Main Menu

জৈন্তাপুরে পান-সুপারী ও জুম চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে খাসিয়ারা

মোঃ রেজওয়ান করিম সাব্বির, জৈন্তাপুর প্রতিনিধি: সিলেটের জৈন্তাপুরে পান সুপারী চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে ১৩টি খাসিয়া পরিবার। নিজের জীবন ও পান-সুপারী বাগান নিয়ে শংঙ্কা দিন দিন বেড়েই চলছে। তারা প্রশাসনের উর্ধ্বতন মহলের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।
সরেজমিন ঘুরে জৈন্তাপুর উপজেলার নিজপাট ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের অন্তগত সীমান্তবর্তী ১২৯২-১২৯৩ আন্তর্জাতিক পিলার সংলগ্ন ভিতরগোল গ্রামের ১৩টি খাসিয়া পরিবার সরকারের নিকট হতে প্রায় ৬৫ একর ভূমি বন্দোবস্ত নিয়ে প্রায় ২০ বৎসর যাবত নিবিড় পরিচর্ষার মাধ্যমে পান-সুপারী, কমলা-কাঠাল সহ বিভিন্ন সাইট্রাস ফলের বাগান সৃজন করে আসছে। স¤প্রতি বাগান গুলো এবং নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শংঙ্কা কাটছে না নিরিহ এই পরিবার গুলোর।
বাগানের মালিক অনুক খাসিয়া, মলয় খাশিয়া এবং অবসর প্রাপ্ত লামনীগ্রাম আদর্শ মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রবীন শিক্ষক প্রদীপ নাইয়াং এর সাথে আলাপকালে তারা জানান- আমরা শান্তি প্রিয় জনসাধারণ কারো সাথে ঝগড়া বিবাদ বা ফ্যাসাদ করতে রাজী নই। সরকারের নিকট হতে পতিত পাহাড়ী টিলা রকমের ৬৫ একর ভূমি বন্দোবস্ত নিয়ে প্রায় ২০ বৎসর যাবৎ নিবিড় পরিচর্ষার মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয় করে এক একটি বাগান সৃজন করেছি। স¤প্রতি এসব বাগান হতে যে ফলন পাচ্ছি তাতে বিনোয়োগের অর্থ উত্তোলন করতে আরও অন্তত ১৫ বৎসর সময় লাগবে। এর পর নিজের পরিবার পরিজন নিয়ে কোন মতে দিনানিপাত করছি। সব সময় মনকে সান্তনা দেই এই ভেবে নিজের একটি বাগান আছে। যা হতে কোন মতে পরিবার পরিজন নিয়ে দিন যাপন করতে পারব। স¤প্রতি আমাদের এই বাগান গুলো একটি মহলের নজর কাড়ে। তারা বিভিন্ন ভাবে বাগান গুলো ধ্বংস করে আমাদের বিতাড়িত করতে চেষ্টা করছে। চলতি বৎসরের অক্টোবর মাসে আমাদের বাগান মালিক মলয় খাসিয়ার বাগানে দৃর্বৃত্তরা প্রবেশ করে প্রায় ৫ শতাধিক পান গাছ কেটে ফেলে। এতে প্রাথমিক ভাবে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকার ক্ষতি সাধিত হয়েছে বলে প্রতিবেদককে জানান। এনিয়ে মলয় জৈন্তাপুর মডেল থানায় একজনের নাম উলে­াখ করে এবং অজ্ঞাত আরও কয়েক জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর হতে তিনি বা খাসিয়া পরিবার গুলো নানা ভাবে হয়রানীর শিকার হতে হচ্ছে। যার ফলশ্র“তিতে খাসিয়া স¤প্রদায়ের লোকজন জুম চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে এবং জৈন্তাপুর উপজেলা হতে ভারত, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার ও কিংবা দেশের অন্যান্য স্থানে চলে যাচ্ছে। বর্তমানে তাদের সৃজিত বাগান হতে বিভিন্ন মৌসুমে দুর্বৃত্তরা সুপারী, কাঠাল, আনারস সহ গাছ কেটে চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে। এরকম হতে থাকলে শান্তি প্রিয় খাসিয়ারা বাগান সৃজনে দুরহ ব্যাপার হয়ে দাঁড়াবে। বর্তমানে রোগ বালাইর সাথে যুদ্ধ করে যেখানে এক একটি বাগান সৃজিত হওয়ার পর দৃর্বৃত্ত¡দের থাবায় আমাদের সবকিছু ধংস হয়ে যায়। যার ফলে খাসিয়রা জুম চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে।
জুম চাষে সরকারী সুযোগ সুবিধা, আইন শৃংঙ্খলা বাহিনীর সহযোগীতা, নিরাপত্তার বিষয়টি ভাল ভাবে দেখা হলে অন্তত নিজের চাহিদা পুরনের পাশা-পাশি জৈন্তাপুরের জুম চাষ দেশের অর্থনীতিতে বিশেষ অবদান রাখতে পারবে এবং পতিত অনাবাদি জমিতে নতুন নতুন বাগান সৃজন হবে। বর্তমানে আমাদের এক একটি বাগানে মুসলিম স¤প্রদায়ের প্রায় ২০ হতে ২৫ জন করে শ্রমিক কাজ করছে। তারা মাসে সর্বনিম্ন ১০-১৫ হাজার টাকা করে উপার্জন সক্ষম হচ্ছে। তারা নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং বাগান রক্ষার জন্য সংশ্নিষ্ট বর্ডারগার্ড বাহিনী বিজিবি এবং পুলিশ বাহিনীর সহযোগিতা কামনা করেন।

Share





Related News

Comments are Closed