Main Menu

পৃথিবীর বাইরেও জীব-জীবন

খলিলুর রহমান: পৃথিবির বাইরে প্রানী, জীব ও জীবন আছে কি না, এ প্রশ্ন আজকের। তবে আছে,জ্বীন-ফেরেশতারা তো আছেই। এদেরও প্রাণ আছে, কর্মক্ষমতা আছে, ফেরেশতারা গ্রহে-গ্রহে ও গগনে-গগনে বিচরন করে থাকেন। ওরা আল্লাহর সৈনিক, আল্লাহর নির্দেশ ছাড়া এক চুল পরিমান নড়াচড়া নেই তাদের। ফেরেশতারা জ্যোতির্দেহী এবং এদের কোন লিঙ্গ নেই। ফেরেশতারাও আল্লাহর সৃষ্টি। এদের কোন জন্ম বা প্রজন্নন নেই। অন্যান্য প্রাণীর মত ওদের জন্ম-মৃত্যু নেই। তবে আল্লাহর নির্দেশে যখন সৃষ্টিকুল ধবংস হয়ে যাবে তখন ফেরেশতারাও থাকবে না। পবিত্র কোরআনের আয়াত “কুল­ু মান আলাইহা ফাান্, ওয়া ইয়্ক্বাা ওয়াজহু রাব্বিকা জুল্জালালি ওয়াল ই্ক্রাম” সূরা আল- রাহমান। আয়াতের ভাবার্থ ‘সৃষ্টির যা কিছু আছে সব ধবংস হবে, শুধু বাকি থাকবে পরাক্রমশালী আল্লাহর সত্তা’। এই আয়াত থেকে বুঝা যায় ফেরেশতারাও এক সময় ধবংস হয়ে যাবে। পরবর্তী আবার সৃষ্টির পুরুত্থান ঘটবে। তখন মানুষ ফেরেশতা সবকিছুরই পুনরুত্থান ঘটবে। আর জ্বীন আল্লাহর সৃষ্ট অগ্নিদেহী জীব। তাদের মধ্যে লিঙ্গ আছে, জন্ম ও প্রজনন ব্যবস্থা আছে।
এখানে একটি বিষয় প্রনিধানযোগ্য যে, আল্লাহ যেমন অসীম তার সকল গুনাবলীও অসীম। সৃষ্টি আল্লাহর একটি গুন এবং এই নিখিল জগৎ আল্লাহর সৃষ্টি নামের গুনেরই প্রকাশ। আল্লাহর গুনের যেমন কোন সীমাবদ্ধতা নেই, তাই তাঁর সৃষ্টিরও কোন সীমাবদ্ধতা নেই। আমাদের সসীম জ্ঞান দিয়ে আল্লাহর অসীম সৃষ্টির সবকিছু জানা বা বুঝার ক্ষমতা ও যোগ্যতা আমাদের নেই। কোথায় আল্লাহর কোন সৃষ্টি আছে না আছে, সেটা আমরা তালাশ করতে পারি মাত্র। হ্যা অথবা না বলার যোগ্যতা ও ক্ষমতা আমাদের নেই। তাই একমাত্র এই পৃথিবীতে আল্লাহর সৃষ্টি জীব ও জীবন সীমাবদ্ধ, সেটা বলা আদৌ ঠিক নয়। আল্লাহর সৃষ্টি এমনও জীবন থাকতে পারে যেটা আমাদের জ্ঞান ও জানার বাইরে। এই পৃথিবির বাইরে কোথাও জীব বা জীবন ও প্রাণি আছে কি না, সেটা আমরা শুধু জানার চেষ্টা করতে পারি, কিন্তু নেই, সেটা নিশ্চিত করে বলতে পারি না। হতে পারে আমাদের পৃথিবি নামক গ্রহের মত অসংখ্য গ্রহে আল্লাহর অসংখ্য সৃষ্টি প্রাণী বা জীবন থাকতে পারে। মাত্র ক’দিন আগের খবর ইন্দোনেশিয়ায় অতি নিচু হয়ে একটি শূন্যযান উড়ে গেল, যেটা পৃথিবির কোন যানই ছিল না। আমরা আজ মহাশূণ্য জয়ের অভিযান করছি, করছি তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা। উপগ্রহ চন্দ্র ও মঙ্গল গ্রহে অনেক আগেই পৌছে গেছি। আরো অন্যান্য গ্রহে যাওয়ারও পৌছার এবং বসবাসের চেষ্টা করছি। এই মহাকাশ ও মহাগগনে এমনও জগৎ বা জগতের বাসিন্দা থাকতে পারে যারা এই পৃথিবি নামক গ্রহ জয়েরও চেষ্টা করতে পারে।
পবিত্র কোরআনের সুরায়ে শূরা’র ২৯নং আয়াতে আছে ‘‘তার (আল্লাহর) কুদরতের নিদর্শনাবলীর অন্যতম আকাশ ও ভূমন্ডল সৃষ্টি, উভয়ের মধ্যকার জীব-জন্তুর সৃষ্টি, আর ইচ্ছা করলে তিনি তাদেরকে জমা করতে সক্ষম।” পবিত্র কোরআনের ১৬ নং সূরা আন-নাহল-এর ৪৮ নং আয়াতে বলা হয়েছে ‘‘তারা কি আল্লাহর সৃষ্টিকে দেখে না? যাদের ছায়া কখনো ডানে এবং কখনো বামে সেজদায় পতিত হয়ে আল্লাহর প্রতি বিনীত হয়।”
পবিত্র কোরআনের ১৬ নং সূরা’র ৪৯ নং আয়াতে বলা হয়েছে ‘‘আর আসমান জমীনের মধ্যে বিচরণশীল যত জীব-জন্তু আছে তারা সকলে আল্লাহকে সিজদা করে এবং ফেরেস্তারাও”।
মহাকাশ গবেষনা কেন্দ্র নাসা ১৯৯৬ সালের ৭ আগষ্ট মঙ্গলগ্রহে এমন জীবের সন্ধান পায় যেগুলো আনুবিক্ষণিক। এই আনুবিক্ষনিক জীবগুলো তিন মিলিয়নের (৩০ লাখেরও) বেশি বছর ধরে সেখানে টিকে রয়েছিল। এ থেকে প্রমাণ মিলে যে, এ মহাবিশ্বে আমরা আর একা নই। আরো অনেক সৃষ্টি বা জীবন আছে যা আমাদের জ্ঞান গরিমার বাইরে। পবিত্র কোরআনের আয়াত “ ওয়ামা ইয়া’লামু জুনূদা রাব্বিকা ইল­া হূ”। যার ভাবার্থ- “একমাত্র আল্লাহ ছাড়া তার বাহিনীর (সৃষ্টির) জ্ঞান আর কেউ রাখে না।”
তবে মানুষ যে আশরাফুল মাখলুক্বাত বা সৃষ্টির সেরা, সেই মানুষের উপর অন্য কোন সৃষ্টি প্রধান্য বিস্তার করতে পারবে না। সব সৃষ্টিই মানুষের কল্যানে, মানুষের মঙ্গলের জন্যে এবং মানুষ সৃস্টি আল্লাহর ইবাদতের (উপাসনার) জন্যে। ছবি: ইন্টারনেট।

Share





Related News

Comments are Closed