Main Menu

সুরমা নদীতে চলছে অবৈধ বালু উত্তোলনের মহোৎসব

Manual5 Ad Code

বিশেষ সংবাদদাতা: সিলেটের কানাইঘাট উপজেলায় সুরমা নদীতে চলছে অবৈধ বালু উত্তোলনের মহোৎসব। বিপর্যয়কর অবস্থায় বালু উত্তোলন বিধিবহির্ভুত হলেও এর কোন তোয়াক্কা করছে না বালু খাদকরা। ইজারাযোগ্য ও ইজারা অযোগ্য নির্বিশেষে নদীতীর খনন করে উত্তোলন করা হচ্ছে বালু ও মাটি। ধ্বসে পড়ছে বাড়িঘর মসজিদ-মাদ্রাসা স্কুল, ব্যবসা প্রতিষ্টানসহ সরকারী ও বেসরকারী বিভিন্ন স্থাপনা। নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে সরকারের শত শত কোটি টাকার বন্যানিয়ন্ত্রন বাঁধ। বানের পানিতে ভেস্তে যাচ্ছে হাজার হাজার হেক্টর ফসলী জমি। উপরন্তু অবৈধ বালু উত্তোলনের প্রতিবাদকারীদের হয়রানীর শিকার হতে হচ্ছে বিভিন্ন মামলা ও হামলায়।
অভিযোগে প্রকাশ, কানাইঘাট উপজেলাধীন রাজাগঞ্জ বালুমহালটি সরকারী তালিকায় ইজারাযোগ্য হলেও প্রায় ৮ বছর ধরে কোন ইজারাই দেয়া হচ্ছে না। ফলে মামলা ও আইনের ফাঁক-ফোকর গলিয়ে মাটি খাদকরা এ মহালসহ আশপাশ এলাকা অবাঁেধ ভোগ করে চলেছে। আর এ সুযোগে তারা ইজারা বহির্ভুত অনেক এলাকায় বিস্তীর্ন করেছে তাদের বালুমাটি উত্তেলানের ধ্বংসাত্মক তান্ডব। বিশেষ করে ইজারা অযোগ্য ও ইজারা বহির্ভূত তালবাড়ী এলাকায় চলছে জাবীর আশারাফের ধবংসাত্মক তান্ডব। জাবীর আশরাফ সাংবাদিকসহ দুটি রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী নেতাদের ঘনিষ্টজন হওয়ায় তার ধবংসাত্মক কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলতে সাহস পাচ্ছেন না। পাশাপাশি নদীর দুই পারে রয়েছে জাবীরের শক্তিশালী লাঠিয়াল ও পোষাকী বাহিনী। প্রতিবাদীদের হামলা ও মামলা দিয়ে নিবৃত করতে জাবীরের কোন জুড়ি নেই। এ অবস্থায় এলাকার জনমানুষদের জিম্মি করেই জাবীর আশরাফ দীর্ঘপ্রায় ৮ বছর ধরে এককভাবে ওই এলাকায় বালু উত্তোলন ও বিপর্যয়কর কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। তার অবাঁধ ও লাগামহীর বালু উত্তোলনের ফলে ইতোমধ্যে ইজারাবহির্ভুত তালবাড়ী ও খালপার এলাকায় ২শ’টিরও বেশী বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে তালবাড়ি বাজার, বাজারের পূর্বমসজিদ, খালপার মাদ্রাসা ও দাওয়াদারী মসজিদসহ সুরমা ডাইকের একাংশ ধ্বসে পড়ায় এসব স্থাপনা অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়েছে। ঐতহ্যিবাহী তালবাড়ী বাজার ও খালপার মাদ্রসা সরিয়ে নেয়ার কাজ চলছে। উপজেলার তালবাড়ী মৌজাস্থ সুরমা নদী এলাকা সরকারী বালুমহালের অন্তর্ভুক্ত না হওয়া সত্বেও জাবীর আশরাফ সম্পূর্ন পেশীশক্তি মূলে এ মৌজা এলাকায় বিরামহীন ও লাগামহীন বালু উত্তোলন করে চলেছেন। ইজারাবিহীন এবং ইজারা অযোগ্য তালবাড়ীসহ আশপাশ এলাকায় অবৈধ ও ধবংসাত্মক বালু উত্তোলনকালে তীর ধ্বসে স¤প্রতি জাবীর আশরাফের একটি ড্রেজার নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়, যা এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানেও জাবীর আশরাফ ৫/৭টি ড্রেজার দিয়ে ইজারা বহির্ভুত তালবাড়ি এলাকায় অবৈধ ও বেআইনী বালু উত্তোলন অব্যাহত রেখেছেন। অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে এলাকার জনসাধারন সিলেটের জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনে বারবার আবেদন নিবেদন করেও কোন প্রতিকার পাচ্ছেন না। উল্টো মামলা-হামলায় হয়রানী ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন তারা। স¤প্রতি এলাকার জনসাধারণ আবারো সিলেটের জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনসহ স্থানীয় দায়িত্বশীল বিভিন্ন মহলে লিখিত স্মারকলিপি প্রদান করে তাদের বসতভিটে ঘরবাড়ি, ক্ষেতখামার,সরকারী ও বেসরকারী স্থাপনা রক্ষার দাবি জানিয়েছেন। বিশেষ করে কানাইঘাট উপজেলার খালপার ভূমিহীন কৃষি খামার সমবায় সমিতি লিঃ এলাকাবাসীর পক্ষে গত ১৭মে সিলেটের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন মহলে স্মারকলিপি প্রদান করে। এ খবর পেয়ে জাবীর বাহিনী আরো ক্ষুব্ধ হয়ে তাদের নানা হুমকি-ধমকি এবং আগ্নেয়াস্ত্রসহ সন্ত্রাসী মহড়া দিয়ে চলেছে। এ অবস্থায় কানাইঘাটের তালবাড়ী খালপার ও আশপাশ এলাকায় সুরমায় বালু উত্তোলন নিয়ে যেকোন সময় দাঙ্গা-হাঙ্গামা ও খুন-খারাবীর আশংকা রয়েছে বলে এলাকার শান্তিকামী মানুষ জানিয়েছেন। এলাকাবাসী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রাখতে ত্বরিৎ আইনী ব্যবস্থা গ্রহনে প্রশাসনসহ সরকারের উর্ধতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ ও দ্রুততর পদক্ষেপ কামনা করেছেন।
উল্লেখ্য, সিলেটের কানাইঘাট উপজেলাধীন রাজাগঞ্জ বালুমহালের অন্তর্গত ৩টি দাগে ৫১.৪৭ একর এরিয়া থাকলেও উপজেলার তালবাড়ী মৌজায় সরকারী কোন বালুমহাল নেই। তা সত্বেও জাবীর আশরাফ তালবাড়ী মৌজার অন্তর্গত ৪টি দাগের বিশাল এলাকাজুড়ে বেআইনী ও অবৈধ বালু উত্তোলন করে চলেছেন বলে স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে।

Manual2 Ad Code

Manual2 Ad Code

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code