Main Menu

ডা. আশরাফ হত্যা : ৩৫ দিনেও গ্রেফতার নেই

হাবিব সরোয়ার আজাদ, সুনামগঞ্জ থেকে: সুনামগঞ্জের তাহিরপুর সীমান্ত এলাকা থেকে এক চিকিৎসকের লাশ উদ্ধারের ৩৫দিন পেরিয়ে গেলেও তার মৃত্যুর কারন বা এ ঘটনায় জড়িত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি থানা পুলিশ।
উল্ল্যেখ্য গত ১৩ আগষ্ট নিখোঁজ হওয়ার দুদিন পর ১৫ আগষ্ট থানা পুলিশ উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের লামাকাঁটা গ্রামের মৃত মৌলভী আবদুল হাই’র ছেলে ডাঃ আশরাফ উদ্দিন (৫৫)’র লাশ গ্রামের পার্শ্ববর্তী একটি ডোবা থেকে উদ্ধার করা হয়। ১৫ আগষ্ট রাতে এ ব্যাপারে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা ডায়রীভুক্ত করে।
এদিকে লাশ উদ্ধারের পর পরই নিহত ডা. আশরাফ উদ্দিনের পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসীর সন্দেহ চিকিৎসার কথা বলে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করে লাশ গুম করার অপচেষ্টা করা হয়েছে। এ নিয়ে গত ৩৫দিন ধরেই থানা পুলিশকে সুনির্দিস্ট তথ্য এমনকি বারবার ধর্না দিয়েও নিহতের পরিবারের লোকজন পুলিশী সহযোগীতা পাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে গিয়ে নিহতের পরিবারের লোকজন ও স্থানীয় আশে পাশের কয়েক গ্রামের একাধিক ব্যক্তির সাথে আলাপকালে জানা যায়, ডা. আশরাফের লাশ উদ্ধারের পর লামাকাঁটা গ্রামের প্রতিবেশী একটি পরিবার সহ সুন্দরবন গ্রামের অপর একটি পরিবারের বেশ ক’জন পুরুষ বাড়ির মহিলা সহ রহস্যজনক কারনে ঘরবাড়ি ছেড়ে বাড়িতে তালা ঝুঁলিয়ে আত্বগোপনে চলে গেছে।
এদিকে থানা পুলিশের অসহযোগীতা ও তদন্তে অনাগ্রহ প্রকাশ পেলে নিহত চিকিৎসকের ছেলে এনামুল হক গত ৩০ আগষ্ট সুনামগঞ্জ চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে সাত জনের নাম উল্ল্যেখ করে অজ্ঞাতনামা আরো ৪ থেকে অভিযুক্ত করে একটি এজাহার দাখিল করেন। আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে তাহিরপুর থানার ওসিকে এজাহারটি রেকর্ড করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা প্রদান করেন।
এরপর গত ১৪ সেপ্টেম্বর থানায় মামলাটি হত্যা মামলা হিসাবে রেকর্ডভুক্ত করা হয়। তাহিরপুর থানায় মামলা নং-০৭/ ধারা ৩০২/২০১/ ৩৪ দ:বি:। মামলায় এজাহার ভূক্ত আসামীরা হল, উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের সুন্দরবন গ্রামের মৃত হাছেন আলীর ছেলে নুরুল ইসলাম, তার স্ত্রী সাহেরা খাতুন, লামাকাঁটা গ্রামের মৃত আবদুল মজিদের ছেলে সিরাজ মিয়া, তার ছেলে জালাল মিয়া, আল আমিন, ছানু মিয়া, ফুল মিয়া।
এদিকে সম্প্রতি সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার সুন্দরবন গ্রামের নুরুল ইসলামের ঘরটি তালাবদ্ধ। একই গ্রামের বীরমুক্তিযোদ্ধা সোহরাব মিয়া জানান, চিকিৎসকের লাশ উদ্ধারের পরপরই নুরুল ইসলাম অস্বাভাবিক আচরণ করতে থাকে এমনকি হঠাৎ করে সে তার স্ত্রীকে নিয়ে গ্রাম ছেড়ে উধাও হয়ে যায়।
pic-tahirpur-dead-dr-1নিহত চিকিৎসক আশরাফের ছেলে এনামুল জানান, তার বাবা ভাগীতে ১০টি গরু পালন করার জন্য দিয়েছিলেন নুরুল ইসলামকে। নিখোঁজের রাতে নুরুল ইসলাম তার বাড়িতে চিকিৎসার কথা বলে প্রতিবেশী জালালের সহযোগীতায় তার বাবাকে ডেকে নিয়ে যায়। নিখোঁজের বেশ কিছু দিন আগে গরু ভাগীদারের টাকার লেনদেন নিয়ে তার বাবার সাথে ঝগড়াও হয়। এরই জের ধরে নুরুল ইসলাম ও তাদের প্রতিবেশী একটি পরিবারের লোকজন পরিকল্পিত ভাবে চিকিৎসক আশরাফ উদ্দিনকে ডেকে নিয়ে হত্যা করে লাশ গুম করার অপচেষ্টা করে লাশ ডোবায় ফেলে দেয় বলে পরিবারের লোকজনের সন্দেহ হয়।
লামাকাঁটা গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি ছাবেদ আলী, শাবির শিক্ষার্থী হোসেন মিয়া সহ একাধিক ব্যক্তি জানান, শুধু নুরুল ইসলামের পরিবার নয় ঐ চিকিৎসকের লাশ উদ্ধারের পর প্রতিবেশী জালালও তার বাবা ও ভাইদের নিয়ে রহস্যজনক কারনে আত্নগোপনে চলে যায়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মুহিত মিয়া জানান, মামলার তদন্ত কাজ অব্যাহত রয়েছে।
তাহিরপুর থানার ওসি মো. শহীদুল্লার নিকট রবিবার মুঠোফোনে মামলার তদন্তের অগ্রগতি ও বাদী পক্ষের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, থানা পুলিশের অসহযোগীতার বিষয়ে বাদী পক্ষের অভিযোগ সঠিক নয়, পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেফতারে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

Share





Related News

Comments are Closed