ভিডিও প্রকাশের ভয় দেখিয়ে তিন বছর ধরে ধর্ষণ
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: মাদারীপুরের শিবচরের উমেদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে গোপন ভিডিও ফাঁসের ভয় দেখিয়ে তিন বছর ধরে ধর্ষণ করেছে ওই স্কুলের সহকারী শিক্ষক রবিউল ইসলাম। বিষয়টি প্রকাশের পরপরই রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে এ ধরনের আরও কয়েকটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। এরই মধ্যে ওই ছাত্রীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে ধর্ষণের অভিযোগ স্বীকারও করেছে সেই শিক্ষক।
স্থানীয়রা জানান, সহকারী শিক্ষক রবিউল পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণিতে বৃত্তিপ্রাপ্ত ওই দরিদ্র ছাত্রীর প্রতি বিশেষ খেয়াল রাখত। বিষয়টি শিক্ষক ও ছাত্রীর সম্পর্ক বলে কেউ তাতে কোনো সন্দেহও করত না। এরই সুযোগে সপ্তম শ্রেণিতে থাকার সময় ওই ছাত্রীকে রবিউল নানা কৌশলে নিজের প্রেমের ফাঁদে ফেলে। রবিউলের স্ত্রী অন্য উপজেলায় চাকরি করার সুবাদে ওই ছাত্রী মাঝেমধ্যেই তার বাসায় যাতায়াত করত। মেয়েটি স্বীকার করেছে, অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় একদিন রবিউল তাকে ধর্ষণ করে ভিডিও করে রাখে। এর পর থেকে সেই ভিডিও প্রকাশের ভয় দেখিয়ে তিন বছর ধরে মেয়েটিকে মাঝেমধ্যেই ধর্ষণ করত সে। একাধিকবার মেয়েটিকে গর্ভপাতও করানো হয়েছে। কিন্তু কয়েক মাস আগে রবিউল আরও কয়েকজন ছাত্রীকে তার বাসায় নিয়ে আসতে থাকলে মেয়েটি আপত্তি জানায়। সে সময় মেয়েটি জানতে পারে, আরও কয়েকজন ছাত্রীর সঙ্গেও রবিউলের একই সম্পর্ক আছে। এতে ওই ছাত্রী সম্পর্ক ছিন্ন করতে চাইলে মেয়েটির নামে অন্য শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে কুৎসা রটায় রবিউল। একপর্যায়ে মেয়েটি বাধ্য হয়ে রবিউলের বিচার দাবিতে গত ১৩ মার্চ স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটি বরাবর লিখিত অভিযোগ জানায়।
এর মধ্যেই নবম ও দশম শ্রেণির আরও দুই শিক্ষার্থীর পরিবারের পক্ষ থেকেও রবিউলের বিরুদ্ধে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ তোলা হয়েছে। তবে অভিযোগ ওঠার পরপরই বিদ্যালয় থেকে ছুটি না নিয়েই পালিয়ে গেছে রবিউল। বর্তমানে সে ফোনে অভিযোগ দেওয়া ওই ছাত্রীকে বিভিন্ন হুমকি দিচ্ছে।
স্কুলের বেশ কয়েকজন ছাত্রীর অভিভাবক অভিযোগ করেছেন, রবিউল তাদের মেয়েদের সঙ্গেও প্রতারণার মাধ্যমে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তুলেছিল। ধর্ষণের শিকার ওই ছাত্রী জানায়, রবিউল আরও কয়েকজন ছাত্রীকে একই কায়দায় ফাঁসিয়েছে। স্কুলের সুন্দরী মেধাবী মেয়েদের সে টার্গেট করত। আমি তার বিচার চাই।
উমেদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রোকনুজ্জামান বলেন, ওই স্কুলছাত্রীর কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর শিক্ষক রবিউলকে প্রশ্ন করা হলে সে অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করেছে। তবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আগেই কৌশলে সে পালিয়ে গিয়ে এখন ফোনে ওই ছাত্রীকে বিভিন্ন হুমকি দিচ্ছে। আমাকেও এ ব্যাপারে চুপ থাকতে বিভিন্ন প্রলোভন দেখাচ্ছে। তবে আমরা শিক্ষক ও পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি কাদির খালাসী বলেন, আমরা অভিযোগের সত্যতা পেয়েছি। খুব শিগগির রবিউলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মাদারীপুর সহকারী পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন বলেন, অপরাধ এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে মুখ বন্ধ রাখলে অপরাধ দমন করা কঠিন। এ ব্যাপারে ওই স্কুলছাত্রী আমাদের কাছে অভিযোগ করলে আমরা কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারব। সূত্র: রুপসী বাংলা
Related News
গাজীপুরে পুলিশের গাড়িতে আগুন, সড়ক অবরোধ
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: পোশাক শ্রমিকদের বেতন বাড়ানোর দাবিতে শিল্প কারখানায় শ্রমিকরা বিক্ষোভ মিছিল ও সড়কRead More
নিখোঁজের ৩ দিন পর নেসলের কর্মী শ্যামলের লাশ উদ্ধার
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: নিখোঁজের তিনদিন পর শ্যামল চন্দ্র দাস (৫২) এর লাশ রবিবার (১ নভেম্বর)Read More



Comments are Closed