক্তভোগী গ্রাহকরা সংশ্লিষ্ট অফিসগুলো থেকে কাঙ্খিত সেবা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ ওঠেছে। গ্রাহকদের অভিযোগ- সংশ্লিষ্ট এসব অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও অফিসিয়াল মোবাইল নাম্বারে কল দিলে সেবা পাওয়া তো দূরের কথা বরং উল্টো তুচ্ছ তাচ্ছিল্য ও হেনস্থার শিকার হতে হয়।

Manual2 Ad Code

গ্রাহকরা জানান- ওসমানীনগরের উমরপুর ইউনিয়নের মোল্লাপাড়া, হামতনপুর, সিকন্দরপুর, কামালপুর, মাধবপুর, হাবসপুর, মজলিসপুর, মান্দারুকা, আব্দুল্লাপুর, মামনপুর, গোয়ালাবাজার ইউনিয়নের দত্তগ্রাম, নিজ করনসী, জায়ফরপুর, জহিরপুর, তেরহাতী, নোয়ারাই, ভেরুখলা, ভাগলপুর, সাদিপুর ইউনিয়নের মোবারকপুর, লামা গাভুরঠিকি, হলিমপুর, গাভুরঠিকি, ইব্রাহীমপুর, মঙ্গলপুর, তাজপুর ইউনিয়নের মোল্লাপাড়া, চরইসবপুর, আইলাকান্দি, ভাড়েরা, সৎপুর, নাগেরকোণা, উছমানপুর ইউনিয়নের পাঁচপাড়া, রাউৎখাই, তাহিরপুর, উছমানপুরপুর, পড়িয়ারখাই, মির্জাপুর, লামাপাড়া, বেড়াখাল, রাঙ্গাপুর, আলীপুর, কবুলপুর, ধনপুরসহ বুরুঙ্গা ইউনিয়ন, দয়ামীর ইউনিয়ন ও পশ্চিম পৈলনপুর ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রামের গ্রাহকরা বিদ্যুতের যন্ত্রনায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন।

এছাড়া বালাগঞ্জের দেওয়ানবাজার ইউনিয়ন, বোয়ালজুড় ইউনিয়ন, পূর্ব পৈলনপুর ইউনিয়ন ও পশ্চিম গৌরীপুর ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রামে ক্রমাগত লোডশেডিংয়ে গ্রাহকরা চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ- একদিকে গ্রাহকরা নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন আর অপরদিকে কয়েক দফা বিদ্যুতের মূল্য (ইউনিট) বৃদ্ধি করা হয়েছে। বিদ্যুতের আসা-যাওয়ার খেলা সত্ত্বেও গ্রাহকদেরকে প্রতি মাসে ভূতুড়ে বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে। এছাড়া বালাগঞ্জ ও ওসমানীনগর উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহের নামে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ায় দুই উপজেলার বিদ্যুৎ গ্রাহক, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্যেও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

Manual8 Ad Code

পবিত্র রমজান মাস শুরু পর থেকে বিদ্যুতের এই লুকোচুরি খেলা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। ঘন্টার পর ঘন্টা বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে রাখা যেনো রমজান মাসের নিয়মে পরিণত হয়ে গেছে। এ নিয়ে গ্রাহকরা ডিজিএম থেকে শুরু করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিকট সমস্যার কথা জানানো তো দূরের কথা তারা ফোনই রিসিভ করেন না। কোনো কোনো সময় ফোন রিসিভ হলে কিংবা গ্রাহকরা বিদ্যুৎ অফিসে গিয়ে বিদ্যুৎ সমস্যা নিয়ে কর্মকর্তাদের সাথে কথা বললে গ্রাহকরা হেনস্থার শিকার হন।

Manual7 Ad Code

সিলেট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১’র ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার জহিরুল ইসলাম বলেন, চাহিদার তুলনায় বর্তমানে বিদ্যুৎ বরাদ্ধ খুব কম পাওয়া যাচ্ছে। যার জন্য লোডশেডিং না করে উপায় নেই। তারপরও আমাদের চেষ্টা থাকে ইফতার, সেহেরী ও তারাবি নামাজের সময়ে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা। আশা করছি ১২ জুনের পর এ সমস্যা আর থাকবে না।

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code