Main Menu

শেষ দিনে সিলেটে কমে গেল গরুর দাম

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: গত কয়েকদিন যারা বেশি লাভের আশায় গরু বিক্রি করেননি, সেসব গৃহস্থ, খামারি, ব্যবসায়ী এবং বেপারীরা এখন হতাশ।
শেষ সময়ে বেশি দাম হাকানোর আশায় গরু ছাড়ছিলেন না ব্যবসায়ীরা। কিন্তু সোমবার দুপুরের পর থেকে গরুর দাম কিছুটা কমে যেতে শুরু করে। আর সন্ধ্যার পর থেকেই হঠাৎ করেই কমে যেতে শুরু করে গরুর দাম।
নগরীর কাজিরবাজার, কয়েদির মাঠ, শাহী ইদগাহ খেলার মাঠ, কুমারপাড়া, বালুচর, লাক্কাতুরা, কদমতলী ও আখালিয়া গরুর বাজারসহ নগরীর বিভিন্ন গরুর হাট থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, সোমবার সন্ধ্যার পর থেকেই গরুর দাম কমতে শুরু করে। এবার কোরবানির হাটে শুরুর দিকে সীমান্ত দিয়ে গরু আসা বন্ধ থাকায় দেশি গরুর চাহিদা বাড়ে। তবে দাম বেশি হওয়ায় অনেকেই অপেক্ষা করতে থাকেন পরবর্তীতে কেনার জন্য।
গত ৩/৪দিন বাজারে প্রচুর গরু উঠলেও দাম ছিল বেশি। ছোট ও মাঝারী সাইজের একেকটি দেশি গরু ৪০-৬০ হাজার টাকা ও বড় সাইজের গরু এক দেড় লাখ টাকার উপরে বিক্রি হয়েছে।
সূত্র জানায়, গত তিনদিন ধরে সীমান্ত দিয়ে প্রচুর ভারতীয় গরু বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন জেলাগুলোর হাট ছেঁয়ে গেছে ভারতীয় গরুতে। তবুও গরুর দাম ছাড়ছিল না ব্যবসায়ীরা। তারা অভিযোগ করে বলছিলেন, ঘাটে ঘাটে চাঁদা দিতে গিয়ে গরুর দাম বেশি রাখতে হচ্ছে। সোমবার দুপুর পর্যন্ত ব্যবসায়ীরা তাদের সিদ্ধান্তে অটল থেকে দাম কমাতে অপারগতা প্রকাশ করেন। কিন্তু এ সিদ্ধান্তে গরু অবিক্রিত থাকার শঙ্কা দেখা দিলে সন্ধ্যার পর হঠাৎ করেই গরুর দাম কমতে শুরু করে।
সোমবার রাত ৮টার দিকে নগরীর শাহী ইদগাহ এলাকার সদর উপজেলার খেলার মাঠের গরুর হাটে ব্যবসায়ী আব্দুল খালিক বলেন, এ বছর কোরবানির ঈদে বিক্রির জন্য ১৭টি গরু লালন-পালন করছিলাম। সাতটি গরু ইতিমধ্যে স্থানীয় বিভিন্ন হাটে ভালো দামে বিক্রি হয়েছে। কিন্তু আরো দামের আশায় দুইদিন আগে এই হাটে গরু নিয়ে এসে আরো চারটি গরু ভালো দামে বিক্রি করি। কিন্তু আজ সন্ধার পরে হঠাৎ পড়ে গিয়েছে গরুর দাম। আর দাম কমে যাওয়ায় লোকসান দিয়ে বাকি গরুগুলো বিক্রি করতে হবে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন শেষ দিকে হাটে ভারতীয় গরুর সরবরাহ বাড়ায় এই সর্বনাশটা হয়ে গেল।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাজার কমিটির এক সদস্য বলেন, বিক্রেতাদেরও দোষ আছে। ৮০ হাজার টাকার গরু দেড় দুই লাখ টাকা চেয়েছে। ফলে বাজার ক্রেতাশূন্য হয়ে গেছে। তারা অন্য হাটে গেছে। এখন কম দামে তো বিক্রি করতেই হবে। তিনি বলেন আমাদের এখানে ২০/২৫টি ভারতীয় গরু এসেছে।
হাটে আসা ক্রেতা মো. জাকারিয়া বলেন, রোববার যে গরুর দাম চাওয়া হয়েছিল এক লাখ ৮০ হাজার টাকা। সেই সাইজের গরু আজ কিনেছি শুধু ৯০ হাজার টাকায়।
এদিকে, সোমবার সন্ধ্যের পর থেকে দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া ও রাত সোয়া ১০টায় শুরু হয়েছে মূষলধারে বৃস্টি। এ কারনেও বাজারে ক্রেতা সমাগম কমে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা দাম ছাড়তে শুরু করে।

Share





Related News

Comments are Closed