Main Menu

বিশ্বনাথে আধা ঘন্টার ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

মোঃ আবুল কাশেম, বিশ্বনাথ (সিলেট) প্রতিনিধি : বিশ্বনাথে মঙ্গলবার ভোরে ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। স্কুল-মাদরাসা, এতিমখানার গাছপালা উপড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এলাকার আঞ্চলিক অধিকাংশ সড়কে পানি জমে আছে। উপজেলার কয়েকটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আঙ্গিনা তলিয়ে গেছে। বেশির ভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল কম।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৫টায় ঝড় ও বৃষ্টিতে উপজেলার খাজাঞ্চি, লামাকাজি, দেওকলস, দৌলতপুর, রামপাশা,বিশ্বনাথ ইউনিয়ন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। বয়ে যাওয়া ঝড় আধা ঘণ্টা স্থায়ী ছিল। একই সঙ্গে ছিল প্রচুর বৃষ্টি। ঝড়ে উপজেলার কাদিপুর দারুল হিকমাহ এতিমখানার টিনশেড ঘর ঝড়ে দুমড়ে মুচড়ে গেছে।। উপজেলা সদরের পুরানস্থ এলাকায় একটি বড় গাছ উপড়ে পড়ে। বিশ্বনাথ ইউনিয়নের ধীতপুর গ্রামের অসিত রঞ্জন দেবের টেনশেডের ঘরের টিন উড়ে গেছে। ঝড়ের পর থেকে পুরো উপজেলায় বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
এদিকে, উপজেলার অধিকাংশ আধা-পাকা সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। সেসব সড়ক থেকে পানিনিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। সড়কগুলো অনুপযোগী হয়ে পড়ায় চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে এলাকাবাসী। এ ছাড়া উপজেলার বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় বিদ্যালয়ের আঙ্গিনায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
বিশ্বনাথ পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডিজিএম কমে অমলেস বর্মন বলেন, ঝড়ে বিধ্বস্ত বিদ্যুৎ লাইন মেরামত করা হচ্ছে। তবে আজ মঙ্গলবার দিনের মধ্যে উপজেলার বেশ কিছু এলাকায় সংযোগ দেয়া সম্ভব নাও হতে পারে।
উপজেলার খাজাঞ্চি ইউপি চেয়ারম্যান তালুকদার গিয়াস উদ্দিন বলেন, ঝড়ে ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রামে ঘরের টিন,গাছ-পালা উপড়ে পড়েছে।
দৌলতপুর ইউপি চেয়ারম্যান আমির আলী বলেন, ইউনিয়নের তিনটি গ্রামের বেশিরভাগ মানুষের ঘরে টিন উড়ে গেছে। এখন তারা খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছেন বলে তিনি জানান।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার অমিতাব পরাগ তালুকদার বলেন, ঝড়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ এলাকায় খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। সেসব এলাকায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।
উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সুহেল আহমদ চৌধুরী বলেন, ঝড়ে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ওইসব ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিদের ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা তৈরি করে সংশ্লিষ্ট বিভাগে প্রেরণ করা হবে।

এদিকে, মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টায় পানিতে তলিয়ে যাওয়া হাওর ও ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্থ উপজেলার রামপাশা ইউনিয়ন ও খাজাঞ্চি ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রাম পরিদর্শন করেন বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সুহেল আহমদ চৌধুরী। এসময় উপস্থিত ছিলেন রাপশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এডভোকেট মোহাম্মদ আলমগীর, খাজাঞ্চি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তালুকদার গিয়াস উদ্দিন, যুক্তরাজ্য প্রবাসী ও কমিউনিটি নেতা সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, সাবেক ইউপি সদস্য লকুছ মিয়া, বিশ্বনাথ প্রেসক্লাবের সদস্য অসিত রঞ্জন দেব, সংগঠক শামছুল ইসলাম।
পরিদর্শনকালে ক্ষতিগ্রস্থ লোকজনকে উপজেলা চেয়ারম্যান সুহেল আহমদ চৌধুরী বলেন, ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা তৈরি করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের আশ্বাস প্রদান করেন।

 

Share





Related News

Comments are Closed