সিলেটে এক সেকেন্ডের ভূকম্পন ডাউকি ফলটের বিপদ সংকেত
খলিলুর রহমান : গত ষাট বছরে অনেকবার ভূকম্পন অনুভুত হয়েছে। প্রায় প্রতিবছরই দু’একবার ভুকম্পন অনুভুত হয়ে থাকে। কিন্তু গত শুক্রবার (২৮ এপ্রিল ২০১৭) রাত ১০টা ৫১ মিনিটে সিলেটে ভূকম্পন ‘মৃদু’ বলে আখ্যায়িত করা হলেও এটি ছিল আলাদা ধরন ও প্রকৃতির ভূীমকম্প। মাত্র এক সেকেন্ড বা কম সময়ের একটা ঝাকুনিতেই কেঁপে ওঠে পুরো সিলেট। এর স্থায়ীত্বও এক সেকেন্ডের বেশী ছিল না বলে অনুভুত হয়েছে। সচরাচর ভূমিকম্প’র শুরু হয় হালকা কাঁপুনী দিয়ে, বড় ঝাকুনীটা হয় মধ্যখানে এবং পরে হালকা কাঁপুনীর মধ্যদিয়েই শেষ হয়ে থাকে। কিন্তু শুক্রবারের ভূমিকম্পের শুরুতে কোন কাঁপুনীই ছিল না। শুরুতেই মস্তবড় একটা ধাক্কা বা ঝাকুনী, যে ঝাকুনীতে সশব্ধে কেঁপে ওঠে ঘরবাড়ি ও ভবন এবং এক্ষুনেই শেষ। পরবর্তী কোন কাঁপুনী বা অাফটার শক অনুভুত হয়নি আর। ভূমিকম্প শেষ হতে না হতেই এক সাংবাদিক বন্ধু এটাকে ভূমিকম্পের ‘মিস্ডকল’ বলে অভিহিত করে ফেইসবুকে স্ট্যটাস দিয়েছেন। আমারও মনে হয়েছে এটা মোবাইল ফোনের মিস্ডকলের মত কম সময়ে ভূমিকম্পের একটা ‘এলার্ট কল’। এটা যেন ভূগর্ভে জমে থাকা ধূমায়িত ডাউকি ফলটের আরো একটা বড় ও প্রলয়ংকরি ভূমিকম্পের আগাম বিপদসংকেত। ভূকম্পনটা শুধুমাত্র সিলেটেই অনুভুত হয়েছে অন্য কোথাও অনুভুত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
আবহাওয়া অফিসের দেয়া তথ্যমতে রিখটার স্কেলে এ ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৪.১। এর উৎসহস্থল ছিল ভারতের মেঘালয়া রাজ্য। তবে মেঘালয়া রাজ্যের কোন ফল্ট তা জানানো হয়নি। সম্ভবত সিলেট নগরী থেকে ৩০ মাইল (৫০কিঃমিঃ) দূরের তামাবিল সীমান্তঘেষা ডাউকি ফল্ট। বিগত ১৮৯৭ সালের ১২ই জুন তৎকালীন ভারতের আসাম প্রদেশের সিলেট জেলায় (বর্তমান বিভাগে) সংঘটিত হয়েছিল ইতিহাসের সবচেয়ে প্রলয়ংকরি ভূমিকম্প। সেই ভূমিকম্পের প্রাবল্য ছিল ৮.১ রিখটার স্কেল। সরকারী হিসেব মতে সে ভূমিকম্পে হতাহতের সংখ্যা ১,৫৪২ জন হলেও বেসরকারী হিসেবে ছিল কয়েক গুন বেশী। তৎকালীন সিলেট জেলার ডাউকি ফলটই ছিল সেই ভূমিকম্পের উৎসহস্থল। সেই ভূমিকম্পকে ছিলটি ভাষায় বলা হয়েছিল ‘বড়ভৈছাল’। প্রবাল্যের তুলনায় ডাউকি ফলটের সেই ভূূমিকম্পে হতাহতের সংখ্যা কম হলেও ক্ষয়-ক্ষতির পরিমান ছিল বিপুল। সূদুর কলকাতা ও দিল্লী এমনকি ভুটান ও বার্মা পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল এর ক্ষয়ক্ষতি। ভারতের বর্তমান মেঘালয়া রাজ্যের রাজধানী শিলং আরো ৩০ ফুট উঁচুতে চলে যায় সেই ভূমিকম্পে। এর আগে খাসিয়া জৈয়ন্তিয়া ও গারো পাহাড়ের পাদদেশী সিলেট ছিল পূর্ববাংলা থেকে তুলনামূলক উঁচু এলাকা। ১৮৯৭ এর বড়ভৈছাল নামের ভূমিকম্পে দেবে যায় পুরো সিলেট ভূমি । সৃষ্টি হয় বড় বড় হাওর ও বিলের। বদলে যায় সবকটি নদীর গতিপথ। তখন থেকেই বন্যা প্রবল এলাকায় পরিণত হয় বর্তমান সিলেট বিভাগ। এর আগে সিলেট কোন বন্যা প্রবল এলাকা ছিল না বলে আমাদের পূর্বপুরুষরা জানিয়েছেন। শুক্রবার (২৮এপ্রিল) রাতের ভূমিকম্পটির উৎসহস্থল সেই ১৮৯৭ সালের প্রলয়ংকরি ভূমিকম্পের উৎসহস্থল ডাউকি। সিলেট বিভাগীয় সদরের অদূরে থাকা মেঘালয়া (পূর্বের খাসিয়া) পাড়াড়ের পাদদেশে থাকা ডাউকি ফলট শুক্রবার রাতে নাড়া দিয়েছিল মাত্র এক সেকেন্ড। আরো বড় ধরনের নাড়া দেয়ার আগাম বিপদ সংকেত বলে অনুমিত হচ্ছে ডাউকি ফলটের হালকা এ নাড়া।
Related News
পাখির কলকাকলিতে মুখর নাজিরপাড়া, ১৫ বছর ধরে অতিথিদের মিলনমেলা
মো. সফিকুল আলম দোলন, জেলা প্রতিনিধি,পঞ্চগড়: ভোরের আলো ফুটতেই শুরু হয় পাখিদের কিচিরমিচির। গাছের ডালেRead More
ঐতিহ্যের অনন্য নিদর্শন ৮শ বছরের পুরাতন সেতু
শাহ মনসুর আলী নোমান, লন্ডন থেকে: ইতিহাস ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ ইংল্যান্ডের ল্যাঙ্কাশায়ার কাউন্টির উইকলার (Wycoller )গ্রামেRead More



Comments are Closed