Main Menu

প্রেমিকের বিয়ের খবর শুনে প্রেমিকার বিষপান

সাহানুর রহমান, লালমনিরহাট প্রতিনিধি: লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার বাড়াইপাড়া সাতহাত কালিবাড়ী ভাতিটারী নামক এলাকায় গত বৃহস্পতিবার প্রেমিকের বিয়ের খবর জানতে পেরে ১০ম শ্রেণির এক স্কুল ছাত্রী বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
এলাকাবাসী জানান, ওই এলাকার নাজির উদ্দিনের পুত্র সাকিব হোসেন ইছার (২৫) সাথে একই এলাকার জাহাঙ্গীর আলমের স্কুল পড়ুয়া মেয়ে প্রিয়ার (প্রেমিকার ছদ্ম নাম) দেড় বছর যাবত প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। ইছা অন্যত্র বিয়ে করলে প্রিয়া আত্মহত্যা করবে বলে মোবাইল ফোনে জানান প্রেমিক ইছাকে। হঠাৎ করে প্রেমিক ইছার অন্যত্র বিয়ের খবর জানতে পেরে প্রিয়া গত বৃহস্পতিবার (৪ মে) দুপুরে বিষ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। পরে পরিবারের লোকজন প্রিয়াকে উদ্ধার করে হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। বর্তমানে প্রিয়া হাসপাতালের বেডে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে।
শনিবার (৬ মে) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধিন প্রিয়া কান্না জড়িত কন্ঠে সাংবাদিকদের জানান, ২০১৬ সালের পহেলা বৈশাখের পরদিন হতে ইছা প্রায় আমার পিছুপিছু ঘুরে আমাকে বিয়ে করতে চায়। প্রথমে তার প্রস্তাবে রাজি না হলেও পড়ে তার অনুরোধে আমি রাজি হয়ে যাই। এরপর থেকে ইছা বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে আমাকে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে একাধিকবার দৈহিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়। এভাবে চলতে থাকলে হঠাৎ করে গত বুধবার (৩ মে) শুনতে পাই ইছা অন্যত্র বিয়ে করছে। বিয়ের খবর পেয়ে আমি ইছাকে ফোন করলে সে বলে, আমার ইচ্ছে আমি যাকে খুশি তাকে বিয়ে করব, তাতে তোর কি। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে আমার ইজ্জত নষ্ট আর আমাদের এতদিনের প্রেমের সম্পর্ক জানতে চাইলে সে বলে, ওটা ছিলো টাইম পাস, জাস্ট ফর ইনজয়। আমি তার হাতে পায়ে ধরে বহু কান্নাকাটি করি তাতেও তার মন গলেনি। এরপরেও আমি তাকে শেষ বারের মত বৃহস্পতিবার সকালে ফোন করে বলি, আমাকে ছাড়া অন্যত্র বিয়ে করলে আমি বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করব। আমার আত্মহত্যার কথা শুনে সে হাসতে হাসতে বলে, তোমার যা খুশি তাই কর। তুমি আত্মহত্যা করলে আমার কিছু হবে না। তার এই কথা শোনার পরে আমার মাথা ঠিক ছিলো না, তাই আমি বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করার চেষ্টা করি। প্রিয়া কাঁদতে কাঁদতে আরও বলেন, যাকে আমি জীবনের চাইতে বেশি ভালবেসে নারীর সেরা সম্পদ বিসর্জন দিয়েছি, সেই যখন আমার সাথে বেঈমানি আর বিশ্বাসঘাতকতা করলো, তাহলে এ জীবন রেখে লাভ কি। আমি ইছাকে ছাড়া বাঁচতে চাই না।
প্রিয়ার বাবা জাহাঙ্গীর আলম জানান, আমার নাবালিকা মেয়েকে ফুসলিয়ে তার মাথা নষ্ট করে দিয়েছে লম্পট ইছা। তার জন্যই আমার মেয়ে আজকে মৃত্যু পথযাত্রী। আমার মেয়ে একটু সুস্থ হলে আমি ওই লম্পট ইছার বিরুদ্ধে মামলা করব।
শনিবার এ বিষয়ে প্রেমিক সাকিব হোসেন ইছার মোবাইল ফোনে কথা বলার চেষ্টা করা হলে একটি মেয়ে ফোন রিসিভ করে বলেন, আমি ইছার স্ত্রী বলছি। ইছা বাসায় নেই বলে ফোন সংযোগ কেটে দেয়।
হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ নাঈম বলেন, পিয়ার পেটের ভিতর ওয়াস করে তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তবে এখনও প্রিয়া আশংকামুক্ত নয় বলে জানান চিকিৎসক।

Share





Related News

Comments are Closed