Main Menu

ছাত‌কের ৩ যুবককে কাশ্মীরে নেওয়ার পর নিখোঁজ, মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ

ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি: ভারতের কাশ্মীরে ভালো বেতনে কাজ দেওয়ার কথা বলে সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার তিন যুবককে ভারতে নিয়ে যাওয়ার পর তাঁদের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে তাঁদের আটকে রেখে পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন নিখোঁজ এক যুবকের মা। এ ঘটনায় ছাতক থানায় অভিযোগের পর সুনামগঞ্জ জেলা লিগ্যাল এইড অফিসেও লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

নিখোঁজ তিন যুবক হলেন—ছাতক উপজেলার সৈদেরগাঁও গ্রামের মৃত মনোহর আলীর ছেলে সোহেল মিয়া, একই গ্রামের মৃত রুসমত আলীর ছেলে আয়াছ আলী এবং জালিয়ারপাড় গ্রামের আনছার আলীর ছেলে আলা উদ্দিন। তাঁরা সবাই দিনমজুর হিসেবে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।

নিখোঁজ সোহেল মিয়ার মা মোছা. সামতেরা বেগমের অভিযোগ, একই গ্রামের বাসিন্দা ফারুক মিয়া ও তাঁর ছেলে ফাহিম পূর্বপরিচয়ের সূত্র ধরে তাঁর ছেলে সোহেলসহ তিন যুবককে ভারতের কাশ্মীরে ভালো বেতনে কাজ দেওয়ার প্রস্তাব দেন। তাঁদের কথায় বিশ্বাস করে গত ২৮ জুলাই তিন যুবক বাড়ি থেকে ভারতের উদ্দেশে রওনা হন।

সামতেরা বেগমের দাবি, ভারতে পৌঁছানোর পর প্রথমদিকে তিন যুবকের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের যোগাযোগ ছিল। তাঁরা ফোনে পরিবারের সঙ্গে কথা বলতেন। তবে কিছুদিন পর হঠাৎ তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর পরিবারে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দেয়।

লিখিত অভিযোগে সামতেরা বেগম উল্লেখ করেন, ঘটনার প্রায় এক সপ্তাহ পর ফারুক মিয়া ও তাঁর ছেলে ফাহিমের পক্ষ থেকে স্বজনদের জানানো হয় যে, তিন যুবক ভারতে কারাগারে রয়েছেন। তাঁদের মুক্ত করতে প্রথমে ৩০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। পরে স্বজনরা ১৫ হাজার টাকা দেওয়ার পরও আরও ৪০ হাজার টাকা চাওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

একপর্যায়ে তিন যুবকের মুক্তির জন্য ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ করেন সামতেরা বেগম। টাকা না দিলে তাঁদের হত্যা বা ক্ষতি করার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও তাঁর অভিযোগ।

সামতেরা বেগম বলেন, “আমার ছেলেসহ তিনজনকে কোথায় রাখা হয়েছে, কী অবস্থায় আছে—আমরা কিছুই জানি না। তাঁদের আটকে রেখে টাকা দাবি করা হচ্ছে বলে আমাদের আশঙ্কা। আমরা প্রশাসনের কাছে তাঁদের দ্রুত উদ্ধার করে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানাচ্ছি।”

তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে তিনি ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা করে সহযোগিতা চেয়েছেন। স্থানীয় সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলনের সঙ্গেও দেখা করে তিন যুবককে উদ্ধারে সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি।

এ ঘটনায় গত মাসের শেষ দিকে ছাতক থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়। পরে গত ৭ সেপ্টেম্বর সুনামগঞ্জ জেলা লিগ্যাল এইড অফিসেও লিখিত অভিযোগ দেন সামতেরা বেগম।

তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ফারুক মিয়া বলেন, তাঁর ছেলে ফাহিম বর্তমানে ভারতে রয়েছে। তবে তিনিও বর্তমানে ফাহিমের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না বলে দাবি করেন। তিন যুবকের সঙ্গে কী ঘটেছে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানেন না বলেও জানান।

ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) ঝলক মোহন্ত বলেন, তিন যুবককে কাজের উদ্দেশ্যে ভারতে নিয়ে যাওয়া এবং সেখানে আটকে রেখে টাকা দাবি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্তের জন্য একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।

এদিকে নিখোঁজ তিন যুবকের পরিবারের সদস্যরা তাঁদের অবস্থান নিশ্চিত করে দ্রুত উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের প্রকৃত অবস্থান, ভারতে কীভাবে প্রবেশ করেছেন এবং তাঁদের সঙ্গে কী ঘটেছে—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

Share





Related News

Comments are Closed