Main Menu

সিলেটের হাটখোলায় বিল বিক্রি নিয়ে উত্তেজনা

বিশেষ প্রতিনিধি: সিলেটের হাটেখোলায় সরকারি বিলের লীজ নিয়ে দু’পক্ষে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। দু’পক্ষ একেবারে মূখোমূখি অবস্থানে রয়েছেন। এ নিয়ে যে কোন সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও খুন খারাবির আশংকা রয়েছে। এ ব্যাপারে প্রশাসনের কাছে এলাকার শান্তিকামী মানুষ বারবার আবেদন নিবেদন করলেও কার্যকর কোন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। সরকারী সম্পদ ও শান্তি শৃংখলা রক্ষায় এলাকাবাসী সরকার ও প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্তপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
জানা গেছে, সিলেট সদর উপজেলার হাটখোলা ইউনিয়নের বাবুরাগাঁও, নোয়াপাড়া, পাগইল ও মাঝপাড়া এই চার গ্রাম নিয়ে ২৫নং রাজারগাঁও মৌজা। এ মৌজায় পাকিস্তান জরিপি ২২/০ ডিপি খতিয়ানের ১৬১৬ দাগের সাড়ে ৫৩ একর জলাশয় ভূমির নাম হিঙ্গির বিল। পাকিস্তান জরিপে বিলটি সরকারী খাস খতিয়ানভুক্ত করে নেয়া হয় এবং হাল জরিপি খতিয়ানেও সরকারী খাস খতিয়ানভুক্ত রয়ে গেছে। বিলটি সরকারীভাবে বন্দোবস্ত বা ইজারা না দেয়ায় চার মৌজার লোকজন প্রতিবছর মাছ ধরতেন ও গোচরভূমি হিসেবে এটা ব্যবহার করে আসছিলেন। অতি স¤প্রতি বিলটি সরকারের কাছ থেকে বন্দোবস্ত তথা ইজারা নেয়ার জন্য চার মৌজার ৮৫জন লোক সিলেটের জেলা প্রশাসক বরাবরে একটি আবেদন করেন। আবেদনের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন অবস্থায় এলাকার একটি প্রভাবশালী চক্র সরকারের বিলটি ১০ লাখ টাকা মূল্যে ৩০জনের একটি সিন্ডিকেটের কাছে বিক্রি করে দিয়েছে। ফলে ক্রয়-বিক্রয় সিন্ডিকেট ও চার গ্রামের লীজ আবেদনকারীদের মধ্যে এ বিল নিয়ে শুরু হয়েছে চরম দ্ব›দ্ব। এ দ্ব›দ্ব নিরসনে স্থানীয় ইউনিয়ন অফিসে একাধিকবার সালিশ বসলেও কোন সমাধানে পৌছায়নি। পাশপাশি সিলেটের জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনসহ বিভিন্ন দায়িত্বশীল মহলেও বার বার আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু অজ্ঞাত কারনে স্থানীয় প্রশাসন বিল রক্ষায় এগিয়ে না আসায় আত্মসাতকারী ও লিজ আবেদনকারীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে থমথমে পরিস্থিতি।
অভিযোগ পাওয়া গেছে, ইউনিয়নের প্রভাবশালী মাতব্বর চক্রের শেল্টারে থাকা স্থানীয় বাবুরাগাঁওয়ের ছাদিক উজ্জামানের নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট গত কয়েকদিন ধরে সরকারের এ বিল আত্মসাতের অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। তারা বৈধভাবে লীজ আবেদনকারীদের নানা হুমকি-ধমকি দিয়ে চলেছে এবং সর্বশেষ বিলের দাম ১০ লাখ টাকা ধার্র্য করে এলাকার কয়েকজনের কাছে বিক্রি করে দিয়েছে। কিন্তু আবেদনকারীদের বাঁধার মূখে সরকারী এ বিলে নামতে পারছে না সিন্ডিকেট ও তাদের হোতারা। ফলে এ নিয়ে উভয়পক্ষে চলছে ক্ষোভ ও রণপ্রস্তুতি।
এলাকার শান্তিকামী মানুষ জালালাবাদ থানা পুলিশ, সিলেট মেট্রেপলিটন পুলিশ কমিশনার, মানবাধিকার সংগঠনসহ বিভিন্ন মহলে একাধিকবার আবেদন করেছেন। গত ৯ মার্চ সিলেট মেট্রেপলিটন পুলিশ কমিশনার বরাবরে ও এর আগে ৬ মার্চ মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস রিভিউ সোসাইটি বরাবরে লিখিত আবেদন করেন এলাকার শান্তিকামী মানুষ। পাশাপাশি জালালাবাদ থানা পুলিশকেও লিখিতভাবে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। বুধবার (১৫মার্চ) র‌্যাব-৯-এর একটি দলও ঘটনাস্থল হাটখোলায় যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
সিলেট সদর থানার হাটখোলা ইউপি চেয়ারম্যান আজির উদ্দিন জানান, হিঙ্গিবিলটি দীর্ঘ প্রায় ৭ দশক ধরে সরাকারী খাস খতিয়ানভুত। এটা নিয়ে সরকারের সাথে মামলা মোকদ্দমা চললেও এখনো সরকারের নামে রয়ে গেছে। স্থানীয় লোকজন মিলে বিলটি ভোগ করে আসছিলেন। স¤প্রতি এক পক্ষ বিলটি লীজ নয়ার আবেদন করলে বাবুরাগাঁও সহ আশপাশ এলাকার লোকজনের মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টি হয়। কিছু সংখ্যক লোক লীজ প্রদানে বিরোধী। তাই এ নিয়ে কয়েকবার বৈঠক হয়েছে এবং স্থানীয়ভাবে বিরোধ মিমাংসার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

Share





Related News

Comments are Closed