Main Menu

গরু-ঘোড়া চোরাকারবারীদের নিরাপদ রুট বারেকটিলা

তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) সংবাদদাতা: গরু-ঘোড়া, নাসির বিড়ি আর মাদক চোরাকারবারীদের দাপটে রাতের বেলায় ঘর থেকে বের হতে পারছে না সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের বড়গোপ,বারেকটিলা ও আনন্দপুরের আদিবাসী এবং বাঙ্গালী পরিবারের লোকজন।
বিগত কোরবানীর ঈদের আগে থেকেই ক্ষণবিরতি দিয়ে প্রায় রাতেই সীমান্তের ওপার থেকে ৫০ থেকে ৬০টি গরু, ৩০ থেকে ৪০টি ঘোড়া, শতশত কাটুন ভর্তি ভারতীয় মদ-বিয়ার ও নাসির বিড়ির চালান আসছে বিজিবির টহল দলের আশপাশ দিয়েই। অভিযোগ রয়েছে এসব চোরাকারবারীদের সাথে তাহিরপুরের চাঁনপুর বিওপির বিজিবির কিছু অসৎ সদসস্যের যোগসাজস রয়েছে। শুধু চাঁপুপুরেই নয়, সুনামগঞ্জ সীমান্তের লাউড়েরগড়, মাছিমপুর, চিনাকান্দি, বাঙ্গালভিটা, মাটিরাবনেও গত এক বছর ধরে চলছে গরু-ঘোড়া চোরাকারবারীদের দাপট।
সরেজমিনে বুধবার দুপুরে গণমাধ্যমকর্মীরা বারেক টিলায় গেলে উপজেলার বড়দল উত্তর ইউনিয়নের টিলায় বসবাসকারী একাধিক ব্যক্তি জানান, বারেকটিলা, বরগোপ টিলা, আনন্দপুর গ্রাম, বিজিবির আউট পোষ্টের পাশা দিয়ে ও জাদুকাঁটা নদী তীর ঘেষে প্রায় রাতেই কয়েকটি চোরাচালানী চক্র বিগত কোরবানীর ঈদের আগে থেকেই ভারতের মেঘালয় পাহাড়ের ওপারের চোরাকারবারীদের সহায়তায় গরু, ঘোড়া, মদ-বিয়ার ও শেখ নাসির বিড়ির চালান নিয়ে আসছে। এ কাজে ২৮-বর্ডারগার্ড ব্যাটালিয়নের চানঁপুর বিওপির বিজিবির কথিত আবু বক্কর ওরফে বাক্কারের সহযোগী সোর্স বড়গোপ টিলার রফিকুল টিলার ৪টি চোরাইঘাট নিয়ন্ত্রন ও চোরাই পথে আসা গরু, ঘোড়া, মদ-বিয়ার, নাসির বিড়ির চালান থেকে বিজিবির নামে (স্যাটেল) নির্ধারিত হারে চাঁদা আদায় করছে।
এদিকে সীমান্তবাসীর অভিযোগ, চোরাচালানে বিজিবির কিছু অসৎ সদস্য নিজেদের চোরাচালান প্রতিরোধে তৎপরতা দেখাতে গিয়ে মাঝে মাঝে চোরাচালানীদের দেয়া হালকা-পাতলা এক/দুটি গরু-ঘোড়া ,আর কিছু মদ-বিড়ির সিজার (জব্দ) দেখিয়ে উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষকে দিচ্ছে শুভঙ্করের ফাঁকি।’ বলা হয় গরু-ঘোড়া, বিড়ি-মদের ছোট ছোট চালান আটক হলেও বরাবরই নাকী চোরাচালানীরা সীমান্তের ওপারে দৌড়ে পালিয়ে যায়।’
এদিকে স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ পুরো টিলার ৪টি পয়েন্ট দিয়ে ওইসব চোরাচালানের অবাধ বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে বড়গোপ টিলার লাল মিয়া, মানিক, তাজুল ইসলাম, শফিকুল ইসলাম, ছিদ্দু মিয়া, শফিকুল ও গুটিলা গ্রামের গরু, ঘোড়া,মদ-বিয়ার ও বিড়ি চোরাকারবারী সুজন মিয়া।
এ চক্রের সাথে রাতে চোরাচালানে বিজিবির কিছু অসৎ সদস্যের পাশাপাশী তাদের ব্যক্তিগত লাঠিয়াল বাহিনী ও পরিবহন শ্রমিক (বারানী, পাইকার) সহ প্রায় শতাধিক লোক চলাচল করে। এ কারনে টিলার আদিবাসী ও বাঙ্গালীরা রাতে যে কোন প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হলেই রাস্তাঘাটে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ, দেহ, ব্যাগ, নদী থেকে ফেরা শ্রমিকের ভাতের বাসন কোসনও তল্লাশী করা হয়।
