Main Menu

২২ ফেব্রয়ারী থেকে সিলেটে বসছে বেঙ্গল সংস্কৃতি উৎসব

বৈশাকী নিউজ ২৪ ডটকম: মরমি কবি হাছন রাজা, রাধারমণ দত্ত ও বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিমসহ অসংখ্য বাউল-সাধকের জন্মভূমি সিলেটে শুরু হচ্ছে ১০ দিনব্যাপী বেঙ্গল সংস্কৃতি উৎসব।
আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩ মার্চ সিলেট নগরীর মাছিমপুরস্থ আবুল মাল আবদুল মুহিত ক্রীড়া কমপ্লেক্সে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত সংস্কৃতি চর্চার আয়োজন করেছে বেঙ্গল।
সঙ্গীতে, নৃত্যে, নাটক, কারুশিল্প, কথা সাহিত্য ও চলচ্চিত্রে বাঙালি সংস্কৃতির নানা কৌণিক দিক প্রতিফলিত করার প্রয়াসে বেঙ্গল ফাউন্ডেশন এ সংস্কৃতি উৎসবের আয়োজন করছে বেঙ্গল ফাউন্ডেশন।
মঙ্গলবার (৩১ জানুয়ারী) দুপুরে সিলেটের জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে সর্ববৃহৎ আয়োজনের নানা দিক তুলে ধরে বেঙ্গল ফাউন্ডেশন।
সংবাদ সম্মেলনে সিলেটে সংস্কৃতি উৎসব আয়োজন নিয়ে কথা বলেন বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা ও জাতিসংঘে বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি ড. একেএ মোমেন, বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আবুল খায়ের ও মহাপরিচালক লুভা নাহিদ চৌধুরী এবং অভিনেতা শহিদুর রহমান সাচ্চু।
সংবাদ সম্মেলনে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. জয়নাল আবেদীন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো.শহিদুল ইসলাম চৌধুরী।
সংবাদ সম্মেলনের শেষের দিকে দুইটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। যাতে বেঙ্গল ফাউন্ডেশন সংক্রান্ত তথ্য ও সিলেটে সংস্কৃতি উৎসবের আয়োজন সংক্রান্ত তথ্য পরিবেশন করা হয়।
১০ দিনব্যাপী এ উৎসবে রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা, অদিতি মহসিন, চন্দনা মজুমদার, কুদ্দুস বয়াতী এবং জলেরগানসহ বাংলাদেশের ৩৮৩জন ও ভারত থেকে হৈমন্তী শুকলা, শ্রীকান্ত আচার্য্য, মনোময় ভট্টাচার্য, জয়তি চক্রবর্তী ও পার্বতী বাউলসহ আমন্ত্রিত অতিথি শিল্পীদের পরিবেশনাসহ থাকছে গান, আলোচনা, মঞ্চনাটক, প্রদর্শনী ও সাহিত্য সম্মেলন।
এছাড়া সাহিত্য সম্মেলনে বিশিষ্ট কথা সাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক, ইমদাদুল হক মিলন, শাহীন আখতার, হরিশংকর জলদাস, প্রাবন্ধিক অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালসহ বাংলাদেশের ৫০ জন কবি-সাহিত্যিক ও ভারতের প্রখ্যাত কথা সাহিত্যিক সমরেশ মজুমদার, প্রথিতযশা মঞ্চ অভিনেতা ও নির্দেশক শাওলি মিত্রসহ ২৩ জন প্রাবন্ধিক কবি সাহিত্যিক।
বেঙ্গল সংস্কৃতি উৎসব সিলেট ২০১৭ সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে এবং (www.bengalculturalfest.com) লগ ইন করে নাম, মোবাইল নাম্বার ও পরিচয়পত্র প্রদান করে বিনামূল্যে নিবন্ধন করার ব্যবস্থা থাকছে বলেও জানান আয়োজকরা।
সংবাদ সম্মেলনে জাতিসংঘে বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি ড. একে এ মোমেন বলেন, জাতির রুচি ও মনন গঠনের লক্ষ্যেই বেঙ্গল ফাউন্ডেশন সংস্কৃতি উৎসবকে ঢাকার বাইরে ছড়িয়ে দিচ্ছে। এই আয়োজন তরুণ প্রজন্ম সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ থেকে বেরিয়ে এসে প্রগতিশীল কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হতে সহায়তা করবে।
বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আবুল খায়ের বলেন, এই আয়োজনের মাধ্যমে বাঙালি ভাষা ও সংস্কৃতির মানুষের মধ্যে ভাবের আদান প্রদান হবে। সমৃদ্ধ হবে আমাদের সংস্কৃতি। একই সঙ্গে সিলেটের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি তুলে আনা হবে।
তিনি আরও বলেন, মানুষকে মানবিক করে তোলার জন্য আমরা ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এ রকম আয়োজন করছি। কারণ মানুষ মানবিক হলে কোনো রকম অপরাধে জড়াবে না।
বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক লুভা নাহিদ চৌধুরী জানান, এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য হচ্ছে এ অঞ্চলের তরুণদের শিল্প ও সংস্কৃতির প্রতি আকৃষ্ট করে তোলা। তাদের মননকে এর মাধ্যমে বিকশিত করা। আর এ জন্য অনুষ্ঠানে তরুণদের যাতায়াতের জন্য নির্দিষ্ট কয়েকটি স্থানে পরিবহন রাখা হবে। বিনামূল্যে গাড়িগুলো ব্যবহার করে অনুষ্ঠানে আসা যাওয়া করার সুযোগ পাবেন তরুণরা।

Share





Related News

Comments are Closed