হাবিপ্রবির প্রক্টরসহ ১৫০ জনের বিরুদ্ধে দুই মামলা
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: দিনাজপুরে বাস পোড়ানো ও শ্রমিকদের ওপর হামলার ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাতে দায়ের করা এ পৃথক দুই মামলায় হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) প্রক্টর প্রফেসর খালিদ হোসেন, সহকারী প্রক্টর সৌরভ পাল চৌধুরী, ছাত্র পরামর্শক ও নির্দেশনা বিভাগের পরিচালক প্রফেসর শাহাদৎ হোসেন খান ছাড়াও ১২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ১৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
দিনাজপুর কোতয়ালী থানায় পৃথক মামলা দুটি দায়ের করেছে দিনাজপুর মোটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন ও দিনাজপুর জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপ।
এদিকে সংঘর্ষের ঘটনায় পরিবহন ধর্মঘট চালানো হলেও ক্ষতিপূরণের আশ্বাস না পাওয়ায় শুক্রবার সকালে সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের কার্যালয়ে এক জরুরি সভায় পরিবহন ধর্মঘটের পাশাপাশি সর্বাত্মক পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দেয়া হয়েছে।
টানা দুদিনের পরিবহন ধর্মঘটের ফলে সারা দেশের সঙ্গে দিনাজপুরের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ফলে দুর্ভোগ বেড়েছে যাত্রীদের।
দায়েরকৃত দুটি মামলার মধ্যে একটির বাদী হয়েছেন দিনাজপুর মোটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি সাইফুর রাজ চৌধুরী এবং অপরটির বাদী হয়েছেন দিনাজপুর জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম সেলু।
দিনাজপুর কোতয়ালী থানা সূত্রে জানা যায়, হাবিপ্রবির সামনে গত বুধবার রাতে ২টি বাসে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দিনাজপুর জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম সেলু বাদী হয়ে হাবিপ্রবির প্রক্টর ড. খালিদ হোসেন, সহকারী প্রক্টর সৌরভ পাল চৌধুরী, ছাত্র পরামর্শক ও নির্দেশনা বিভাগের পরিচালক প্রফেসর শাহাদৎ হোসেন খানসহ ১২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ১৫০ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।
এদিকে শ্রমিকদের ওপর হামলা ও মারপিটের ঘটনায় দিনাজপুর মোটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি সাইফুর রাজ চৌধুরী বাদী হয়ে হাবিপ্রবির প্রক্টর ড. খালিদ হোসেন, সহকারী প্রক্টর সৌরভ পাল চৌধুরী, ছাত্র পরামর্শক ও নির্দেশনা বিভাগের পরিচালক প্রফেসর শাহাদৎ হোসেন খানসহ ১২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ৫০ জনকে আসামি করে অপর একটি মামলা দায়ের করেন।
দিনাজপুর কোতয়ালী থানার ওসি রেদওয়ানুর রহিম মামলা দুটি দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে হাবিপ্রবির প্রক্টর প্রফেসর খালিদ হোসেন জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকেও শ্রমিকদের বিরুদ্ধে একটি পাল্টা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।
তবে শুক্রবার সন্ধ্যায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় মামলা দায়ের হয়নি।
এদিকে দুদিনের অব্যাহত পরিবহন ধর্মঘটে সারা দেশের সঙ্গে দিনাজপুরের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা। জরুরি প্রয়োজনে কেউ দিনাজপুরের বাইরে যেতে পারছেন না। আবার দিনাজপুরে এসে দুদিন ধরে আটকা পড়েছেন অন্য জেলার মানুষেরা।
সড়ক যোগাযোগ বন্ধ থাকায় বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে চাপ পড়েছে ট্রেনের ওপর। ফলে ট্রেনে যাত্রীর সংখ্যা বেড়েছে অস্বাভাবিক হারে।
দিনাজপুর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার নার্গিস প্রামাণিক যুগান্তরকে জানান, বাস বন্ধ থাকায় যাত্রীরা ট্রেনেই ভিড় করছে। এতে বাড়তি যাত্রী সামাল দিতে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। আসন সংখ্যার বাইরেও অতিরিক্ত টিকিট কিনে ট্রেনে দাঁড়িয়ে ভ্রমণ করছেন যাত্রীরা।
