Main Menu

ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত ৮১ হাজার দরিদ্র পরিবার

Manual7 Ad Code

ময়নুল হক, নীলফামারী প্রতিনিধি: নীলফামারীর জলঢাকায় এবার ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ৮১ হাজার দরিদ্র পরিবার। ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা কর্তৃক বাছাইকৃত, উপজেলায় সর্ব মোট ৮১ হাজার দরিদ্র পরিবার রয়েছে। এরমধ্যে পৌরসভায় ৩ হাজার ও উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে ৭৮ হাজার দরিদ্র পরিবার রয়েছে। এই পরিবার গুলোকে প্রতিটি ঈদে, ত্রাণ ও দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় থেকে, বিনামুল্যে ভিজিএফ কার্ডের মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারকে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হত। এই ১০ কেজি চাল দিয়েই সবার সাথে মিলেমিশে ঈদের আনন্দকে ধরে রাখতো দরিদ্র পরিবারগুলো।
এবারে ঈদুল আযহা উপলক্ষে সরকারের দেওয়া বিনামুল্যে ভিজিএফ ১০ কেজি চাল থেকে বঞ্চিত হলো দরিদ্র পরিবার গুলো। সরকারি চাল বন্দের কথা শুনে, নিজ এলাকার মেম্বার ও চেয়ারম্যানের বাড়িতে ভিড় জমাচ্ছে দরিদ্র মানুষগুলো। কথা হয় ধর্মপাল আবাসন এলাকার বাসিন্দা, দরিদ্র বাবু মোল­ার সাথে তিনি জানান, হামরা আবাসনের সরকারি ঘরত থাকি। আবাসনোত অনেকগুলা পরিবার আছে, সোবায় জানে ঈদোত সরকারি ভিজিএফ চাল পামো। সেই ১০ কেজি চাল দিয়া ঈদ করমো। এ্যালা সরকার চাল না দিলে, হামার কারোয় ঈদ হইবেনা। হয়তো না খেয়া থাকমো ঈদের দিনোত। বালাগ্রাম এলাকার পঙ্গু মোছো মামুদের স্ত্রী, আজিমন জানান, মোর ঘরত একজন পঙ্গু স্বামী, মোর একটা ব্যাটাও (ছেলে) নাই। মুই মহিলা মানুষটা মানুষের বাড়িত কাম করি মোর পঙ্গু স্বামীটাক পোষো, তাও ফির বাজারোত চাউলের কেজি ৫০ টাকা। একবার খাইলে আর একবার হয়না, তাতে ফির সামনোত ঈদ। সরকার ব্যালে এবার চাউল দিবেনা, তা হইলে এবারে ঈদোত সরকার হামাক নাখেয়া থুইবে ?
ভিজিএফ চালের ব্যাপারে ধর্মপাল ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, এলাকায় হঠাৎ বন্যা হওয়ায় খেটে খাওয়া দরিদ্র মানুষগুলো বেকার হয়ে পড়েছে। বাজারে চালের দামও বেশি, সামনে ঈদ। প্রতি ঈদে সরকারি ভাবে বিনামুল্যে দরিদ্র পরিবারগুলোকে ভিজিএফ ১০ কেজি করে চাল দেয়। সেটা এবার ঈদে সরকার বন্ধ রেখেছে। এতে দিশাহারা হয়ে পড়েছে দরিদ্র মানুষগুলো। বর্তমান দরিদ্র মানুষের চাপে বাড়িতে থাকাটায় মুশকিল হয়ে পরেছে। কেউ আবার কান্নাকাটিও করছে, তাদের পাশে দেখে নিজের চোখের পানিও ধরে রাখা যায়না।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, আমরা এখনো কোন অর্ডার পাই নাই, তবে ঈদের আগে আর সম্ভব না। জলঢাকা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ রাশেদুল হক প্রধান বলেন, সরকারি চিঠি না পেলে আমাদের কিছু করার নাই।

Manual2 Ad Code

 

Manual1 Ad Code

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code