Main Menu

ফাতেমার হিন্দু থেকে মুসলিম হওয়ার কাহিনী

জাহিদ উদ্দিন, গোলাপগঞ্জ থেকে: জামিল ও প্রিয়াঙ্কা। একজন হিন্দু অপরজন মুসলিম। প্রিয়াঙ্কা রানী গোলাপগঞ্জ উপজেলার ফুলবাড়ি ইউনিয়নের দক্ষিণভাগ গ্রামের সদয় রাম দাশের ছোট মেয়ে। সিলেটের মদন মোহন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ ৩য় বর্ষের ছাত্রী। জামিল আহমদ জকিগঞ্জ উপজেলার মানিকপুর ইউনিয়নের সিরাজপুর গ্রামের মৃত কুতুব উদ্দিনের ছেলে। পেশায় রং ও টাইলস মিস্ত্রি। জামিল ও প্রিয়াঙ্কা তাদের কেউ কাউকে চিনতো না। রং নাম্বারের মাধ্যমে প্রথম পরিচয় তাদের। মোবাইলে আলাপের মাধ্যমে তাদের মধ্যে ধীরে ধীরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। প্রেম মানে না জাত ধর্ম। দুই ধর্মের দুই জন। তাতে কী? টানা চার মাস চলে তাদের মন দেয়া-নেয়া। গভীর হতে থাকে তাদের প্রেম। প্রেমের টানে জামিল জকিগঞ্জ থেকে প্রিয়াঙ্কার সাথে দেখা করতে আসতো। এক পর্যায়ে তারা সিদ্ধান্ত নেয় প্রেমকে পাকাপোক্ত করার। এজন্য সিদ্ধান্ত নেয় বিয়ের। যেই ভাবনা সেই কাজ।
গত ২৮ আগস্ট রবিবার কলেজে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয় প্রিয়াঙ্কা জামিলকে বিয়ে করবে বলে।
জামিলের হাত ধরে সে চলে আসে সিলেট নগরীর টিলাগড়ে। সেখানে জামিলের খালার বাসায় আশ্রয় নেয়। জামিলকে বিয়ে করতে সিদ্ধান্ত নেয় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করবে। পরে সে ৩০ আগস্ট সিলেটের আদালতে এফিডেভিটের মাধ্যমে ইসলামের ছায়া তলে আশ্রয় গ্রহণ করে। প্রিয়াংকা থেকে হয়ে যায় ফাতেমা। সেদিন জামিল ও ফাতেমা পবিত্র বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। জামিল ফাতেমাকে ২ লক্ষ টাকার মোহরানা দিয়ে বিয়ে করে । তখন এই প্রেমিক যুগলের আইনজীবী ছিলেন এডভোকেট মুহিবুর রহমান।
এদিকে প্রিয়াঙ্কা ওরফে ফাতেমার পিতা সদয় রাম দাশ মেয়েকে অনেক স্থানে খোঁজাখুঁজি করে না পেলে ৪ সেপ্টেম্বর গোলাপগঞ্জ মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। মডেল থানা পুলিশ প্রিয়াঙ্কা ও জামিলের মোবাইল নাম্বার নিয়ে অনুসন্ধানে নামে। অনুসন্ধানের এক পর্যায়ে জামিলের খালার বাসা থেকে তাদের আটক করে নিয়ে আসা হয় গোলাপগঞ্জ থানায়। উভয়ের বাড়িতে খবর দেওয়া হলে জামিল ও প্রিয়াঙ্কার পরিবারের লোকজন ছুটে আসে গোলাপগঞ্জ থানায়। প্রিয়াঙ্কার পরিবারের লোকজন অনেক অনুনয় বিনয় করে তাকে বাড়ি ফেরার জন্য। কিন্তু প্রিয়াঙ্কা নাছোড়বান্দা। সে বাড়ি ফিরবে না, ইসলামের ছায়া তলে সারাজীবন কাটাতে চায়। সে ইসলামকে ছাড়বেই না, জামিলকেও ছাড়তে রাজি নয়।
গোলাপগঞ্জ মডেল থানার ওসি একে এম ফজলুল হক শিবলী তাদেরকে পৃথকভাবে জিজ্ঞেসও করেছিলেন একসাথে থাকতে চায় কিনা তারা। তাদের দু’জনের একই উত্তর। আমরা প্রাপ্ত বয়স্ক। বৈধভাবে আমরা বিবাহ করেছি। পৃথক হওয়ার প্রশ্নই আসেনা। এমনকি ফাতেমাকে জোরপূর্বক পিতার সঙ্গে দিলে সে আত্মহত্যারও হুমকি দেয়। প্রায় ৪ ঘন্টা ব্যাপী চলে তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ। তাদের এই প্রেমে সবাই হতবাক। এক পর্যায়ে থানার ওসি ফাতেমাকে জামিলের জিম্মায় ছেড়ে দেন। প্রেমের টানে ফাতেমার এত বড় ত্যাগ । এ নিয়ে উপজেলা জুড়ে তুলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

Share





Related News

Comments are Closed