স্পেনে বসবাসরত অনিয়মিত অভিবাসীদের জন্য বড় সুসংবাদ
প্রবাস ডেস্ক: স্পেনে বসবাসরত অনিয়মিত অভিবাসীদের জন্য বড় ধরনের সুসংবাদ নিয়ে আসছে ২০২৬ সালের নিয়মিতকরণ প্রকল্প। এই বিশেষ উদ্যোগের আওতায় যোগ্য অভিবাসীরা দেশটিতে আইনিভাবে বসবাস ও কাজ করার অধিকার পেতে যাচ্ছেন। তবে স্পেনে বৈধতা পাওয়ার এই প্রক্রিয়াটি ইউরোপের অন্যান্য দেশে বসবাসের ক্ষেত্রে কতটা সহায়ক হবে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।
স্পেনের এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো দেশটিতে থাকা অনিয়মিত জনশক্তিকে মূলধারার অর্থনীতিতে যুক্ত করা। এর অধীনে যোগ্য অভিবাসীরা যেসব সুবিধা পাবেন।
কাজের অনুমতি: যে কোনো খাতে আইনগতভাবে কাজ করার সুযোগ এবং সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নিবন্ধনের সুবিধা।
স্বাস্থ্যসেবা: স্পেনের সরকারি চিকিৎসা ব্যবস্থা বা ন্যাশনাল হেলথ সিস্টেমে প্রবেশাধিকার, যা একজন নিয়মিত নাগরিকের মতোই কার্যকর হবে।
ভ্রমণ সুবিধা: বৈধতা পাওয়ার পর শেঙেন এলাকার অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোতে ১৮০ দিনের মধ্যে ৯০ দিন পর্যন্ত পাসপোর্টবিহীন ভ্রমণের সুযোগ।
স্পেনের এই বিশেষ অনুমতি অভিবাসীদের কিছু আইনি সীমানার মধ্যেও রাখবে। এটি মূলত একটি ‘ন্যাশনাল পারমিট’, যা নিচের ক্ষেত্রগুলোতে কার্যকর হবে না।
১. অন্য দেশে কাজ: স্পেনের এই অনুমতি দিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অন্য কোনো সদস্য রাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস বা কাজ করা যাবে না।
২. অন্য দেশে স্বাস্থ্যসেবা: স্পেনের বাইরে অন্য দেশে চিকিৎসা নিলে তার খরচ স্পেন বহন করবে না এবং সেই দেশের সরকারি স্বাস্থ্যসেবাও বিনামূল্যে পাওয়া যাবে না।
৩. দীর্ঘমেয়াদি অবস্থান: অন্য কোনো ইইউ রাষ্ট্রে থাকতে হলে সেই দেশের নিজস্ব অভিবাসন আইন মেনে আলাদা আবেদন করতে হবে।
স্পেনের এই ঢালাও নিয়মিতকরণ কর্মসূচি নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভেতরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ফিনল্যান্ডের মতো দেশগুলো এই নীতির সমালোচনা করেছে।
তাদের মতে, এক দেশে বৈধতা পেয়ে অভিবাসীরা ‘গৌণ গতিশীলতা’ অন্য দেশে চলে যেতে পারেন, যা পুরো শেনজেন অঞ্চলের সীমান্ত ব্যবস্থায় চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তবে স্পেন সরকার বলছে, দেশটির কৃষি, পর্যটন এবং সেবা খাতের শ্রম ঘাটতি মেটাতে এবং বার্ধক্যজনিত জনতাত্ত্বিক সংকট সামাল দিতে এই কর্মশক্তিকে বৈধতা দেওয়া জরুরি। বিশেষ করে ল্যাটিন আমেরিকা এবং আফ্রিকার অভিবাসীরা যারা দীর্ঘদিন ধরে স্পেনে শ্রম দিচ্ছেন, তারাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।
শুধু স্পেন নয়, জার্মানি এবং ইতালিতেও একই ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। শ্রমিক সংকট কাটাতে ইতালি ২০২৬ থেকে ২০২৮ সালের মধ্যে ৫ লাখ অ-ইউরোপীয় নাগরিককে কাজের অনুমতি দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। অন্যদিকে জার্মানিও দক্ষ কর্মী ও কেয়ারগিভার নিয়োগে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।
Related News
মাদ্রিদে কোকোর স্মরণে টি-১৬ ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা সম্পন্ন
Manual8 Ad Code হোসাইন ইকবাল, স্পেন থেকে: স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদে স্পেন বিএনপির উদ্যোগে মরহুম আরাফাতRead More
কানাডায় সিলেটের তরুন উদ্যোক্তা শরীফ খুন, ২ জনের সাজা
Manual4 Ad Code প্রবাস ডেস্ক: কানাডার অন্টারিও প্রদেশের ওয়েন সাউন্ড শহরে সিলেটের তরুণ উদ্যোক্তা শরীফRead More



Comments are Closed