ছিদ্দু মিয়ার বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে, সে বলে আমি নিজেই গরু-ঘোড়ার ব্যবসা করি, রফিকুলের সাথে যোগাযোগ করলেই জানতে পারবেন কোন মালের জন্য কতটাকা সেটেল দিতে হয়।’ সে আরো বলে, এলাকার বাইরে গরু-ঘোড়া নিতে হলে বাদাঘাট বাজার থেকে ইজারাদারের কাগজ নিতে হবে, তাহলে পথে আর কোন ধরা-বান্দা (আটক করবে না) নাই।’
শফিকুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলে, না ভাই আমি ইন্ডিয়া থাইক্যা জাদুকাটা নদী দিয়া যে পাথর আয় (আসে) তা কেনা-বেচা করি।’ আমার নামে টিলায় মরম আলীর ছেলে শফিকুল গরু-ঘোড়ার ব্যবসা করে।’
শফিকুল ও আরজ আলী এ দু’জনেই জানায়, মাঝে মাঝে দু’চারটা গরু-ঘোড়া নামাই (ওপার থেকে নিয়ে আসি)।’ তারা আরো বলে টিলায় বিজিবির পক্ষ থেকে শফিকুল সেটেল তোলে আমরা তারে কিছু দেই আর কী।’
এদিকে সূজনের মুঠোফোনে বক্তব্য জানতে কল করা হলে গণমাধ্যমের পরিচয় পাওয়ার পর পরই সে বলে, এখানে সুজন নাই’ মোবাইল চার্জে দিয়া বর্ডারে (সীমান্তে) গেছে।’
লাল মিয়ার বক্তব্য জানতে বুধবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে, সে প্রথমেই বলে ‘না আমি এসব চোরাইকারবার করিনা, পরবর্তীতে বলে গত বছর কিছু দিন গরু-ঘোড়ার কারবার করছিলাম, রফিকুলের হাতে প্রতিটি গরুর জন্য দেড় হাজার টাকা ও ঘোড়ার জন্য দু’হাজার টাকা করে স্যাটেল দিয়েছি।’ সে রফিকুলের পক্ষে সাফাই গাইতে গিয়ে বলে রফিকুল লোক ভালো, মদ-বিয়ার বিড়ির চালানের সাথে তার কোন সম্পর্ক নাই, সে বলে যদি কেউ পারে বিজিবিকে ফাঁকি দিয়ে ওইসব নিয়ে যেতে নিয়া যাবে কিন্তু তার (রফিকুলের) নাম যেন কাউকে না বলে।’ সে আরো জানায়, লাউড়েরগড়ের এক ব্যবসায়ীর ১২টি গরু বুধবার রাতে ( ৯ নভেম্বর) নদীপথে আনার সময় ঘোমাঘাট বিএসএফর টহল দল আটক করে। ওই ব্যাপারে খোঁজ নিলেই মালিকের নামও জানা যাবে।’ চোরাচালান সংক্রান্ত পয়েন্ট গুলোর সম্পর্কে জানতে চাইলে সে আরো বলে, পুরা টিলা ও নদী সহ কড়ইগড়া, রাজাই, ছিন্তু ছড়া দিয়েও ওপার থেকে মালামাল আসে।’
বিজিবির কথিত সোর্স রফিকুল বলে, আমি বিজিবির সাথে চলাফেরা বাদ দিয়া দিছি, আগে চলতাম, এখন নদীতে কয়লা কিনি।’ ফের চোরাচালান প্রসঙ্গ’র বিষয়ে জানতে চাইলে সে প্রসঙ্গ এড়িয়ে গিয়ে বলে আমি গত বছর ভারতীয় কমলার কারবার (ব্যবসা) করতাম, বেশ টেকা-পয়সা (টাকা) মাইর খাইছি, এখন আমি গরু-ঘোড়ার স্যাটেল তুলিনা, এগুলা অহেতুক লোকজন বলাবলি করে।’
বিজিবির কথিত সোর্স বাক্কার নিজেই এ গণমাধ্যমকর্মীদের মুঠোফোনে কল করে জানায়, বিওপিতে টিলার বিষয়ে ফোন না করার জন্য।’ এ নিয়ে পরে এই সাংবাদিকদের সাথে যোগাযোগ করবে বলেও জানায় বাক্কার।’
সুনামগঞ্জ-২৮ বর্ডারগার্ড ব্যাটালিয়নের ট্যাকেরঘাট কোম্পানীর চাঁনপুর বিওপির বিজিবির ক্যাম্প কমান্ডারের বক্তব্য জানতে সরকারি মুঠোফোনে বুধবার দুপুরে যোগাযোগ করা হলে, তিনি গণমাধ্যমকে নিজের নাম প্রকাশ করতে অনিহা প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, বাক্কার হল একটা বদমাইশ, তার চলাফেরা ভাল না, সে বিজিবির কোন সোর্স না। তিনি আরো বলেন, রফিকুলকে আমি চিনিনা, সেও একটা মাতাল।’

Share





Related News

Comments are Closed