Main Menu

জলঢাকায় ব্লাস্ট রোগে ফসল নষ্ট, কৃষকের মাথায় হাত

ময়নুল হক, নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি: নীলফামারীর জলঢাকায় চলতি বোরো মৌসুমে ব্লাস্ট রোগে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় কৃষকদের মাথায় হাত পরেছে। এ মৌসুমের প্রায় আবাদের সব ফসল নষ্ট হওয়ায় কৃষকরা পরেছে বিপাকে। নতুন এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছে অন্যান্য ফসলও। কৃষকের স্বপ্ন যাচ্ছে এখন গরুর পেটে, ভাল নেই এ অঞ্চলের বোরো চাষীরা। বোরোর মৌসুমে এবারে বাম্পার ফলন হলেও আবহাওযা জনিত কারণে ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত হয়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে ফসলের। তাই কৃষকের আশার মুখে পড়েছে হতাশায় অন্ধকারের ছাপ। নীলফামারীর জলঢাকাসহ জেলার সবকটি উপজেলায় ব্লাস্টরোগে শত শত জমির বিআর-২৮ ও ২৯ জাতের ধানক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। যেসময় ধানের শীষ গাছে পরিপক্ক হওয়ার কথা, সে মুহুর্তে গাছ কেটে বাজারে গবাদি পুশুর খাদ্য হিসাবে বিক্রি করতে হচ্ছে কৃষকদের। আর কিছুদিন পরেই কৃষকের স্বপ্নের ফসল পাকা ধান ঘরে তোলার কথা ছিল, কিন্তু কৃষকের সে আশা নিরাশায় পরিনত হয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা যায়, চলতি বোরো মৌসুমে উপজেলা ১৪১২৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ করার কথা থাকলেও চাষ হচ্ছে ১৪১৭৫ হেক্টর জমিতে। যার লক্ষমাত্রা ৫৯৬৯৬ মেট্রিক টন। প্রকৃতি অনুকুলে থাকায় লক্ষমাত্রার চেয়েও আবাদ হচ্ছে বেশি এমনি জানান উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ উপসহকারী কর্মকতারা।
সরেজমিন উপজেলার পূর্ববালা গ্রাম ইউনিয়নের কৃষক তালিমুল ইসলাম লেলিন জানান, ৪৫ শতাংশ জমিতে বিআর-২৮ জাতে ধান লাগাই। ধানে শীষ আসার সাথে সাথে দেখি দিন দিন ধান গাছ গুলো শুকিয়ে যাচ্ছে। প্রথমে মনে হয়েছিল হয়তো পানি বা সার সংকটে এমনটা হতে পারে। কিন্তু না। সার, পানি ও কীটনাশক দেওয়ার পরেও রক্ষা করা গেল না। একই কথা জানান,৭নং ওয়ার্ডের আতাউর রহমান, তিনি ৭৫ শতাংশ জমিতে এমন জাতের ধান লাগিয়েছেন। পশ্চিম বালাগ্রাম ৫নং ওয়ার্ডের শ্রী সুরেশ চন্দ্র তিনিও ৪৫ শতাংশ জমিতে বিআর-২৮ জাতের ধান লাগিয়েছেন। তারও একই অবস্থা। তিনি অভিযোগ করে বলেন কৃষি অফিসের কোন কর্মকর্তা এখনও পর্যন্ত কোন পরামর্শ দিতে ধান ক্ষেতের উপর আসেনি। এ ফসলহানীতে আগামী ২/৩ মাস অনাহারে-উপোস করেই দিন পার করা ছাড়া উপায় দেখিনা। শিমুলবাড়ী ইউনিয়নের বজলূল হকের সাথে কথা হলে তিনি জানান, এবারে ফসলের ফলন দেখে প্রথমে বুকটা ভরে গেছিলো। পরে রোগ ধরা পড়ায় কয়েক বার স্প্রে করেও ধানক্ষেত রক্ষা করবার পাই নাই। এ ক্ষতি পুশিয়ে নিতে অনেক সময় প্রয়োজন হবে বলে কৃষকরা জানিয়েছেন।
এবিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মুহাম্মদ মাহফুজুল হক জানান, মাঠ পর্যায়ে আমার উপসহকারী কৃষিকর্মকর্তারা নিয়োজিত রয়েছে। তারা কৃষকদের মাঝে পরামর্শ অব্যাহত রেখেছে।

Share





Related News

Comments are Closed