Main Menu

জৈন্তাপুরে ওয়াজ মাহফিলকে কেন্দ্র করে সড়ক অবরোধ

মো: রেজওয়ান করিম সাব্বির, জৈন্তাপুর (সিলেট) প্রতিনিধি: ওয়াজ মাহফিলকে কেন্দ্র করে সিলেটের জৈন্তাপুরে ৫ঘন্টা সিলেট-ামাবিল মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে এলাকাবাসী। ফলে চরম দূর্ভোগ পোহাতে হয় পর্যটকবাহী বাসসহ সহস্রাধিক ট্রাক, লেগুনা, মাইক্রোবাস ও যাত্রীবাহি বাস-মাইক্রোবাস। পরে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন ও এলাকাবাসীর মধ্যস্থতায় ৫ঘন্টা পর অবরোধ প্রত্যাহার করে এলাকাবাসী।
এলাকাবাসী ও স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, উপজেলার আসামপাড়া গুচ্ছগ্রাম যুব সংঘের উদ্যোগে গুচ্চগ্রাম জামে মসজিদ মাঠে ইসলামী সুন্না মহা সম্মেলেনের আয়োজন করে। এতে ইসালাম পরিপন্থি ওয়াজের প্রভাগন্ডার দোহাই দিয়ে ইসলামী সুন্না সম্মেলনকে প্রতিহতের ডাক দেয় স্থানীয় ওহাবী ইসলামী সমর্থকরা। এনিয়ে গত ১৯ ফেব্র“য়ারী সম্মেলন করতে দেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে জেলা প্রশাসকের অনুমতি নিয়ে ১৬ মার্চ বৃহস্পতিবার পুনরায় ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন করে এলাকাবাসী।
এদিকে মাহফিলের সকল আয়োজন শেষ হয়ে আসলে আইন শৃংঙ্খলার অবনতির আশংঙ্কা উলে­খ করে পুলিশ প্রশাসন ৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় মাহফিল বন্দ করার ঘোষনা দিলে ক্ষিপ্ত হয়ে এলাকাবাসী সকাল ১১টায় সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের আসামপাড়া এলাকায় রাস্তা অবরোধ করে। এঘটনায় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সহ এলাকাবাসী রাস্থার অবরোধ তুলো দেওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। পরবর্তীতে বিকাল ৩টায় স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, প্রবীন মুরব্বী ও মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতায় ওয়াজ মাহফিলের গুরুত্ব বিবেচনা করে মাহফিল অনুস্টানের আশ্বাস দিলে এলাকাবাসী অবরোধ প্রত্যাহার করে।
এলাকাবাসীর দাবী উপজেলার প্রতিটি পাড়া মহল­ায় যুব সমাজের উদ্যোগে শান্তিপূর্ন ভাবে প্রতিবছরের ন্যায় তারা সুন্না মহা সম্মেলনের আয়োজন করে আসছে। যার ফলে এলাকার যুব সমাজ ধ্বংসের হাত হতে রক্ষা পাচ্ছে। গত বছর হাঠাৎ করে ওহাবী সমর্থকগোষ্টি তাদের সম্মেলনে বাঁধার সৃষ্টি করে। তারা আরও বলেন- আগত মেহমানরা (হুজুরগন) ইসলাম ও কুরআন বিরোধী কোন প্রকার বয়ান (ওয়াজ) পেশ করেন না যা বেদায়াতী হিসাবে গন্য হবে। অহেতুক ভাবে তাদের শান্তিপূর্ন সুন্না সমাবেশ নিয়ে বির্তর্কীত প্রভাগন্ডা ছড়িয়ে মাহফিল পন্ড করার চেষ্টা চালানো হয়। যার কারনে তারা একের পর এক বাঁধার সৃষ্টি করে আসছে। সর্বশেষ আমাদের আয়োজন শেষ হয়ে আসার পর তারা প্রশাসনের মাধ্যমে একটি অহেতুক অভিযোগ উত্থাপন করে আমাদের সুন্না সম্মেলন পন্ড করতে পুলিশ প্রশাসনকে দিয়ে বন্ধ করার চেষ্টা চালায়। ফলে বাধ্য হয়ে তারা সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক অবরোধ করে। ওয়াজের পক্ষে বিভিন্ন শ্লোগান দিয়ে মিছিল করতে থাকে। দীর্ঘ ৫ঘন্টা যান চলাচল বন্ধ থাকায় জন দূর্ভোগ চরম আকার ধারন করে।
বেলা ২টায় জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোহেল মাহমুদ, জৈন্তাপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ সফিউল কবির, জৈন্তাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এখলাছুর রহমান, সাবেক চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন, দরবস্ত ইউপি চেয়ারম্যান বাহারুল আলম বাহার, বীর মুক্তিযোদ্ধা আফতাব আলী, মাহফিল আয়োজনকারী সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মিরন মিয়া, ১৭ পরগনার মুরব্বী আব্দুস শুকুর, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাফিজ, ইউপি সদস্য আব্দুল হাসিম ছন্দাই, ইউপি সদস্য আব্দুল আলী, এলাকার যুবসমাজ প্রবীন মুরব্বীদের নিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকা হতে আগত স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র/ছাত্রী, পর্যটকদের কথা বিবেচনা করে এলাকাবাসী তাদের অবরোধ প্রত্যাহার করে।
অপরদিকে ওয়াজ মাহফিলের গুরুত্ব বিবেচনা করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে জরুরী বৈঠকের আহবান করা হয়েছে। বৈঠকে উভয় পক্ষের কথা শুনে ইসলাম ও কুরআন বিরুধী কোন প্রকার বিতর্কের প্রামাণ পাওয়া গেলে বির্তকীত (হুজুরদের) আলেমদের মাহফিল হতে বাদ দেওয়া হবে।
অপরদিকে বিকাল ৫টায় ফের মাহফিল বন্দোর দাবীতে সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের হরিপুর বাজারে রাস্তা অবরোধ করে ওয়াবী গোষ্টির সমর্থনকারীরা।
এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোহেল মাহমুদ ও উপজেলা চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন জানান- আমরা উভয় পক্ষকে আহবান করেছি বৈঠকে বসার জন্য। কিন্তু কি কারনে তারা রাস্তা অবরোধ করেছে আমরা বুঝতে পারছি না। যেহেতু আমরা ওয়াজ মাহফিলের জন্য কোন অনুমতি দেইনি। কেউ যদি মসজিদে বসে আল­াাহর জিকির করে তাহলে আমাদের বাঁধা দেওয়ার কিছুই নেই। তারা উভয় পক্ষকে আলোচনার মাধ্যমে সুষ্ট সমস্যা সমাধানের আহবান জানান।

Share





Related News

Comments are Closed