শুক্রবার সকালে সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের কার্যালয়ে এক জরুরি বৈঠকে বসেন পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা।
আলোচনা সভায় সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের সভাপতি জাহিদ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম সেলু, মোটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি এম. রফিক, সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বী, ট্রাক মালিক সমিতির সভাপতি শহীদুল ইসলাম, ট্রাক্টর শ্রমিক ইউনিয়নের মোজাফফর হোসেন ঝলু, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান, ট্রাক ও ট্যাংকলরী শ্রমিক ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় আন্দোলন বেগবান করতে বাস, ট্রাক, মাইক্রোবাস, ট্যাংকলরীসহ সব ধরনের যানবাহন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম সেলু জানান, তাদের আন্দোলন আরও বেগবান করতে আগামী রোববার থেকে রংপুর বিভাগের ৮টি জেলায় এই ধর্মঘট ছড়িয়ে দেয়ার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।
এদিকে উদ্ভুত এ পরিস্থিতি তদন্তে দিনাজপুরের স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপ-পরিচালককে প্রধান করে ৭ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন।
কমিটিকে আগামী ৩ দিনের মধ্যেই প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
তদন্ত কমিটির প্রধান ইমতিয়াজ হোসেন জানান, ইতিমধ্যেই তদন্ত কমিটির সদস্যরা কাজ শুরু করে দিয়েছেন। নির্ধারিত দিনের মধ্যেই তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন দাখিল করবে বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য, গত বুধবার সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের বহন করা একটি বাসের সঙ্গে তৃপ্তি পরিবহন নামে একটি বাসের সাইড দেয়াকে কেন্দ্র করে শ্রমিকদের সঙ্গে ছাত্রদের কথা কাটাকাটি হয়।
এক পর্যায়ে ছাত্রদের সঙ্গে মোটর পরিবহন শ্রমিকদের সংঘর্ষ হয়। এতে ২ শিক্ষার্থী ও ৩ শ্রমিক আহত হয়।
আহত হাবিপ্রবির ছাত্র নিবিড় ও সৌরভ এবং মোটর পরিবহন শ্রমিক ভোলা, তুহিন ও আফজালকে দিনাজপুর এম. আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনার পর দিনাজপুর হাজী দানেশ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের সামনে রাস্তায় বাঁশ ফেলে ও টায়ার জ্বালিয়ে দিনাজপুর-রংপুর মহাসড়ক অবরোধ করে।
এ সময় তারা তৃপ্তি পরিবহন ও শাহী পরিবহন নামে দুটি বাস জ্বালিয়ে দেয়।
এ ঘটনার পর থেকেই দিনাজপুর মোটর পরিবহন শ্রমিক ও দিনাজপুর সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপ অনির্দিষ্টকালের জন্য সর্বাত্মক পরিবহন ধর্মঘট ডাকে।
অন্যদিকে হাবিপ্রবির ছাত্ররা ক্যাম্পাসের সামনে দিনাজপুর-রংপুর মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে।
পরিস্থিতি নিরসনে বৃহস্পতিবার বিকালে দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক মীর খায়রুল আলম তার সভাকক্ষে হাবিপ্রবি কর্তৃপক্ষ এবং দিনাজপুর মোটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন ও জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের নেতৃবৃন্দদের নিয়ে এক সমঝোতা বৈঠকে বসেন।
কিন্তু দুপুর দেড়টা থেকে টানা আড়াই ঘন্টার বৈঠকেও কোনো সুরাহা হয়নি।
Related News
পঞ্চগড়ে পিকনিক খেয়ে বাড়ি ফেরা হলোনা ব্যবসায়ী বিপ্লবের
মো. সফিকুল আলম দোলন, পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি: রাতে দেবীগঞ্জ উপজেলা শহর থেকে ব্যবসায়ীক কাজ শেষেRead More
কুড়িগ্রামে পুকুরে পানিতে ডুবে ভাই-বোনের মৃত্যু
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার কচাকাটা থানার কেদার ইউনিয়নের ঢলুয়াবাড়ী গ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবেRead More



Comments are Closed