Main Menu

ওসিকে ঘুস না দেওয়ায় পঙ্গু রুবেলের ওপর চাঁদাবাজি মামলা

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: রুবেল আহমদ, পঙ্গু অসহায় যুবক। প্লাস্টিকের কৃত্রিম পায়ে ভর করে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে এসেছেন সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে। সঙ্গে ছোটবোন এমসি কলেজের ছাত্রী রুনা আক্তার ইমা। সন্ত্রাসীরা কুপিয়ে তার বাম পা পঙ্গু করে দিয়েছে। সিলেট কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুহেল আহমদকে দাবিকৃত ঘুস ৩০ হাজার টাকা না দিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের শরনাপন্ন হয়ে তার ওপর হামলার মামলা রেকর্ড করেছেন। সে কারণেই ওসি সুহেল ক্ষিপ্ত হয়ে তারই মামলার আসামিদের বাদি ও সাক্ষী বানিয়ে রুবেলের বিরুদ্ধে দুটি সাজানো চাঁদাবাজি মামলা দিয়ে হয়রানি করছেন। একে তো পঙ্গু পায়ের যন্ত্রণা তার ওপর মিথ্যা মামলার হয়রানিতে তিনি এখন অসহায় থেকে আরও অসহায়।
মঙ্গলবার দুপুরে সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে কান্নাজড়িত ধরা কণ্ঠে অশ্রæসিক্ত চোখে রুবেল এ অভিযোগ করেন। নগরীর শেখঘাটের কলাপাড়া দুর্বার ৭১/১ নম্বর বাসার বাসিন্দা মৃত আলা উদ্দিনের ছেলে রুবেল।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, ঘাসিটুলা এলাকার মোস্তফা, সফিক মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ আফতাব ও রকিবরা তাদের সহযোগীদের নিয়ে এলাকায় নানা অসামাজিক কার্যকলাপ করে আসছিলেন। তাকে এলাকার লোকজন অনুরোধ করেছিলেন- এসব অপকর্ম সম্পর্কে পুলিশকে অবগত করতে। বিগত ২০১৫ সালে আমি পুলিশকে আফতাব ও মোস্তফার অপকর্মের খবর জানাই। পুলিশ এসে আসাব আলীর বাসা থেকে পতিতাসহ চারজনকে আটক করে । মোস্তফা ও রকিব পালিয়ে যান। এতে তার ওপর ওই চক্রটি ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। গত বছরের ৪ অক্টোবর রাত সাড়ে ১১ টায় ঘাসিটুলায় কবরস্থান রোডে তারা তার ওপর হামলা চালায়। ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করে। রুবেলের বাম পা কুপিয়ে পঙ্গু করে দেয়। এ ঘটনায় প্রথমে সিলেট কোতোয়ালি থানার ওসি সুহেল আহমদ রুবেলের মামলা নিতে চাননি, তিনি তার কাছে তিন দিন ঘুরিয়ে ৩০ হাজার টাকা ঘুস চান। রুবেল ঘুস না দিয়ে মেডিকেল রিপোর্টসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে গিয়ে ঘটনা খুলে বলেন। তখন ওসি মামলা নিতে বাধ্য হন। এতে ওসি সুহেল রুবেলের ওপর ক্ষিপ্ত হন। আসামিদের তিনি শেল্টার দেওয়া শুরু করেন।
rubel-pic2রুবেল আরও জানান, তার মামলার আসামিরা তাকে ফাঁসানোর ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে মিথ্যা মামলার আশ্রয় নেয়। তারা পর পর দুটি চাঁদাবাজি মামলা করে। একটির বাদি রকিব। যে তার মামলার আসামি। অপর সাজানো চাঁদাবাজি মামলার সাক্ষী আসাব আলী, যে রুবেলের মামলার আসামি। তারা তার হামলার মামলা থেকে রেহাই পেতে মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলা করে। মামলার এজাহারে বলা হয়, রুবেল চাঁদার জন্য তাদের ওপর আক্রমণ করে। অথচ রুবেল একজন শারীরিক পঙ্গু মানুষ। তারপরও পিবিআই পুলিশ একটি মামলা যাছাই না করেই ওসি সুহেলের ইশারায় ও টাকার বিনিময়ে তাকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দিয়েছে। অপর মামলাটি এসআই বেনু চন্দ্র তদন্ত করছেন। রুবেল মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য পুলিশের উচ্চপদস্ত কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে রুবেল অভিযোগ করেন, তার ওপর হামলার মামলার চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ। সেই চার্জশিটে তার মামলার এজাহারভুক্ত আসামি আরমান ও সোলেমানকে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ওসি সুহেল চার্জশিট থেকে অব্যাহতি দেন। এদিকে, বর্তমানে স্থানীয় কাউন্সিলর সালেহ আহমদ নির্যাতিত পঙ্গু মানুষের পাশে না দাঁড়িয়ে, উল্টো তার প্রতিপক্ষ সন্ত্রাসীদের শেল্টার দিচ্ছেন। মামলার আসামিরা রুবেলের কলেজ পড়–য়া ছোট বোনকে কলেজে যাওয়া-আসায় উত্যক্ত করে আসছে।

Share





Related News

Comments are Closed