Main Menu

স্মার্ট নাপিতের সাইকেল স্যালুন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ‘চুল কাটালে এক আনা। চুল-দাড়ি দুই আনা। একসঙ্গে দুই করলে, মালিশ বিনা মূল্যে।’

নরসুন্দর বা নাপিত যা ই বলা হোক, এমন ছড়া কেটে-কেটে আগের কালের নাপিতেরা মানুষের বাড়িতে গিয়ে অথবা রাস্তায় চুল-দাড়ি কাটার কাজ করতো। এখন মানুষ হয়েছে অনেক শৌখিন, আর সভ্য। সমাজ ব্যবস্থাও বেশ পাল্টেছে। তাই এখন আর নাপিতরা মানুষের কাছে যায় না, বরং সাধারণ মানুষ অর্থাৎ কাস্টমাররা যায় নাপিতের কাছে। আমাদের চিরায়ত প্রথা উল্টে দেয়ার নামই এখন সভ্যতা।

সভ্যতার রাজনৈতিক বা তাত্ত্বিক গল্প নয়, এটা ২১ শতকের এক নরসুন্দরের গল্প। যার সবকিছুতেই আছে সৌন্দর্যের ছোয়া। পোশাক, চালচলন আর কাজের ধরনে প্রাচীন সুন্দরের প্রকাশই তার পরিচয়।

লেবাননের বৈরুত শহরের ১৮ বছরের যুবক মুহাম্মাদ খালেদ জাহজাহ। স্থানীয়দের কাছে অধিক পরিচিত আবু তাওয়িলা হিসেবে, যার অর্থ ‘লম্বা ব্যক্তি’। সে নিজেও এই নাম খুব পছন্দ করে। খালেদের মূল পেশাই চুল কাটা, যদিও সে এক সময় স্কুলে পড়তো। বৈরুতের বিভিন্ন জায়গায় দেখা যাবে সে সাইকেল চালিয়ে বেড়াচ্ছে আর রাস্তার ধারে চুল কাটছে। সাইকেলের পেছনে হাতে বানানো একটি বাক্সে চুল কাটার নানা সরঞ্জাম কাচি, রেজার, চিরুনি, ইলেকট্রিক ট্রিমার ইত্যাদি রাখা আছে। সবচেয়ে আকর্ষণীয় ব্যাপার হল তার পোশাক এবং চালচলন। পুরনো দিনের স্ট্র হ্যাট আর নেভি সাসপেন্ডারসে খুব সুদর্শন বেশেই ঘুরে বেড়ায় সে।

খালেদ জানায়, সে এক সময় স্কুলে পড়তো। স্কুল থেকে ফেরার পর, সে বাসার পাশের একটি স্যালুনে চুল কাটা দেখতো প্রায়ই। নরসুন্দরের কাজ তাকে টানতো ব্যাপকভাবে। তার এই আগ্রহের ব্যাপারটা বুঝতে পেরে স্যালুন মালিক তাকে কাজ শেখানোর প্রস্তাব দেয়, তবে স্কুলের পরে। কিন্তু খালেদ স্কুল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েই কাজ শিখতে নামে।

এখন সে দু’ভাবেই কাজ করে। প্রচলিত স্যালুনে কাজ করার পাশাপাশি, রাস্তায় ঘুরে-ঘুরে কাজ করে সে। রাস্তায় ঘুরে কাজ করা তার পেশার চেয়ে নেশাই বলা যায় বেশি। এ সম্পর্কে খালেদ বলেন, ‘এটা সত্যিই খুব সুন্দর ব্যাপার, কারণ এটা খুবই পুরনো চিন্তার বহিঃপ্রকশ।’ স্যালুনে কাজ শেষ করার পরই সাইকেল নিয়ে বের হয়ে যায় সে।

এই আধুনিক সভ্য সময়েও খালেদ প্রতিদিনই কিছু মানুষ পেয়ে যায়, যারা তার চলার পথ রোধ করে চুল কাটার জন্যে। এছাড়াও অনেকেই তাকে রোজ থামায়, কেউ তার কাজের প্রশংসা করার জন্য, আবার কেউ তার সাথে পরিচিত হবার জন্য।

 

তার নিয়মিত কাস্টমার আবু সাঈদ বলেন, ‘সে এখানে আছে বলে আমি খুবই খুশি। যখনই আমি একটু সময় পাই, তখনই খালেদকে ডাকি। এতে আমার ব্যবসা বন্ধ করে চুল কাটার জন্য সময় ব্যয় করতে হয় না। সবচেয়ে বড় ব্যাপার হল, ওর কারণে পুরনো দিনের কথা মনে পড়ে যায়।’

পরিশ্রমী খালেদ প্রতিদিন সকাল ৯টায় উঠে কাজে বের হয়। স্যালুনের কাজের পরও সে সাইকেলে করে প্রতিদিন অন্তত ৩০জন মানুষের চুল-দাড়ি কাটার কাজ করে। ঐতিহ্যপ্রেমী খালেদ এএফপিকে বলেন, ‘আমি যদি কখনো নিজের স্যালুন খুলি তবে তা হবে খুবই পুরনো ডিজাইনের।’ সেই সাথে নিজের সাইকেল স্যালুনকে না ভোলার অঙ্গিকারও করেন তিনি। সূত্র: এএফপি

Share





Related News

Comments are Closed