Main Menu

নেই ঘর-বাড়ি তবুও তিনি জননন্দিত ইউপি মেম্বার

ছনি চৌধুরী, নবীগঞ্জ হবিগঞ্জ থেকে : হবিগঞ্জের নবীগঞ্জের সংরক্ষিত মহিলা আসনে নিবার্চিত ইউপি সদস্য রোজিনা আক্তার জনপ্রিয়তা ও কাজের দক্ষতায় জনগনের বিপুল ভোটে নির্বাচিত হলেও আর্থিক অসংগতির কারণে নেই মাথা গুজার ঠাঁই বা কোন ভিটে বাড়ি।
তিনি অন্যের বাড়িতে ছোট্ট একটি ঘরে বসবাস করে মহিলা মেম্বার হয়ে জনতার কাছে ও নিজের কাছে প্রশ্ন বিদ্ধ। কারণ নেতৃত্ব দিতে গেলে নিজের অসহায়ত্ব দূর না করতে পারলে কাজ করা কি সম্ভব।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাস্তহীনদের তালিকা ভূক্ত করে সরকারী খরচে ঘর-বাড়ি বানিয়ে দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করেছেন। তাই প্রধানমন্ত্রীর এই প্রঙ্গাপনে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে সরকারী ভাবে ঘর-বাড়ির ব্যবস্থা করে দেওয়া জন্য আবেদন জানান রোজিনা বেগম।
জানা যায়, নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নং ওয়ার্ডের মহিলা মেম্বার রোজিনা আক্তারের কোন ভিটে মাটি না থাকায় তিনি দীর্ঘ ৩৬ বছর যাবৎ বনগাঁও গ্রামের মৃত খালিক মিয়ার একটি পরিত্যক্ত বাড়ির ছোট্ট একটি ঘরে বসবাস করে আসছেন। কিন্তু দারিদ্রতা তাকে হার মানাতে পারেনি। বরং তিনিই দারিদ্রতাকে হার মানিয়ে সাংসারিক জীবন থেকে শুরু করে সমাজ জীবনেও ছোট খাটো কাজ করে জনতার মন তিনি জয় করে নিয়েছেন। ফলে, যে মেম্বারের ঘরে নুন আনতে পানতা ফুড়ায় তাকেই এলাকার লোকজন মেম্বার পদে দাড় করিয়ে সাময়িক খরচের ব্যয় বার বহন করে বিপুল ভোটে বিজয়ী করে মেম্বার পদে নিযুক্ত করেছেন। বর্তমানে তিনি নির্বাচিত এলাকার জনতার কাজে টাকার অভাবে পায়ে হেটে গ্রাম গঞ্জে ঘুরে ঘুরে প্রতিদিনই ইউনিয়ন অফিসে হাজির হচ্ছেন।
তার বিচিত্র জীবন কাহিনীতে তিনি অন্যতম। হিন্দু ধর্মালম্বী মৌলভীবাজার জেলার গ্রাম শেরপুরের মৃত মন্দন ঠাকুর আচার্যীর কন্যা পদ্যা আচার্যী (বর্তমানে রোজিনা আক্তার)। তার স্বামী মৃত মোঃ মছদ্দর আলীর পুত্র শাহ মোঃ আব্দুল করিম এর সাথে ভালবাসার বন্ধনে আবব্ধ হয়ে হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহন করে নাম পরিবর্তন করে পদ্যা আচার্য্যের স্থলে রোজিনা আক্তার দিয়ে ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক অনুযায়ী তাদের বিবাহ হয়। বিয়ের পর তাদের ৩ পুত্র সন্তান ও ১ কন্যা সন্তান জন্ম গ্রহন করে। কয়েক বছর পর তার স্বামীর প্যারারাসেচ রোগে আক্রান্ত হয়ে পঙ্গু হয়ে পড়েন। স্বামী আর সংসারের বরণ পোষন করতে না পারায় স্ত্রী রোজিনা আক্তার মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে আয়ার কাজ করে অভাবের সংসার কোন রকম চালিয়ে যাচ্ছিলেন। এদিকে স্বামীর ঔষধ অপর দিক ছেলে মেয়েদের বরণ পোষন, ঘরে নুন আনতে পানতা ফুড়ায়। এর মধ্যে হঠাৎ স্বামী মারাও যান! এ যেন মরার উপর খরার গা।
এলাকার অনেকেই যাদের সাহায্য সহযোগীয় গত ২বার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৩ জনের সাথে প্রতিদন্ধিতা করে ২/১ ভোটের ব্যবধানে হারলেও পিছু হাটেননি তিনি। এবারের নির্বাচনেও তিনি ২জনের সঙ্গে প্রতিদন্ধিতা করেন। কিন্তু নির্বাচনী প্রচার-প্রচারনার জন্য প্রয়োজনীয় পোষ্টার, লিফল্যাট, ব্যানার, প্যাষ্টুন, মাইক, রিক্সা ও মানুষ বহন করার মতো নেই তার কোন অর্থকড়ি। পাড়া-প্রতিবেশী ও এলাকার লোকজনের সার্বিক সহযোগীতায় গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জনগনের দেয়া ১৭৩৮টি ভোট পেয়ে তিনি নির্বাচিত হন। কিন্তু নির্বাচিত হলেও তার নিজের নেই কোন বাড়িঘর বা সহায় সম্পত্তি।
প্রতিদিনই অফিসে যাওয়া আসা করতে খরচ লাগে প্রায় ১শত থেকে ১৫০টাকা। তা জোগাড় করতে না পারলেও এক দিনও বাদ দিচ্ছেন না অফিসে যাওয়া আসা। প্রায় ৫ কিলোমিটার রাস্তা পায়ে হেটেই অফিসে যাওয়া আসা করছেন তিনি।
গত রবিবার দুপুরে সরেজমিনে আউশকান্দি ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নং ওয়ার্ডের নির্বাচিত ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা সদস্যা রোজিনা আক্তারের বাড়িতে গিয়ে কথা হয় তার সাথে। তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আবাসন প্রকল্পের মাধ্যমে সরকারী ভূমিতে সরকার কর্তৃক ঘর-বাড়ি নির্মান করে দেওয়ার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্টদের প্রতি আকুল আবেদন জানান।
এ ব্যাপারে পাহাড়পুর গ্রামের মুরুব্বি নুর মিয়া, নান্টু দেবনাথ ও আগনি বিবি (৫০) এর সাথে কথা হলে তারা বলেন, রোজিনা মেম্বার একজন ভাল মানুষ, তিনি মানুষের সূখে, দুখে সব সময় পাশে থাকেন, তিনি খুবই কর্মীক মানুষ। কিন্তু দুখের বিষয় যে, তার নেই কোন নিজস্ব বাড়ি-ঘর। যদি সরকারের পক্ষ থেকে কোন সাহায্য সহযোগীর করা হতো হলে ভাল হতো।
এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ উপজেলা নিবার্হী অফিসার তাজিনা সারোয়ার এর সাথে বার বার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলেও উনাকে পাওয়া যায়নি। তবে, নবীগঞ্জ উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নাজমা বেগম এর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি আমার নারী উন্নয়ন ফোরাম সহ যতটুকু সাহায্য সহযোগীতা প্রয়োজন আমি করব। নবীগঞ্জ উপজেলা নারী উন্নয়ন সভায় এনিয়ে আমি আলোচনা করব।

Share





Related News

Comments are Closed